দাঁড়িয়ে থেকে প্লাবিত এলাকার জল সরালেন বিধায়ক

432

হলদিবাড়ি: পরপর দু’দিনের বৃষ্টিতে জলমগ্ন কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ি ব্লকের হেমকুমারী গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা। শুক্রবার সেই এলাকা পরিদর্শনে যান স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। তাঁদের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় প্লাবিত জল সরানোর ব্যবস্থা হয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, ধীরে ধীরে এলাকার জল নামে শুরু করেছে। আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। স্বস্তিতে এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত সড়কের সেতুর নিচে তারজালির কারণে বুড়ি তিস্তানদীর জল প্রবাহ বাঁধা প্রাপ্ত হচ্ছে। এরফলে জেরে ফিবছর প্লাবিত হয় কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ি ব্লকের হেমকুমারী গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা। দুর্ভোগে পড়েন ওই এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দা। নদীর জলে প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিঘার পর বিঘা জমির ফসল। আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন ওই এলাকার কৃষকরা। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

- Advertisement -

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মেখলিগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান,বিডিও সঞ্জয় পন্ডিত, স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান প্রথমি রায় সহ গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যরা। মহকুমা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সম্মতি নিয়ে সেতুর নিচে থাকা তারজালি খুলে দিয়ে নদীর জল প্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়। বৃষ্টির জলে ভিজে বিএসএফকে সঙ্গে নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে সেই কাজের তদারকি করেন বিধায়ক। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী হেমকুমারী গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে বুড়ি তিস্তানদী উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশে প্রবেশের আগে বালুরটারী এলাকায় সীমান্ত সড়কের মাঝে একটি লোহার সেতু রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সেই সেতুর নিচের তারজালি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসীর অভিযোগ, নদীর জলে প্রবাহিত কচুরিপানা, ঝাড় জঙ্গল সহ বিভিন্ন জঞ্জাল ওই তারজালিতে এসে আটকে পড়ে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাঁধা প্রাপ্ত হয়। এদিকে নদীর জল বের হতে না পারায় নদীর সংলগ্ন মিস্ত্রি পাড়া, ডাঙ্গা পাড়া, ফকির পাড়া, দাস পাড়া, সামিলাবস, নামানজি পাড়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। দুর্ভোগে পড়েন ওই এলাকার প্রায় সাড়ে চারশ পরিবার। বাড়ি ঘর সহ কৃষি জমি নদীর জলে ডুবে যায়। আমন ধানের বীজতলা জলে ডুবে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমন চাষ।নদীর মাছ ভেসে যায়।

মেখলিগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান বলেন, পরপর দুই দিনের ভারী বর্ষণে ওই এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। সীমান্ত সেতুতে ঠিক মতো জল পাস না হওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়। তাই প্রশাসনের মাধ্যমে বিএসএফের সম্মতি নিয়ে সেতুর নিচে আটকে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করে বুড়ি তিস্তানদীর জল প্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়। এতেই ধীরে ধীরে এলাকার জল নামতে শুরু করে।

বিডিও সঞ্জয় পন্ডিত বলেন, বুড়ি তিস্তানদীর জল বের হতে না পারায় ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে বাড়ি ঘর সহ কৃষি জমি নদীর জলে ডুবে গিয়েছিল। জল নামতে থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান প্রথমি রায় বলেন, প্রতিবছর এই সমস্যা তৈরি হয়। বিএসএফকে বহুবার বলেও কাজ হয়নি। এবার বিধায়কের উদ্যোগে তা সম্ভব হল।