বজ্রপাতের সতর্কবার্তা দেবে মাঝিয়ান আবহওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র

558

সাজাহান আলি,পতিরাম: এত বছর ধরে গৌড়বঙ্গের কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও কৃষি পরামর্শ সরবরাহ করে আসছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের মাঝিয়ান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও কৃষি পরামর্শ দান কেন্দ্র। এবার এই পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হল বজ্রপাত পূর্বাভাস প্রদান পরিষেবা। বজ্রপাতের তিন ঘণ্টা আগে স্যাটেলাইট, র‌্যাডার ও অত্যাধুনিক যন্ত্র মারফৎ প্রাপ্ত পূর্বাভাস দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হবে গৌড়বঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর , মালদা ও উত্তর দিনাজপুর জেলার কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে আবহাওয়ার এই পরিষেবা শুরু করার প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করেছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। আশা করা হচ্ছে, বজ্রপাত পূর্বাভাস পরিষেবা প্রদান করার ফলে গৌড়বঙ্গের তিনটি জেলার সর্বস্তরের মানুষ বিরাট উপকৃত হবে।

মাঝিয়ান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের নোডাল অফিসার ডঃ জ্যোতির্ময় কারফর্মা বলেন, সিভিডি ২০০ যন্ত্রের মাধ্যমে বজ্রপাতের পূর্বাভাস প্রদান পরিষেবা চালু করার সংকেত আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর মাঝিয়ানকে দিয়েছে। ইনস্যাট ৩ ডি উপগ্রহের মাধ্যমে সর্বশেষ প্রাপ্ত বজ্রপাতের পূর্বাভাস আমরা মাঝিয়ান থেকে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা জেলার সর্বস্তরের মানুষকে দ্রুত প্রদান করা হবে। ২৪ ঘন্টা আবহাওয়ার এই বিশেষ খবর অর্থাৎ বজ্রপাতের পূর্বাভাস জানতে পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

- Advertisement -

মাঝিয়ান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক ও বজ্রপাত পূর্বাভাস প্রদানের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত সুমন সূত্রধর জানান, মহারাষ্ট্রের পুনে আবহাওয়া কেন্দ্র এবং কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বজ্রপাতের পূর্বাভাস মাঝিয়ান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে নিয়মিত প্রদান করা হবে। ইনস্যাট ৩ ডি উপগ্রহ ও অন্যান্য অত্যাধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে বজ্রপাতের প্রায় ২ থেকে ৩ ঘন্টা আগে এই পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব। পূর্বাভাস পাওয়ার পর পরই এই সতর্কবার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে তিন জেলার কৃষক সহ প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। সর্বোপরি এই বজ্রপাতের পূর্বাভাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য খুব শীঘ্রই তিন জেলার মানুষকে নিয়ে একটি হোয়াটস আপ গ্রুপ তৈরি করা হবে বলে সুমন বাবু জানান।

এরফলে বজ্রপাতের ভয়ঙ্কর প্রভাব থেকে গৌড়বঙ্গের মানুষজন সতর্ক হওয়ার সুযোগ পাবেন এবং প্রাণহানি বহুলাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। নোডাল অফিসার জ্যোতির্ময় কারফর্মার কথায়, সতর্কবার্তা পেয়ে মানুষ নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিলে বজ্রপাতের হাত থেকে অনেকাংশে রক্ষা পেতে পারেন। বস্তুত, মাঝিয়ান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে বজ্রপাতের পূর্বাভাস প্রদান পরিষেবা আগামীদিনে গৌড়বঙ্গের সর্বস্তরের মানুষকে বিরাট ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাবে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।