গঙ্গায় দেহ, আতঙ্কে আর্সেনিকমুক্ত জল পান বন্ধ করলেন এলাকাবাসী

149

সেনাউল হক, বৈষ্ণবনগর: গঙ্গায় মৃতদেহ ভেসে থাকার খবরে আর্সেনিকমুক্ত জল পান করা বন্ধ করেছেন কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগর এলাকার অনেকেই। ফলে আর্সেনিকযুক্ত টিউবওয়েলের জল পান করছেন অনেকে। চিকিৎসকদের মতে টিউবওয়েলের জল খেলে আর্সেনিক রোগ আবার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবিষয়ে প্রশাসনের কোনও তৎপরতা নেই বলে জানা গিয়েছে। আর্সেনিক প্ল্যান্টের কর্মীরা জানান, কয়েকদিন আর্সেনিক মুক্ত জল বন্ধ রাখা হয়েছিল। তারপর সোমবার থেকে যথারীতি বিশুদ্ধ করে জল ছাড়া হচ্ছে। তাদের কাছেও জল ছাড়া বা জল বন্ধ করে দেওয়ার সরকারিভাবে কোনও নির্দেশ আসেনি।

করোনায় মৃত দেহ সৎকার না করে গঙ্গার জলে ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বিরুদ্ধে। এমনকি গঙ্গায় প্রচুর মৃতদেহ ভেসে থাকতে দেখা গিয়েছে। যদিও এবিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন করোনায় মৃত ব্যক্তির দেহ গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়া যাবে না। তার আগেই গঙ্গায় মৃতদেহ দেখে রাজ্য সরকার নড়েচড়ে বসেন। মালদা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে গঙ্গা নদী। ফলে গঙ্গার তীরবর্তী এলাকার মানুষদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গঙ্গার জল ব্যবহার না করার জন্য। এমনকি গঙ্গার তীরবর্তী এলাকাগুলিতে পুলিশের পাহারা চলছে।

- Advertisement -

এরইমধ্যে গঙ্গার মৃতদেহ দেখে আর্সেনিক মুক্ত পানীয় জল খাওয়া বন্ধ করেছেন বৈষ্ণবনগর এলাকার মানুষজন। কারণ আর্সেনিক প্ল্যান্টগুলিতে গঙ্গা থেকে জল তুলে তারপর বিশুদ্ধ করে সেই জল ছাড়া হয়। পাইপ লাইনের মধ্য দিয়ে গ্রামের মানুষের কাছে সেই জল পৌঁছে যায়। কালিয়াচকের তিনটি ব্লকই আর্সেনিক প্রবণ এলাকা। এই এলাকার ভূগর্ভস্থ জলে প্রচুর পরিমাণে আর্সেনিক রয়েছে। আর্সেনিকযুক্ত জল খেয়ে হাজার হাজার মানুষ আর্সেনিক রোগে আক্রান্ত হন। সরকারিভাবে আর্সেনিক মুক্ত জল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সেই উদ্দেশে বৈষ্ণবনগরের ১৬ মাইল এলাকার দরিয়াপুরে একটি আর্সেনিক প্ল্যান্ট বসানো হয়।

অপরদিকে কালিয়াচকের রাজনগর এলাকায় আরেকটি আর্সেনিক প্ল্যান্ট বসানো হয়। আর্সেনিক প্ল্যান্ট বসলেও এখনও বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পাইপলাইন পৌঁছে দেওয়া হয়নি। তার ফলে অনেকেই আর্সেনিক মুক্ত জল পাচ্ছেন না। ফলে সম্পূর্ণভাবে আর্সেনিক রোগমুক্ত করা যায়নি এই তিন ব্লকে। যেহেতু গঙ্গার জল বিশুদ্ধ করেই আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। তাই এলাকার মানুষজন ভাবতে শুরু করেছে আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল খেলেই করোনায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকতে পারে। এলাকার মানুষজন আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল পান করা বন্ধ করেছেন।

কালিয়াচক-৩ নম্বর ব্লকের বিডিও মামুন আখতার বলেন, ‘এই প্রসঙ্গে সরকারিভাবে কোনও নির্দেশ আমাদের কাছে এসে পৌঁছোয়নি। যেহেতু সরকারিভাবে কোনও নির্দেশ আসেনি। তাই আর্সেনিক মুক্ত জল এখনও আমি ও আমার স্টাফরাও  ব্যবহার করছেন।’

কালিয়াচক-১ নম্বর ব্লকের বিডিও সেলিম হাবিব সরদার বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত বড় শহর রয়েছে। সেই শহরে গঙ্গা থেকে জল তুলে বিশুদ্ধ করার পরে সকলে পান করেন। কলকাতাতেও সেরকমই দেখা যায়। তাছাড়া গঙ্গাতে এখনই মৃতদেহ ভাসছে তা নয়। আগে থেকেই গঙ্গায় মৃতদেহ ভাসত, সেটা আমরা দেখেছি। তাছাড়া বর্ষার সময় তো গঙ্গার জল ঘোলা হয়ে যায়। বন্যা হলে অনেক গবাদিপশু গঙ্গায় ভেসে যায়। তারপরেও তো গঙ্গার থেকে বিশুদ্ধ করার জল আমরা পান করেছি। তাছাড়া এখনও আমি আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জলের ব্যবহার করছি। তাতে কোনও অসুবিধা এখনও পর্যন্ত হয়নি। তবে আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল পান করা যাবে কিনা এবিষয়ে আমাদের কাছে কোনও নির্দেশ আসেনি। তাই আমরা সেই জলই পান করছি। তবে আমরা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করছি।’