ভারতীয় কৃষকদের তুলে নিয়ে গেল বাংলাদেশের জওয়ানরা

361

মুর্শিদাবাদ: একদিকে ভারত-চিন নিয়ে সীমান্তে লাদাখ চাপানউতোর। ঠিক সেই সময় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের চরে চাষ করতে যাওয়া দুই ভারতীয় কৃষককে অপহরণের অভিযোগ উঠল বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীদের (বিজিবি) বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মুর্শিদাবাদের রানীনগর থানায় ঘটনাটি ঘটেছে। বিএসএফ সূত্রে খবর, অন্যদের সঙ্গে চরে চাষ করতে গিয়েছিল রানীনগরের লালকুপ গ্রামের নয়ন শেখ (২৬) এবং সাহিদুল সেখ (৪৪)। বাকিরা ফিরে এলেও তাঁরা ফিরে আসেননি। তাদেঁর সঙ্গে থাকা কৃষকদের থেকে জানা গিয়েছে, ওই দুজনকে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীরা কিছু না বলেই অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছে।

- Advertisement -

ওই কৃষকরা আরও জানান, বৃহস্পতিবার কয়েকজন কৃষক আর্ন্তজাতিক সীমান্তের পিলার নম্বর ৭২/১০/এস রাজশাহী খাসমহল গ্রাম, যা রানীনগর থানার অর্ন্তগত সেখানে কাজ করছিলেন। বেলা ১২টা ৩০ নাগাদ কয়েকজন বাংলাদেশী জওয়ান টহল দিতে আসে এলাকায়। সেখানকার সীমান্ত একেবারে খোলা। সেই সময়ে ওই দুজনকে সেখান থেকে বিজিবি তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ।

এক কৃষক জুলফিকার আলি বলেন, রোজকার মত আমরা নিজেদের নাম বামনাবাদ বর্ডার আউটপোস্টের ৩ নম্বর পয়েন্টে লিখিয়ে দিয়ে চরে কাজে যাই। নয়ন এবং সাহিদুলও আমাদের সঙ্গে গিয়েছিল। তাঁরা আমাদের থেকে একটু দূরে জমিতে কীটনাশক দেবার কাজ করছিল।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সীমান্ত সেখান থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু হঠাৎ কয়েকজন বাংলাদেশী বন্ধুকধারী জওয়ান এসে তাঁদের তুলে নিয়ে চলে যায়। তাঁদের সাইকেল, কীটনাশকের মেশিন সহ আরও বেশ কিছু জিনিস নিয়ে চলে যায়। আমরা কোনও কিছু বোঝার আগেই তাঁদের নিয়ে চলে যায় তাঁরা।

তাঁর অভিযোগ, আমরা এর আগে বেশ কয়েকবার বিএসএফকে জানিয়েছি ওই এলাকার সীমান্ত চিহ্নিত করে দেবার জন্য। কিন্তু আমাদের এই কথা কোনও আধিকারিক শোনেননি। যার ফলস্বরূপ আমাদের দুই জন সঙ্গীকে বিজিবি নিয়ে চলে গেল।

দক্ষিণবঙ্গ বর্ডার ফোর্সের আধিকারিক এস.এস.গুলারিযা বলেন, এলাকাটি আমাদের ১১৭ নম্বর ব্যাটালিযানের মধ্যে পড়ে। ওই এলাকাায় সব সময় আমাদের জওয়ানরা প্রহরারত অবস্থায় থাকেন। কিন্তু কিভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। দুই ভারতীয় কৃষককে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলছি।

এই ঘটনা নিয়ে বিএসএফের অফিসাররা বিজিবির কমান্ডিং অফিসারদের সঙ্গে কথা বলছেন। উল্লেখ্য, গত বছর অগাস্ট মাসে কোচবিহারের কুচলিবাড়ি সীমান্তের কাছে ভারতীয় কৃষক জগবন্ধু রায়কে অপহরণ করেছিল বিজিবি। পরে অবশ্য দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আলোচনার পর ওই কৃষক ছেড়ে দেয় বাংলাদেশ।