মানসিক ভারসাম্যহীণ কিশোরীর দিন কাটে কাঠের ঘেরায়

320

পারডুবি: মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে কাঠের বাক্সবন্দি হয়ে চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের পারডুবি গ্রামপঞ্চায়েতের বরাইবাড়ির ১২৬ নং বুথের পূর্ব পাড়া এলাকার ১৬ বছরের ঝিলিক বর্মন নামের এক কিশোরী। প্রতিবন্ধী শংসাপত্রে ৭৫ শতাংশ উল্লেখ থাকলেও মেলেনি সরকারি কোনো সাহায্য বলে অভিযোগ মা সুচিত্রা বর্মনের। মা সুচিত্রা বর্মন গৃহবধূ। বাবা শ্যামল বর্মন জানান দিনমজুরি করে কোনরকমে টেনেটুনে সংসার চালাতেই হিমসিম খেতে হয়। বড় ছেলে শিবু বর্মন(১৯) কলেজে পাঠরত। ঝিলিকের মা সুচিত্রা বর্মন জানান জন্মের পর থেকেই তার মেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন, এরপর বেড়ে উঠলেও মেয়ে কথা বলতে ও ঠিকঠাক হাঁটা চলা করতে পারে না। দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় পরিবারটি।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মেয়েটি জন্মের থেকেই হাত ও পা শীর্ণকায় (সরু) কোমর বেকে গিয়েছে বর্তমানে। হাঁটা চলা করতে না পারায় বাড়িতেই একটি কাঠের ঘেরায় বন্দি হয়ে দিনকাটে। ঝিলিকের মা ও বাবা জানান, কি করে খাওয়া দাওয়া করতে হয় সেটাও পারেনা ঝিলিক। সকাল হতেই বাবা অন্ন জোগাড়ের তাগিদে বেড়িয়ে যান মা নিজেই সবসময় দেখাশোনা করেন। পড়াশোনার কোনো বালাই নেই। বাবা শ্যামল বর্মন জানান, বিষয় সম্পত্তি কিছু বিক্রি করে কয়েকবছর আগে উদয়পুর, ব্যাঙ্গোলুরুতে চিকিৎসা করাতে নিয়ে গেলেও সুস্থ হয়ে ওঠেনি মেয়ে।

- Advertisement -

চিকিৎসকরা জানান, এর কোনো সুচিকিৎসা নেই। ফিরে এসে বর্তমানে বাড়িতেই অসহায় ভাবে দিন কাটছে ওই কিশোরীর। এমতাবস্থায় চরম সংকটের মধ্যে দিনযাপন করছে পরিবারটি। কোনরকম সরকারি সুযোগ সুবিধা না পেয়ে চরম অসহায়ভাবে দিন কাটছে এই পরিবারের। কিশোরীর মা সুচিত্রা বর্মন জানান তাই নিরুপায় হয়ে দিনের বেলা কাতরাতে কাতরাতে কাঠের ঘেরার মধ্যেই পড়ে থাকে মেয়ে।

তিনি করুন কন্ঠে বলেন, টাকাপয়সার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছিনা মেয়েটির, এই সময় কোনো সেচ্ছাসেবী সংস্থা বা সরকারী ভাবে কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে খুবই উপকৃত হবে এই পরিবার। মা সুচিত্রা বর্মন সরকারি সাহায্য ও মেয়ের জন্য একটি হুইল চেয়ারের আবেদন জানান।

এবিষয়ে পারডুবি গ্রামে পঞ্চায়েতের প্রধান অশোক বর্মন জানান, খুব শীঘ্রই ওই পরিবারের খোঁজ খবর নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং মানবিক প্রকল্পে যাতে সরকারি সহায়তা মেলে সেবিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্লকের বিডিও কমলকান্তি তলাপাত্র জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে সরকারি সহযোগিতা করা হবে।