হলদিবাড়িতে আন্তর্জাতিক রেল পরিষেবাকেই নির্বাচনি ইস্যুর তৃণমূলের

100

অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি: উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রাচীন স্টেশন শহর হলদিবাড়িতে আন্তর্জাতিক রেল পরিষেবাকেই নির্বাচনি ইস্যু করার পরিকল্পনা করছে শাসকদল তৃণমূল। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক রেল পরিষেবা চালু করতে রেলমন্ত্রকের উদ্যোগে একাধিক প্রকল্পের কাজ করা হয়েছে হলদিবাড়ি স্টেশনকে ঘিরে। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রেলপথে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ২৬ মার্চ এনজেপি-ঢাকার মধ্যে এই রেল পরিষেবা চালু হবে। দুপুর দুটো নাগাদ নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ছেড়ে হলদিবাড়ি সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশের চিলাহাটি, সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, ঈশ্বরদি, টাঙাইল হয়ে ট্রেনটি রাত ১১টা নাগাদ পৌঁছোবে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে। ঠিক হয়েছে ট্রেনটি এই রুটের মাঝপথে কোন স্টেশনে স্টপেজ দিবে না। বিষয়টি সামনে আসতেই ইতিমধ্যেই হলদিবাড়ি ও জলপাইগুড়ি স্টেশনের দাবিতে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছে এলাকার সমস্ত পাসপোর্টধারীরা। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে চাপে ফেলতে বিষয়টিকে ভোটের ইস্যু করে প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল।

দীর্ঘ প্রায় পাঁচদশক পর স্মৃতির সরণী বেয়ে হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রুটে ট্রেনের চাকা গড়াবে। পূর্ববঙ্গে পিতৃপুরুষের ভিটে ছিল এমন কয়েক লক্ষ মানুষ বর্তমানে উত্তরবঙ্গে বসবাস করেন, যাঁদের পাশপোর্ট ভিসা করার পর চ্যাংরাবান্ধা অথবা ফুলবাড়ি হয়ে কাস্টমস, ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে নাকানি চোবানি খেয়ে বাংলাদেশে যাতায়াত করতে হয়। তাই ট্রেনে চেপে সোজা বাংলাদেশে পৌঁছনোর উদ্দেশ্যে এই রুটটি পুনরায় চালুর জন্য বহু আন্দোলনে সামিল হয় হলদিবাড়ি ও জলপাইগুড়ির মানুষ। তৃণমূলের হলদিবাড়ি ব্লক কমিটির সভাপতি অমিতাভ বিশ্বাস বলেন, ‘পুনরায় এই রুটে ট্রেন চালুর দাবিতে যেসব মানুষ আন্দোলন করলেন। রেলের স্টপেজ না দেওয়ার সিদ্ধান্তে সেই সব মানুষদের বঞ্চিত করা হবে। রেল নিয়ে বারবার বঞ্চনা করছে মোদি সরকার। পণ্যবাহী ট্রেনের জন্য প্রস্তাবিত হলদিবাড়ির রেক পয়েন্টটি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ যদিও জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্তকুমার রায় বলেন, ‘বঞ্চনার অভিযোগ ঠিক না। ধীরে ধীরে রেলের সব পরিষেবা চালু করা হবে।’

- Advertisement -

এদিকে গত রবিবার বাংলাদেশের চিলাহাটি স্টেশনে ট্রেনটির স্টপেজের ঘোষণা করেন। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ জাতীয় দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে রেলপথমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন স্টপেজের পাশাপাশি প্রস্তাবিত ট্রেনটির ভাড়া ঘোষণা করেন। সে ক্ষেত্রে তাদের জন্য কয়েকটি বগি নির্ধারণ করা থাকবে। কেবল নিউ জলপাইগুড়ি থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারবে তাঁরা। জানা গিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশের নয়া এই রুটের যাত্রী ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে ২৭০০ টাকা। যার মধ্যে ৫০০ টাকা ট্রাভেন ট্যাক্স। অন্যদিকে,  চিলাহাটি থেকে নিউজলপাইগুড়ি অবধি রেল ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে ৭০০ টাকা। এক্ষেত্রেও ৫০০ টাকা ট্রাভেল ট্যাক্স রয়েছে।

পাসপোর্টধারীদের মধ্যে বক্সিগঞ্জের বাসিন্দা সামসের আলী বলেন, ‘জলপাইগুড়ি ও হলদিবাড়ি সহ বাংলাদেশের চিলাহাটি থেকে ঢাকার মাঝে কয়েকটি স্টপেজ চালু করতে হবে। তা নাহলে যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হবে। জলপাইগুড়ি ও হলদিবাড়ি সহ উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রচুর আত্মীয়ের বাড়ি রয়েছে চিলাহাটি থেকে ঢাকার মাঝে। তানাহলে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ট্রেন থেকে নেমে পুনরায় উলটো দিকে আসতে হবে।’

ট্রেন পরিষেবা সম্পর্কে যুব তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মানস রায় বসুনিয়া বলেন, ‘কেন্দ্রের বিজেপি সরকার রেল নিয়ে জলপাইগুড়ি ও হলদিবাড়ির মানুষকে ভাওতা দিচ্ছে। হলদিবাড়িতে আন্তর্জাতিক মানের স্টেশন তৈরি করেও পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’