বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা দিবসের মাঝে অতিথি অধ্যাপকদের অনশন বিক্ষোভ

101

রায়গঞ্জ: ২০১৫ সালে আজকের দিনে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। আজ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একদিকে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠা দিবস, অন্যদিকে অনুষ্ঠান মঞ্চের পিছনে অর্থাৎ উপাচার্যের কক্ষের সামনে রিলে অনশন চালিয়ে গেলেন অতিথি অধ্যাপকেরা।

জানা গিয়েছে, গত তিনদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪জন অতিথি অধ্যাপক স্যাক্টের দাবিতে রিলে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিন অনুষ্ঠান চলাকালীন আন্দোলনরত অধ্যাপক ও অধ্যাপিকারা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ধরনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে ক্ষোভ উগরে দেন এবং স্যাক্টের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনরত অধ্যাপকদের দাবি, তাদের দাবির প্রতি কর্তৃপক্ষ সহানুভূতি না দেখিয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে মেতেছে। প্রবল শীতের মধ্যে তাঁরা যখন আন্দোলন করছে সেখানে তাদের আন্দোলনকে মানবিকভাবে সমর্থন না জানিয়ে উৎসব করছেন। এদিন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁরা স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি দাবি মানা না পর্যন্ত রিলে অনশনে অনড় থাকার কথা জানান।

- Advertisement -

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কর্মচারীদের ৩ তারিখেও বেতন না মেলায় ক্ষোভ উগরে দেন। আন্দোলনরত অধ্যাপকদের পক্ষে অধ্যাপক রাগিব আলি মিন হাজ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস আমাদের গর্বের ও আনন্দের দিন। কারণ রায়গঞ্জের মতো একটি শহরে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে গর্ববোধ করি। কিন্তু ২৪জন শিক্ষক যখন কনকনে ঠান্ডার মধ্যে  বসে আছেন তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ আনন্দে মেতেছেন, এটা সত্যি দু:খের। আজ শুধু ফ্লাগ হোস্টিংয়ের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা যেত। কিন্তু তা না করে অত্যন্ত অমানবিকভাবে আনন্দে মেতেছেন। এটা কি মেনে নিতে পারি?  যারা করছেন তাঁরাই বা কিভাবে করছেন। এটাই আমাদের প্রশ্ন। আবেগ বলে মানুষের কাছে কিছুই নেই। মানবিকতা কি সবই শেষ হয়ে গেল।‘ তিনি আরও বলেন, ‘আজ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী নিয়ে আমাদের পর্যন্ত জানায়নি। গতকাল উপাচার্য্য কলকাতায় যাওয়ার আগে বলে গিয়েছেন, আমাদের দাবি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অনশন চলবে।‘

অন্যদিকে, বিজ্ঞান বিভাগের ডিন কালিশংকর তেওয়ারি বলেন, ‘আজকের দিনটা আমাদের কাছে গর্বের দিন। কারণ ২০১৫ সালে আজকের দিনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। অর্থাৎ রায়গঞ্জ কলেজ, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। তাই এইদিনটি ছাত্র-শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী মিলে সেলিব্রেট করছি। আন্দোলনরত অধ্যাপকদের দাবি, নিয়ে আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি। উপাচার্য্য বিশেষভাবে চেষ্টা করছেন। তিনি কলকাতায় গিয়েছেন এবং বিকাশ ভবনের আধিকারিকদের কাছে বিষয়টি বলবেন। সহকর্মীদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি আছে। শিক্ষা দপ্তর থেকে কোনও বার্তা আসলেই আমরা জানিয়ে দেব। শীঘ্রই যাতে তাদের সমস্যার সমাধান হয় তার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, বেতন আমাদের ট্রেজারিতে জমা পড়েছে। ট্রেজারিতে প্রেসার থাকার জন্য কোনো সময় দেরি হয়। আশা করি আজ অথবা কালের মধ্যে বেতন ঢুকে যাবে।‘