করোনাকে জয় করে বাড়ি ফিরলেন মা ও সদ্যোজাত

শালকুমারহাট: আলিপুরদুয়ার শালকুমারহাটের সিধাবাড়ির মহিলা সান্তনা রায় গর্ভবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। করোনা ভাইরাসকে সঙ্গে নিয়েই ৬ জুন তিনি জেলা হাসপাতালে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। এ নিয়ে তাঁর পরিবার ও চিকিৎসকমহল আশঙ্কায় ছিল। তবে যাবতীয় ঝুঁকি অতিক্রম করে রবিবার সুস্থ হয়ে শিশুকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন মা সান্তনা রায়।

পরপর দুবার সোয়াব পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় এদিন মা ও সন্তানকে তপসিখাতা কোভিড হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। এই খবরে খুশির হাওয়া শালকুমারহাটজুড়ে। খুশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও। জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ-২ সুবর্ণ গোস্বামী বলেন, এদিন জেলার প্রথম করোনা আক্রান্ত মা ও সন্তানকে ছুটি দেওয়া হয়। স্বাভাবিকভাবেই ওই গর্ভবতী সন্তান প্রসব করেন।

- Advertisement -

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সিধাবাড়ির ওই গর্ভবতীর কোনও ট্রাভেল হিস্ট্রি নেই। তবে তাঁর দেওর দীপঙ্কর রায় পরিযায়ী শ্রমিক। দীপঙ্কর গত মে মাসে সিকিম থেকে ফিরে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের শিলতোর্ষা পিটিটিআই কলেজের কোয়ারান্টিন সেন্টারে ১৪ দিন ছিলেন। সেখানে তাঁর সোয়াবও নেওয়া হয়। রিপোর্ট দেরিতে আসায় ১৪ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ওই যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কয়েকদিন পর তাঁর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। কারণ ওই যুবক বাড়িতে থাকায় পরিজন ও এলাকার মানুষের সংস্পর্শে আসেন। ৩ জুন স্বাস্থ্য দপ্তর তখন তড়িঘড়ি বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এসে যুবককে আয়ুষ হাসপাতালে ভরতি করে। এদিকে ৫ জুন যুবকের বৌদির প্রসব ব্যথা ওঠে। স্বাস্থ্যকর্তাদের নির্দেশে গর্ভবতীকে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভরতি করা হয়।

আক্রান্ত যুবকের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা থাকায় জেলা হাসপাতালের ট্রুনাট মেশিনে গর্ভবতীর সোয়াব পরীক্ষা করলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। সেই পরিস্থিতিতেই হাসপাতালের আইশোলেশন ওয়ার্ডে পিপিই কিট পরে চিকিৎসক ও নার্সরা গর্ভবতীর নর্মাল ডেলিভারি করান। জন্ম হয় কন্যা সন্তানের। পরে মা ও সদ্যোজাতকে তপসিখাতার কোভিড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। প্রথম ধাপে ট্রুনাট মেশিনে সদ্যোজাতর সোয়াব পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। মা ও সন্তানকে একসঙ্গেই রাখা হয়।

এদিকে দুজনের সোয়াব চূড়ান্তভাবে পরীক্ষার জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভিআরডিএল-এ পাঠানো হয়। এরমধ্যেই ওই পরিবারের আক্রান্ত যুবকের দ্বিতীয় রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। পরিবারের বাকি ৬ জনকে কোয়ারান্টিন সেন্টারে রাখা হয়। তাঁদের সবার রিপোর্টও নেগেটিভ আসে। গত শুক্রবার সদ্য মা হওয়া সান্তনা রায় ও শনিবার সদ্যোজাতের রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় রবিবার দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিন তপসিখাতা কোভিড হাসপাতাল থেকে মা ও শিশুকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য দপ্তরের অ্যাম্বুলেন্সে করে দু’জনকে বাড়িতে পৌঁছানো হয়।এদিনই করোনা আক্রান্তের পরিবার কন্যা সন্তানের নাম রাখে ‘প্রিয়া’। সান্তনাদেবী বলেন, এরকম পরিস্থিতিতে আমার সন্তানের জন্ম হবে তা ভাবতেই পারিনি। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা খুব ভালোভাবে সেবা যত্ন করেছেন।

তাঁর স্বামী প্রসেঞ্জিৎ রায় বলেন, খুব চিন্তায় ছিলাম। তবে এখন সবাই খুশি। এদিন মেয়ের নাম ‘প্রিয়া’ রাখা হয়।’খুশি স্বাস্থ্যকর্তারাও। আলিপুরদুয়ার-১’এর বিএমওএইচ ডাঃ ভাস্কর সেন বলেন, এটা খুবই খুশির খবর। এখন ওই পরিবারের সবারই রিপোর্ট নেগেটিভ রয়েছে। তাই আতঙ্কের কিছু নেই। সোমবার ওই বাড়িতে গিয়ে সবাইকে সংবর্ধনা জানানো হবে।