জনগণের কাছে বামফ্রন্টের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পেয়েছে, স্বীকার সিপিএমের রাজ্য কমিটির

212

কলকাতা: সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রতি প্রকৃত মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে দল আর সেই কারণেই ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু তাই নয় ,জনসমক্ষে বা জনগণের মনে যে, বামফ্রন্টের প্রয়োজনীয়তা অনেকখানি হ্রাস পেয়েছে তাও স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে এবারের রাজ্য কমিটির বৈঠকে। বিগত দু’দিন যাবত সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ওই কথা জানানো হয়। সেই সঙ্গে আরও জানানো হয় যে, নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করার জন্যই ভার্চুয়ালি রাজ্য কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। শুধু তাই নয় ওই ভার্চুয়াল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও।

যদিও ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তি দুদিনের আলোচনা নিয়ে জেলা-কমিটি নেতৃত্বরা কে কি বলেছেন সে ব্যাপারে কোন উল্লেখ  করা না হলেও জানানো হয় যে , বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর্যালোচনাই ছিল এই সভার আলোচ্য বিষয়। মোট ৫২জন রাজ্য কমিটি সদস্য আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। অনেকে লিখিত বক্তব্যও পেশ করেছেন। সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি জানিয়েছেন, নির্বাচনী বিপর্যয়ের অভিন্ন কারণ হল পার্টির গণভিত্তি হ্রাস। এই দুর্বলতা কাটাতে পারেনি দল। যে ভুলগুলির কথা আগেই পার্টিতে আলোচিত হয়েছে তা অতিক্রম করা যায়নি। ভুলকে উপলব্ধি করতে ব্যর্থতা আরও বড় ভুলের জন্ম দেয়। রাজ্যে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা ছিল। যার ফলে ২০১৯-এ বিজেপি’র লাভ হয়েছিল। ইয়েচুরি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুদের মধ্যে নিরাপত্তার অভাববোধ ছিল না। ছিল অর্থনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষার ব্যাপারে দলের বেশ কিছু ঘাটতি ছিল। তবে বামপন্থী দলগুলির সর্বভারতীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে এরাজ্যে ২৪ জুন থেকে ৫ জুলাই প্রচার, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের কর্মসূচি হবে। ৩০জুন বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে ‘হুল দিবস’ পালন করা হবে। সকালে রক্তদান ও বিকেলে কর্মসূচি পালন হবে।‘

- Advertisement -