গণতন্ত্রের উৎসবে প্রথম শামিল হবেন যাযাবররা

97
ভোট দেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে যাযাবরদের।

সৌরভকুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর : কারও পেশা পাখি শিকার, কারও বা বন থেকে মধু সংগ্রহ। কেউ বা জঙ্গল থেকে কবিরাজি ওষুধ সংগ্রহ করেন। তবে এঁদের কোনও নির্দিষ্ট বাসস্থান নেই। হরিশ্চন্দ্রপুরের বিভিন্ন বাগানে বা মাঠে মূলত তাঁবু খাটিয়ে থাকেন। পেশার তাগিদে মালদার গ্রামে গ্রামে পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়ান। এমনকি হরিশ্চন্দ্রপুর সংলগ্ন বিহার-ঝাড়খণ্ডেও কাজের খোঁজে ছোটেন। অবশ্য অচিরেই হরিশ্চন্দ্রপুরের স্থাযী বাসিন্দা হয়ে গিয়েছেন যাযাবররা। তবে এতদিন ভোটার তালিকায় নাম ছিল না হরিশ্চন্দ্রপুরের ৯৩ জন যাযাবর বা বেদের।

এবার ভাগ্যের শিকে ছিঁড়েছে। বাংলার ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে যাযাবরদের। তাই গণতন্ত্রের উত্সবে শামিল হবেন হরিশ্চন্দ্রপুরের বেদেরা। হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নম্বর ব্লকের বিডিও অনির্বাণ বসুর উদ্যোগে হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা ক্ষেত্রের বাইশা ও রামনগর গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় বসবাসকারী ৯৩ জন বেদের ভোটার তালিকায় নাম তোলা হয়েছে।

- Advertisement -

পঁয়ষট্টি বছরে ভোটাধিকার পেয়ে খুশি পার্বতী বেদ। তাঁর কথায়,পেশার তাগিদে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে আমাদের জীবন ধারণ করতে হয়। আমাদের কোনও স্থায়ী ঠিকানা নেই। বছরের বিভিন্ন সময়ে বেশিরভাগটাই আমরা হরিশ্চন্দ্রপুরের বাইশা এলাকায় থাকি। আপাতত এখানেই মাথা গোঁজার মতো আস্তানা তৈরি করতে হয়েছে। এতদিন ভোটদানের অধিকার ছিল না আমাদের। এই প্রথম প্রশাসনিক কর্তাদের সাহায্যে আমার নাম ভোটার তালিকায় উঠল। খুব ভালো লাগছে। জীবনে প্রথমবার ভোট দেব।

বছর আঠারোর মির্জাবাবু বেদের মতে, ব্লকের অফিসারদের সাহায্যে আমাদের ভোটার তালিকায় নাম উঠল। আমাদের এপিক নম্বর দেওয়া হয়েছে। এপিক কার্ড কিছুদিন পরে পেয়ে যাব বলে আশ্বাস পেয়েছি। প্রশাসন আমাদের মতো যাযাবর শ্রেণির মানুষকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। খুব ভালো লাগছে।

বিডিও অনির্বাণ বসুর বক্তব্য, আমার ব্লকে ৯৩ জন যাযাবর বা বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের খোঁজ পাই। তাঁদের এতদিন ভোটার তালিকায় নাম ছিল না। আমরা নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন মেনে তাঁদের ভোটার তালিকায় নাম তুলেছি। ইভিএমে কেমনভাবে ভোট দিতে হবে, সেই প্রক্রিয়াও শেখানো হয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুর কেন্দ্রে বাইশা গ্রাম সংলগ্ন ২২৬ নম্বর বুথের বারোদুয়ারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁদের ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে।