সৌরভ রায়, কুশমণ্ডি : রাজ্য সরকার রাজ্যের প্রতিটি জেলার বিভিন্ন উদ্বাস্তু কলোনির পাশে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করলেও সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে কুশমণ্ডির সূর্যমণি কলোনি। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ কলোনির বাসিন্দারা।

রাজ্য সরকার গত ২৩ ডিসেম্বর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। ওই বিজ্ঞপ্তি অনুয়াযী রাজ্যের ১১৯টি উদ্বাস্তু কলোনির প্রায় সাড়ে ১১ হাজার পরিবারের হাতে জমির দলিল তুলে দেওয়ার কথা। ওই পরিবারগুলিকে জমির মালিকানা দেবে সরকার। এই তালিকায় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ছয়টি কলোনি যুক্ত হয়েছে। কিন্তু বাদ পড়ে গিয়েছে কুশমণ্ডি ব্লকের সূর্যমণি কলোনি। কুশমণ্ডি থেকে ঊষাহরণ যাওয়ার রাস্তায় ওই কলোনিতে বাস করে প্রায় ২৫টি আদিবাসী পরিবার। কলোনির বাসিন্দাদের কেউ বাঁশের পাতার বেড়া, কেউ বা পাটকাঠির বেড়া দিয়ে কোনওমতে ঘর তুলেছেন। মাথায় শতছিদ্র পলিথিনের ছাউনি। মূল রাস্তা থেকে প্রায় চার ফুট নীচে আবাদি জমির সমান্তরাল প্রত্যেকের ঘর। বর্ষায় জল ঢুকে পড়ে ঘরের ভিতর। ছাদ দিয়ে জল চুঁইয়ে পড়ে বিছানায়। সূর্যমণি কলোনির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কলোনির বাসিন্দাদের পাকা ঘর তৈরি করে দেওয়ার জন্য তাঁরা বিডিওর কাছে লিখিত আবেদন জানাবেন।

- Advertisement -

সেই অবস্থাতেই দিন কাটান লক্ষ্মীরাম মার্ডি, কালুমণি মার্ডি, রানি হেমরম, ফুলমণি মার্ডি, বচন সরেন, গণেশ সরেন, বয়লা সরেন, লক্ষণ মার্ডি, দেবী বেসরা, আরতি হেমরম সহ প্রায় ২৫টি পরিবারের লোকজন। স্থানীয় বাসিন্দা মুকুন্দ সরকার বলেন, সূর্যমণি কলোনির বয়স প্রায় ৩৫ বছর। জমিহীন মানুষগুলো রাস্তার ধারে জমির মধ্যে কোনওরকমে মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করে কাটিয়ে যাচ্ছেন বছরের পর বছর। কেউই সূর্যমণি কলোনির কথা মাথায় রাখেন না। লক্ষ্মীরাম মার্ডি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আমাদের কলোনি সরকারের নজরেই পড়েনি। কারণ, স্থানীয় প্রশাসন হয়তো মনে করে আমরা বেশ সুখেই আছি। সকাল হলেই দেবী বেসরা, আরতি হেমরমরা বেরিয়ে পড়েন পরের বাড়ি কাজ করতে। কাজ না করলে দুবেলা খাবার জুটবে না। সন্ধেয় বাড়ি ফিরে কেরোসিন তেলের কুপি জ্বালিয়ে আলোকিত করেন নিজেদের ছোট্ট বেড়ার ঘর। কলোনির বাসিন্দারা বলেন, সরকার অন্য কলোনির মতন তাঁদেরও সহায়তার জন্য ওই প্রকল্পে যুক্ত করুক। কারণ, তাঁরা উদ্বাস্তু না হলেও সম্পূর্ণ ভূমিহীন।

এ প্রসঙ্গে কুশমণ্ডি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুনন্দা বিশ্বাস বলেন, সূর্যমণি কলোনির বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছিল। কিন্তু ওই কলোনিটি কেন বাদ পড়ল জানি না। কুশমণ্ডির বিডিও শৈপা লামা বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। অতিরিক্ত জেলাশাসক তথা জেলা ভূমি ও ভমিসংস্কার আধিকারিক প্রণব ঘোষ বলেন, রাজ্য সরকার শুধুমাত্র উদ্বাস্তু কলোনির জন্যই এবার পরিকল্পনা নিয়েছে। কুশমণ্ডির এই কলোনির কথা আমার জানা নেই। তবে ওই কলোনির বাসিন্দারা যদি সরকারের ভেস্ট জমিতে বসবাস করেন, তাহলে অবশ্যই খোঁজ নিয়ে তাঁদের পাট্টা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আর তা না হলে ওই ভূমিহীন পরিবারগুলিকে রাজ্য সরকারের ভেস্ট জমিতে নিয়ে এসে জমির কাগজ দেওয়া যেতে পারে। পরবর্তীতে নতুন করে কলোনি তৈরি করে দেওয়ারও পরিকল্পনাও নিতে পারে প্রশাসন। তবে এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে আগে উদ্যোগী হতে হবে।