জেলায় বকেয়া বিদ্যুতের বিল ১৩৩ কোটি টাকা, বিপাকে রাজ্য

121

রায়গঞ্জ: কোটি কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে রয়েছে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর সহ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ গ্রাহকদের। উত্তর দিনাজপুর জেলা জুড়ে চলতি মাস পর্যন্ত বিদ্যুতের অনাদায় বিলের টাকার পরিমাণ এতটাই বেশি যে সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও গ্রাহকদের থেকে সংগ্রহ না হওয়ায় রীতিমতো উদ্বিগ্ন রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন কর্তৃপক্ষ। জেলার বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি দপ্তরের ইতিমধ্যে ১৩৩ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে একাধিক ছোট-বড় নানা ধরনের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ খরচ বাবদ টাকাও দীর্ঘদিন ধরে জমা পড়ছে না বলে অভিযোগ। একাধিকবার গ্রাহকদের সতর্ক করা সত্বেও রায়গঞ্জ বিভাগের একাধিক কাউন্টারে বকেয়া বিদ্যুতের বিলের টাকা পরিশোধ করছে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানানো হয়।

রায়গঞ্জ বিভাগের অধীনে করনদিঘি, ইটাহার, কালিয়াগঞ্জ, হেমতাবাদ ও রায়গঞ্জ। পাঁচটি ব্লকের সেচ, কৃষি দপ্তরের প্রায় ১১ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া। বেসরকারি ক্ষুদ্র শিল্প কারখানার বিল বকেয়া ১০ কোটি টাকা। পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে সাড়ে চার কোটি টাকা বিদ্যুতের বিল বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে রায়গঞ্জ বিভাগের ৬৪ কোটি টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল এখনও জমা পড়েনি। সেইসঙ্গে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল জমা না দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে ওই বিভাগের বিভিন্ন গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সেই সংযোগহীন গ্রাহকদের অনাদায়ের পরিমাণ ২১ কোটি টাকা।

- Advertisement -

অন্যদিকে, ইসলামপুর বিভাগের অধীনে চোপড়া, গোয়ালপোখর-১ এবং চাকুলিয়া। ইসলামপুর ব্লকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চলতি মাস পর্যন্ত বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ ৪৮ কোটি টাকা। সেখানে শুধুমাত্র ইসলামপুর শহরে ৩ কোটি ৯ লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া টাকা এখনও পরিশোধ করেননি গ্রাহকরা। এরমধ্যে ইসলামপুর পুরসভা থেকে শুরু করে মহাকুমার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিদ্যুৎ দপ্তরের রায়গঞ্জ বিভাগীয় অধিকর্তা উৎপল দাস বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা বিল বকেয়া। অনেকবার গ্রাহকদের চিঠি দিয়ে বকেয়া টাকা পরিশোধ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু টাকা পরিশোধ করছেন না। সেই ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ খরচের টাকা পরিশোধ না করলে পরিষেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।‘

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ইসলামপুর বিভাগের আধিকারিক অর্ণব কুন্ডু বলেন, ‘বিলের বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তারপরও বিদ্যুৎ খরচের টাকা না মিটিয়ে দিলে সংযোগ ছিন্ন করা হবে।‘