চালকলের লাইসেন্স পেতে চালু হচ্ছে ‘এক জানালা’ পদ্ধতি

405

বর্ধমান: রাজ্যের শস্যগোলা বলে পরিচিত পূর্ব বর্ধমান জেলায় চালু চালকল রয়েছে ৩৫০টি। একটি চালকল (রাইস মিল) চালাতে ১৯টি লাইসেন্সের প্রয়োজন হয়। কিন্তু অধিকাংশ চালকলেরই নেই পরিবেশ ও শ্রমিক দপ্তরের লাইসেন্স। অনেক চালকলের আবার বয়লার চালানোর লাইসেন্স যেমন নেই তেমনি নেই খাদ্য দপ্তরের লাইসেন্সও। এই পরিস্থিতিতে চালকল মালিকরা ক্ষুদ্রশিল্প দপ্তর থেকেই যাতে সব লাইসেন্স করিয়ে নিতে পারেন তার জন্য জেলায় চালু করা হচ্ছে ‘এক জানালা পদ্ধতি’। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে চালকল মালিক সংগঠন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সহায়ক মূল্যের ধান ভাঙানোর ক্ষেত্রে অর্ধেক চালকলও খাদ্য দপ্তরের সঙ্গে চুক্তি করে না। এর কারণ অনুসন্ধানে খাদ্যদপ্তর তদন্তে নামে জানতে পারে, গত বছর জেলার ১৩৪টি চালকল ধান ভাঙানোর ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। একাধিকবার বৈঠক ও নিয়মের শিথিলতার পরেও এবার গতবারের চেয়ে কম চালকল সহায়ক মূল্যে ধান ভাঙানোর জন্যে খাদ্য দপ্তরের সঙ্গে চুক্তি করে।

- Advertisement -

তদন্তে নেমে খাদ্য দপ্তরের কর্তারা জানতে পারেন, জেলার বেশিরভাগ চালকলের বিভিন্ন দপ্তরের লাইসেন্স বা অনুমতি নেই। বছরের পর বছর ধরে পরিবেশ দপ্তর থেকে শুরু করে শ্রমিক দপ্তরের ‘লাইসেন্স’ ছাড়াই একাধিক চালকল চালু রয়েছে। অনেক চালকলের কাছে বয়লার চালানোর লাইসেন্স নেই আবার খাদ্যদপ্তরের ‘লাইসেন্স’ ছাড়াও বেশ কিছু চালকল চলছে। খাদ্যদপ্তর পুরো বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসক মহম্মদ এনাউর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

জেলাশাসকের নির্দেশে ডিসেম্বরে ক্ষুদ্রশিল্প কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার অভিজিৎ কর সাতটি দপ্তরকে নিয়ে ‘টাস্ক ফোর্স’ তৈরি করেন। ডিসেম্বর মাসের শেষ থেকে ওই ‘টাস্কফোর্স’ দু’টি দলে বের হয়ে বিভিন্ন চালকলে হানা দেয়। টাস্কফোর্স বিভিন্ন চালকলে হানাদিয়ে রিপোর্ট সংগ্রহ করে জেলার পূর্ত ভবনে ক্ষুদ্রশিল্প দপ্তরে জমা দেয়। সমস্ত লাইসেন্স না থাকা চালকলগুলিকে জরিমানা করা না হলেও শোকজ করা হয়। এরপরেই টনক নড়ে পূর্ব বর্ধমানের চালকল মালিকদের সংগঠনের।

বর্ধমান রাইসমিল অ্যাসোসিয়েশন’ সম্প্রতি চিঠি দিয়ে ‘এক জানলা পদ্ধতি’ চালু করে চালকলের লাইসেন্স নিয়ে যে সমস্যা রয়েছে, তা মেটানোর দাবি জেলা খাদ্য নিয়ামককে জানায়। চালকল মালিক সংগঠনের এই দাবির বিষয়টি নিয়ে জেলা খাদ্য নিয়ামক আবির বালি ক্ষুদ্রশিল্প দপ্তরকে একটি চিঠি করেন। সেই চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, জেলাশাসক ‘এক জানলা পদ্ধতি’ চালু করার ব্যাপারে অনুমোদন দিয়েছেন। তার ভিত্তিতে জেলা শিল্পকেন্দ্রে ৯টি দপ্তরকে নিয়ে ওই পদ্ধতি শুরু করা যেতে পারে। এরজন্যে তিনি দপ্তরের জেনারেল ম্যানেজারকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে অনুরোধ করেন। অভিজিৎবাবু এদিন জানিয়েছেন, ‘চলতি সপ্তাহ থেকেই জেলায় ‘এক জানলা পদ্ধতি’ শুরু করা হবে।‘