দিনের বেলা ধানের আঁটির গাদায় আগুন দুষ্কৃতীদের

333

তুফানগঞ্জ: গত শনিবার রাতে তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের ধলপল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৯/৫ নম্বর বুথের উত্তর ধলপল এলাকায় রাতের অন্ধকারে কিছু দুষ্কৃতী প্রায় ১০ হাজার কপির চারা কেটে ফেলে দেওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রবিবার বেলা ১২টা নাগাদ একই বুথের উত্তর ধলপলে স্বপন দাস নামে এক কৃষকের আমন ধানের খড়ের গাদায় দুজন দুষ্কৃতী আগুন লাগিয়ে চম্পট দেয়। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে মঙ্গলবার উত্তর ধলপল এলাকায় ৯/৫ নম্বর বুথে। ধলপল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নূর ইসলাম মিঞার ভাই ইমান আলী তাঁর দেড় বিঘা জমির ধান জমি থেকে কেটে বাড়ির সামনে প্রায় হাজার খানেক আঁটি জমা করে রেখেছিলেন। দু’একদিনের মধ্যে ঝাড়াই মাড়াই করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন।

কিন্তু মঙ্গলবার সকাল এগারোটা নাগাদ চার পাঁচ জন দুষ্কৃতী আগুন লাগিয়ে চলে যায় বলে একটি ছোট্ট শিশু বিষয়টি দেখে বাড়িতে খবর দেয়। কিন্তু তাদের চিহ্নিত করার আগেই এলাকা থেকে চম্পট দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। সে সময় তাদের চিৎকারে পাশের জমিতে কাজ করা শ্রমিকরা ছুটে এসে বালটিতে করে জল ঢালতে শুরু করে। পাশাপাশি জমিতে জল দেওয়ার ২টো মেশিন লাগিয়ে কিছু সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবুও দুশোর মত আঁটি পুড়ে যায়। এই ঘটনা যদি রাতের অন্ধকারে হত তাহলে সমস্ত ধানসহ খড়ের আঁটি পুড়ে যেত। পাশাপাশি সংলগ্ন বাড়িঘর পুড়ে ভস্মীভূত হতে পারত। অনেক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটত বলে স্থানীয়রা মনে করেন। উত্তর ধলপলে পরপর এমন ঘটনা ঘটায় গোটা গ্রাম আতঙ্কিত।

- Advertisement -

ইমান আলী বলেন,  এলাকার বেশিরভাগ মানুষই দারিদ্রসীমার নিচে বাস করেন। কৃষি কাজের উপর নির্ভর করেই সারা বছর সংসার চলে। এই সময় উৎপন্ন ধান দিয়েই বছরের বেশির ভাগ সময় চলে যায়। এইভাবে  ধান গুলো দুষ্কৃতীরা পুড়িয়ে ফেললে সারা বছর অর্ধাহারে দিনযাপন করতে হত। দিনের বেলা এই ঘটনা ঘটায় অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়া গেল। যারা এই কাজ করেছেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এই বিষয়ে বুধবার তুফানগঞ্জ থানায় বিষয়টি জানাবো। এমনটা চলতে পারে না, চলতে দেওয়া যাবে না। কখনও রাতের বেলায়, কখনও দিনের বেলা দুষ্কৃতীরা কৃষকদের ক্ষতি করছে। ধলপল এলাকায় পুলিশি টহলদারির ব্যবস্থা করা দরকার। ধলপল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা তৃণমূলকর্মী নূর ইসলাম মিঞা বলেন, ধলপলে এমন অরাজকতা আগে কখনও ঘটেনি। প্রায় প্রতিদিনই দিনে বা রাতে কিছু দুষ্কৃতী কৃষকের স্বপ্নের ফসলের ক্ষতি করে চলেছে। কখনও ফসলের চারা কেটে ফেলে দেওয়া, কখনও ধানের গাদায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া আবার কেটে রাখা ধান জমি থেকেই চুরি হয়ে যাচ্ছে।

এই দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে শনাক্ত করতে হবে। কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। ধলপলের সকল কৃষকের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা সজাগ থাকুন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জমির ধান কেটে জমিতে না রেখে দিনের দিন বাড়ির উঠোনে জমা করে রাখুন। সব সময় নজরদারি চালান। বিজেপির ২৯/৩০ মন্ডল সহসভাপতি যুগল কিশোর দাস বলেন, ধলপল এলাকায় বিজেপির কর্মীদের জমির ফসল নষ্ট করার পাশাপাশি তৃণমূলকর্মী সমর্থকদেরও ফসল নষ্ট করছে দুষ্কৃতীরা। এই দুষ্কৃতীরা যে দলেরই হোক না কেন তাদের প্রথমে চিহ্নিত করতে হবে। তারপর কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এই জন্য সকলকেই সহযোগিতা করতে হবে।