মানুষের প্রাচীনতম পদচিহ্নের খোঁজ মিলল

নিউ ইয়র্ক : যখন পড়বে না মোর পায়ে চিহ্ন এই বাটে… /তখন আমায় নাই বা মনে রাখলে… -একটি রবীন্দ্রসংগীতের দুটো বিক্ষিপ্ত লাইনকে এক তারে বাঁধার চেষ্টাটা এমনি এমনি করলাম না। তার সঙ্গে এই ভাবনাও উঁকি দিল, যদি সত্যিই কখনও আমাদের পদচিহ্ন হারিয়ে যায় তবে কি আমরা সত্যিই কালের অতলে হারিয়ে যাব? নাকি বাঙালির ঘরে কোজাগরি লক্ষ্মীপুজোর দিনে খড়ি দিয়ে আঁকা পায়ের ছাপ কিংবা হালের পায়ের ছাপওয়ালা স্টিকারে থেকে যাব? হঠাৎ কেন এমন বলছি? তার কারণ, সম্প্রতি এক মায়ের পায়ের ছাপের খোঁজ মিলেছে যাঁর ছিল ভারী তাড়া। তবে এ ছাপ কিন্তু আজ-কালের নয়। এ ছাপ অন্তত ১৩,০০০ বছরের পুরোনো বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর হওয়াটি স্যান্ডস ন্যাশনাল পার্কের প্লেয়া নামের একটি শুষ্ক হ্রদ থেকে পায়ের ছাপগুলি আবিষ্কার হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পায়ের ছাপগুলি ১১,৫৫০ থেকে ১৩,০০০ বছরের পুরোনো। পায়ের ছাপগুলি বিশ্লেষণ করে কিছু গবেষক জানিয়েছেন, প্রাচীন মানবটি হতে পারে একজন পুরুষ কিশোরও। যদিও যেই হন না কেন, পায়ের ছাপ থেকে স্পষ্ট, তিনি তাড়াহুড়ো করছিলেন। গবেষকদের মতে, পায়ের ছাপগুলি প্রতি সেকেন্ডে ১.৭ মিটার গতিতে চলছিল। যেখানে সাধারণত সুস্থ অবস্থায় একজন মানুষের শুকনো মসৃণ মাটিতে আরামদায়ক হাঁটার গতিবেগ হয় প্রতি সেকেন্ডে ১.২ থেকে ১.৫ মিটার। জীবাশ্মের পায়ের ছাপ দিয়ে দীর্ঘ প্রায় দেড় কিলোমিটার পথটি তৈরি হয়েছিল সম্ভবত বরফ যুগের শেষ পর্বে। পথটি উল্লেখযোগ্যভাবে সোজা ছিল। যা দেখে সহজেই বোঝা যায়, মানুষটি দ্রুতগতিতে তার গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। পথের মাঝখানে শিশুর কিছু পায়ের ছাপ দেখা যায়। যা থেকে অনুমান করা যায়, একটি মা তাঁর সন্তানকে কোলে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। মাঝপথে তিনি হয়তো কোল পরিবর্তনের জন্য অথবা বিশ্রাম নেওয়ার জন্য শিশুটিকে কোল থেকে নামিয়েছিলেন।

- Advertisement -

যদিও গবেষকরা মনে করেন, তাড়াহুড়োর কারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগও হতে পারে। গবেষকরা অনুমান করেন, এই এলাকার জীবজন্তুরাও মানুষের কাছে বিরাট আতঙ্ক ছিল। সেই সময় ওই এলাকায় ম্যামথ, জায়েন্ট স্লথস, তরোয়ালের মতো দাঁতযুক্ত বিড়াল, বাইসন, উট সহ নানা বন্যজন্তুর আক্রমণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। তাই একাকী মানুষ কোলে বাচ্চা নিয়ে একা এই পথে গেলে, পশুদের আক্রমণের আতঙ্কও তাঁর দ্রুতগতিতে হেঁটে যাওয়ার কারণ হতে পারে বলে গবেষকরা মনে করেন। যাওয়ার পথে দুটি পায়ে ছাপ থাকলেও ফেরার পথে একটি পায়ে ছাপ ছিল, যে পায়ে ছাপটি একটি প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীলোকের বলে গবেষকদের অনুমান। তাঁরা মনে করেন, হয়তো একটি স্ত্রীলোকের উপর দায়িত্ব ছিল শিশুটিকে কোলে করে কোথাও পৌঁছে দেওয়ার। সেখানে পৌঁছে দিয়ে তারপর তিনি ফিরতি পথে খুব দ্রুত হেঁটে ফিরছিলেন।