লকডাউনের সুবিধা আনলকে ভেস্তে যাবে, মত বিশেষজ্ঞদের

593
আনলক পর্বে শহর কলকাতা (ছবি: রাজীব মণ্ডল)

নয়াদিল্লি: করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লকডাউনের সুবিধা আনলক পর্বে হারিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছেন, সুরক্ষা বিধি অমান্য করলে গ্রামাঞ্চলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

হায়দরাবাদের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ভি রমন ধারা বলেন, আনলক হওয়ার পর চিরাচরিত সামাজিক অভ্যেস ফিরে আসবে, এটাই স্বাভাবিক। এর ফলে শারীরিক দূরত্ব বলে কিছু থাকবে না, আর নীচুমানের মুখোশ ব্যবহার সংক্রমণ রুখতে তেমন কার্যকর হবে না। এই জন্য দ্রুত সংক্রমণ ছড়িযে পড়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

- Advertisement -

তাঁর মতে, ভিন রাজ্য থেকে ঘরে ফেরা শ্রমিকদের ওপর নজর রাখার পাশাপাশি তাঁদের যত্নও নিতে হবে। তাঁদের মধ্যে কেউ সংক্রামিত হয়ে থাকলে, তাঁর থেকে যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে স্থানীয় প্রশাসন ও অধিবাসীদের। তবে পরিতাপের বিষয়, এখনও গ্রামীণ ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পর্যাপ্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই।

তিনি আরও বলেন, করোনা মোকাবিলায় লকডাউন ও আনলক করার বিষয়ে বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট, এই ধরনের সংক্রমণ রোখার পরিকাঠামো প্রায় কারওরই নেই। দুর্বল জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামোর জন্যই করোনার প্রাদুর্ভাব ভারতে ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে কবে নাগাদ ভারতে করোনা সংক্রমণ শীর্ষবিন্দু ছুঁতে পারে, তা নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বিশেষজ্ঞ রমন ধারার মতে, পূর্বাভাস দেওয়া মুশকিল। শিখর পেরিয়ে আসার পরই সেটা বলা সম্ভব। তবে করোনা ঠেকানোর ক্ষেত্রে প্রথমদিকে সরকার গড়িমসি করেছিল। এখন তৎপরতা দেখাচ্ছে, এটা ভালো।

করোনা চিকিৎসা সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের অকুপেশনাল হেলথ ক্লিনিকের প্রাক্তন মেডিকেল ডিরেক্টর রমন ধারার পরামর্শ, যেসব জায়গায় সংক্রমণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছিল, সেসব জায়গায় আবার সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। তাই এক্ষেত্রে লক্ষণভিত্তিক নজরদারি ও চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। পরীক্ষা, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা ভালোভাবে হলে মৃত্যু হার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব বলে তাঁর দাবি।

ধারার আরও বক্তব্য, এই ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে হলে বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষার ওপর ভারতকে জোর দিতে হবে। দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ নীরজ গুপ্তের মতে, গোটা বিশ্বে দেখা যাচ্ছে, যে গতিতে করোনা ছড়াচ্ছে, তার চেয়ে দ্রুত গতিতে রোগটা সেরে যাচ্ছে। করোনা আক্রান্ত ৮০ শতাংশ মানুষ সুস্থ হয়ে উঠছেন, এটা পরিষ্কার। ভারতে সুস্থতার হার আরও বেশি।