ধরলা নদীতে পাকা সেতুর দাবিতে সরব স্থানীয়রা

235

হেলাপাকড়ি: ভোট আসে ভোট যায়। মিলে শুধুই প্রতিশ্রুতি। কিন্তু ধরলা নদীতে পাকাসেতু হয় না। যা নিয়ে ভোটের আগে ক্ষোভে ফুঁসছেন মাধবডাঙ্গা-১ ও ২ গ্রামপঞ্চায়েতের তালগুড়ি এলাকার বাসিন্দারা। পাকাসেতুর দাবিতে এবার বিধানসভার ভোট বয়কটের চিন্তা ভাবনাও শুরু করেছেন তাঁরা। দুই গ্রামপঞ্চায়েতের সংযোগকারী জেলাপরিষদ নিয়ন্ত্রণাধীন ওই রাস্তায় তালগুড়ি ঘাটে ধরলা নদীতে পাকাসেতুর দাবি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের। এনিয়ে বহু আন্দোলনও হয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী, জেলাপরিষদের সভাধিপতি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, বিধায়ক, বিডিও সকলের কাছে লিখিত আবেদন করেও কোন লাভ হয়নি বলে অভিযোগ। তাই ভোটের আগে ধরলা নদীর উপর পাকাসেতু তৈরির দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার মানুষ। তালগুড়ি ঘাটে পাকাসেতুর দাবিতে ইতিমধ্যে কমিটিও গঠিত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নিজেদের উদ্যোগেই ধরলা নদীতে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন গ্রামবাসীরা। তা দিয়েই কোনরকমে দুই পরের যোগাযোগ রক্ষা হয়। কিন্তু বর্ষায় জলের চাপে সাঁকো উধাও হয়ে যায়। তখন দুই অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দাকে সমস্যায় পড়তে হয়। কারণ এই রাস্তা দিয়ে দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে বাসিন্দাদের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া বিকল্প রাস্তায় গন্তব্যে পৌঁছতে হলে অতিরিক্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিক্রম করতে হয়। তাই এখানে পাকাসেতু তৈরির দাবি এলাকাবাসীর।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামল রায় বলেন, ‘দুই পাড়ের বাসিন্দারা প্রতিবার বর্ষার আগে নিজেরাই বাঁশের সাঁকো তৈরি করি। কিন্তু বর্ষায় নদীতে জল বাড়লে সাঁকো ভেসে যায়। তখন দুই পরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে দারুন সমস্যা পোয়াতে হয়।’

আরেক বাসিন্দা হরিমন রায় বলেন, ‘এখানে পাকাসেতু তৈরি করার আশ্বাস মিলেছে। এবার বর্ষার আগেই কাজ শুরু করার কথা শুনা গিয়েছিল। মাঝে মাপযোগও করা হয়। কিন্তু বর্ষা পেরিয়ে গেলেও কাজ শুরু হয়নি।’

পাকাসেতু না থাকায় এলাকার কৃষকদেরও সমস্যায় পড়তে হয়। স্থানীয় কৃষক দীপু রায় বলেন, ‘কৃষি প্রধান এলাকা এটি। পাকাসেতু না থামায় এই রাস্তা দিয়ে বড় কোন যানবাহন চলাচল করতে পারে না। কৃষিপন্ন হাটে নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়তে হয়। ঘুরে পথে নিয়ে যেতে বহন খরচ অনেক বেশি পরে যায়।’

সাঁকো পেরিয়ে স্কুল কলেজে যাতায়াতে সমস্যায় পড়েন এলাকার ছাত্রছাত্রীরাও। এলাকার ছাত্র রাহুল রায় বলেন, ‘ভয়ে ভয়ে বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করতে হয়। অন্য সময় জল কম থাকলে পায়ে হেঁটে নদী পার হওয়া যায়। কিন্তু বর্ষায় তা সম্ভব হয় না। তখন বাধ্য হয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুর পথে স্কুলে যেতে হয়।’

তালগুড়ি ঘাটে পাকাসেতু তৈরির দাবিতে দলমত নির্বিশেষে একটি কমিটিও গঠিত হয়েছে। কমিটির সভাপতি হরেরাম রায় বলেন, এখানে পাকাসেতু হলে শুধুমাত্র এই দুই অঞ্চলই নয়, পার্শবর্তী আরও কয়েকটি অঞ্চলের মানুষের সুবিধা হবে। তাই সেতুর দাবি আদায়ে দলমত নির্বিশেষে এই কমিটি গঠন হয়েছে।’ কমিটির সম্পাদক গৌরাঙ্গ শর্মা বলেন, ‘পাকাসেতুর দাবিতে আগামী দিনে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। দ্রুত সেতু তৈরির কাজ শুরু না হলে কমিটির তরফে আন্দোলন শুরু করা হবে। দ্রুত এই দাবি পূরণ না হলে বিধানসভার ভোট বয়কট করারও পরিকল্পনা চলছে।’

ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শিবম রায়বসুনিয়া বলেন, ‘তালগুড়ি ঘাটে ধরলা নদীতে পাকাসেতু না থাকায় অনেক মানুষের সমস্যা হয়। গ্রামবাসীদের তরফে পাকাসেতুর দাবি জানানো হয়েছে।’ রাস্তা ও সেতু একসঙ্গে দুটোরই কাজ শুরু করার পরিকল্পনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলাপরিষদ সদস্যা উর্মিলা রায় জানিয়েছেন।