ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস-এ নাম রায়গঞ্জের শিক্ষকের

222

রায়গঞ্জ: ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’-এ নাম তুলে নজির গড়লেন রায়গঞ্জের এক শিক্ষক বিপ্লব কুমার মণ্ডল। প্রায় ১১ মাস ধরে করোনায় জেলার মানুষকে সচেতন, বিনামূল্যে নিজে হাতে তৈরি মাস্ক, স্যানিটাইজার বিলি, প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষদের সচেতন করার ক্ষেত্রে ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য তাঁর এই স্বীকৃতি।

রায়গঞ্জ থানার কর্ণজোড়া ফাঁড়ির অন্তর্গত বারগণ্ডা এলাকার বাসিন্দা পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিপ্লবকুমার মণ্ডল জানান, এই স্বীকৃতি পেয়ে আরও দায়িত্ব বেড়ে গেল। ২০২২ সালে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস-এর বইয়ে তাঁর ছবি তুলে ধরা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পাশাপাশি জেলার আরও মানুষকে সমাজের বিভিন্ন কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস-এ নাম রায়গঞ্জের শিক্ষকের| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

মানুষকে সচেতন করছে করোনা সাঁড়াশি। হাটেবাজার একটু ভিড় দেখলেই সেখানেই তার সেই মজার কল সেঁধিয়ে দিচ্ছেন বিপ্লববাবু। তাতে কাজ হয়েছে ১০০ শতাংশ। শিক্ষকের পাশাপাশি তিনি একজন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকও। সকালে ও বিকালে স্কুল ছুটির পর কালিবাড়ি বাজার সংলগ্ন এলাকায় নিজের চেম্বারে বসে রোগী দেখেন। ‌করোনা শুরুর পর থেকেই কি করবেন ভাবতে গিয়ে ঠিক করেন মানুষকে এই মারণ ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে সচেতন করতে মাঠে নামবেন তিনি। রাস্তাঘাটে চলতে গিয়ে কিংবা সকালে নিজের এলাকার বাজারে একসঙ্গে কয়েকজন মানুষকে জট পাকিয়ে থাকতে দেখলেই সেই ভিড়ের মাঝখানে সটান লম্বা হাতল যুক্ত ওই সাঁড়াশি নিয়ে ভিড় ফাঁকা করে বলছেন নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে, তবেই করোনা সংক্রমণ দূরে থাকবে। মজার ছলে মানুষও তাঁর বার্তা পেয়ে মানছেন সামাজিক দূরত্ব। সাঁড়াশি নিয়ে এমন মিশন শুরুর আগে অবশ্য বিপ্লববাবু নিজের বাইক ও হেলমেট সাজিয়ে তোলেন করোনা সম্পর্কিত নানা অনুষঙ্গে। এইসব বার্তা নিয়ে গত ১১ মাস ধরে বিপ্লববাবু চষে বেরিয়েছেন রায়গঞ্জ শহর থেকে শুরু করে বাহিন, বিন্দোল, কমলাবাড়ি, সুভাষগঞ্জ সহ আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম এবং হাটে-বাজারে। মানুষকে করোনা সংক্রমণ কিভাবে আটকানো সম্ভব সে বিষয়ে সচেতন করছেন। করোনা মহামারির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজ ও সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ওই শিক্ষক। উত্তর দিনাজপুর জেলাজুড়ে করোনা মহামারির ক্ষেত্রে একাধিক সচেতনতামূলক প্রচারের বিষয়টি নজরে আসে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস-এর। এরপর তাঁকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে মনোনীত করা হয়। রবিবার তাঁর হাতে শংসাপত্র, মেডেল, বই, ব্যাজ ও কলম তুলে দেওয়া হয়। তাঁর এই সম্মানে খুশি পরিবার-পরিজন থেকে শুরু করে জেলাবাসী।