করোনা আবহে বদল হাট ব্যবসায়ীদের জীবনযাত্রা

133

আলিপুরদুয়ার: করোনা আবহে সরকারি বিধিনিষেধে সকাল ৭টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত বাজার খোলা। যার জন্য ভোরবেলায় মাল পত্র গুটিয়ে হাটের পথে ছোটেন ব্যবসায়ীরা। তাই ওই সময়ের মধ্যেই যতটুকু ব্যবসা করা যায়, সেই চিন্তাতেই মগ্ন তাঁরা। শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মারোয়ারি পট্টির বাসিন্দা কাপড় ব্যবসায়ী অর্জুন দাস। শহরে কোনও দোকান নেই, ব্যবসা চলে বিভিন্ন হাটে হাটে। শামুকতলা থেকে মথুরা, দমনপুর থেকে শালকুমারহাট সবজায়গাতেই দোকান বসাতেন তিনি। এই হাট থেকে বাড়ি, বাড়ি থেকে হাট এই জীবন যাত্রায় অনেক ফারাক হয়ে গিয়েছে অর্জুনের মত অনেক ব্যবসায়ীর।

আলিপুরদুয়ার জেলায় হাট নিয়ন্ত্রণ করে জেলা পরিষদ এবং পঞ্চায়েত সমিতি। জেলা পরিষদের আওতাধীন রয়েছে ১৭টি হাট। ৬টি পঞ্চায়েত সমিতির আওতায় রয়েছে আরও ৫০টির বেশি হাট এবং বাজার। করোনা আবহের আগে এই হাটগুলোতে সকালবেলা চলত পাইকারি বাজার। যেখানে স্থানীয় কৃষকরা তাদের কাঁচামাল নিয়ে আসত। ধান, পাট সহ বিভিন্ন সামগ্রী বেচা কেনা চলত সকালে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাটে বাড়ত ছোট দোকান এবং খদ্দেরদের ভিড়। যেটা চলত রাত পর্যন্ত। তবে বিভিন্ন বিধিনিষেধে এই গোটা পক্রিয়া কয়েক ঘণ্টার হাটে এসে আবদ্ধ হয়েছে। খুব ভোরে শুরু হয়ে হাট বন্ধ হচ্ছে সকাল ১১টার মধ্যে। অনেক গ্রামের ভিতরে আবার বিকেলেও খুলছে ছোট বাজার। এটাই বিশাল বদল আনছে ব্যবসায়ী সহ সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রায়।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার হাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক কমল দেবনাথ বলেন, ‘হাটের ব্যবসায়ীদের জীবন অনেকটা বদলে গিয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা সারাদিন দোকান খোলা রাখছেন। হাটের ব্যবসায়ীদের ছুটতে হচ্ছে ভোর বেলা। তাও একটু বেলা বাড়তেই হাট বন্ধ। শুধু কাঁচামাল, মাছ ব্যবসায়ীরা কিছুটা টিকে আছে। বাকি অন্যান্য হাট ব্যবসায়ীদের অবস্থা খুবই খারাপ। পুঁজি ভেঙে সংসার চালাচ্ছেন অনেকে। হাটের বড় দোকান কেউ খুলতে পারছে না, কারণ এত কর্মচারী নিয়ে সীমিত সময়ের জন্য দোকান করলে লোকসানই হবে। স্থায়ী দোকানের মত হাটও যদি বিকেল পর্যন্ত খোলার অনুমতি পাওয়া যেত তাহলেও অনেকটা সুবিধা হত।’