কাটোয়ায় দাগী আসামীকে খুন করল দুষ্কৃতীরা

360

বর্ধমান: জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর দেড় মাস কাটতে না কাটতে দুস্কৃতীদের হাতে খুন হলেন আর এক দাগী দুস্কৃতী। মৃতর নাম রফিক শেখ(৩৪)। তার বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থানার চাঁদপুর গ্রামে। বুধবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর সংলগ্ন লোহাপোতা গ্রামের হাটতলায় অপর দুস্কৃতী দলের লোকজন রফিকের উপর চড়াও হয়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রফিককে এলোপাথাড়ি ভাবে কুপিয়ে খুন করে পালায় বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল পুলিশ মর্গে মৃত ব্যক্তির দেহের ময়নাতদন্ত হয়। স্বামীকে খুনের ঘটনা বিষয়ে মৃতের স্ত্রী ডালিয়া বিবি কাটোয়া থানায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখনও পুলিশ অভিযুক্তদের নাগাল পায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রফিক সেখ পেশায় গরুর পাইকার। পুলিশের খাতায় তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার মামলা রয়েছে। জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে ১৭ মার্চ কাটোয়ার পেকুয়া গ্রামে দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হন সরিফুল শেখ নামে এক ব্যক্তি। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে, পুলিশ রফিক শেখকে গ্রেপ্তার করে। তাকে ১৩ মাস জেল খাটতে হয়। এরপর মাদক ও বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত মামলায় ফের রফিক গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যায়। দীর্ঘদিন জেল খাটার পর মাস দেড়েক আগে রফিক জেল থেকে ছাড়া পায়।

- Advertisement -

মৃতর স্ত্রী ডালিয়া বিবি বলেন, পুরানো একটি মামলায় রফিক বুধবার কাটোয়া মহকুমা আদালতে হাজিরা দিয়ে চাঁদপুর মাঠপাড়া নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। বিকেলে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। সন্ধ্যায় রফিক স্থানীয় লোহাপোতা গ্রামের হাটতলার মাঠে তাস আসরে বসেছিল। সেখানে অন্য লোকজনও ছিল। ডালিয়ার অভিযোগ, ওই সময়ে পরিচিত এক যুবক রফিককে তাসের আসর থেকে কিছুটা দুরে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানেই একাধিক জন মিলে ধারাল অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি কোপায়। গুলিও চালানো হয় বলে ডালিয়ার অভিযোগ। ডালিয়া বলেন, রক্তাত অবস্থায় রফিককে উদ্ধার করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রফিককে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই রফিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

এদিকে মৃতর স্ত্রী এই খুনের ঘটনার সঙ্গে শাসক দলের নাম জড়িয়ে দেওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছেন কাটোয়ার তৃণমূল নেতৃত্ব। মৃতের স্ত্রী ডালিয়া বিবির অভিযোগ, তাঁর স্বামী তৃণমূলের পুরানো কর্মী। গ্রামের ঢালাই রাস্তা থেকে শুরু করে পঞ্চায়েতের অন্যান্য কাজে অনিয়ম হচ্ছে দেখলে তিনি প্রতিবাদ করতেন। সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে আসা দুস্কৃতীরা এখন এলাকার পঞ্চায়েত প্রধানের কাছের লোক হয়ে উঠেছে। ওই সকল নব্য তৃণমূলকর্মীরা তাঁর স্বামী রফিককে কুপিয়ে ও গুলি করে খুন করেছে। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন ডালিয়া সহ মৃতর পরিবারের অপর সদস্যরা।

ডালিয়ার অভিযোগের বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে না চাইলেও রফিক যে তৃণমূলের কর্মী ছিলেন তা স্বীকার করে নিয়েছেন কাটোয়া ২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি সুব্রত মজুমদার। তিনি শুধু বলেন, “রফিককে কারা খুন করল তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। আমরা চাই পুলিশ অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করুক”। পুলিশ জানিয়েছে, “১৩ জনের নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্ত চলছে। এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। অভিযুক্তদের খোঁজ চালানো হচ্ছে।”