নদীর রয়েছে মালিক, তারপর কি হল জানুন?

132

রায়গঞ্জ: নদীর মালিক রয়েছেন বেশ কয়েকজন। শুনতে অবাক লাগছে তো? কিন্তু এমনটাই ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলা এলাকার বুড়ি মহানন্দা নদীতে। ডালখোলার কাছে এই নদী প্রায় নিস্তরঙ্গ। আর সেই জন্যই কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর থাবা পড়েছে এই নদির উপর। তাদের কাছে রয়েছে সরকারি নথি। কিছু বলতে গেলেই দেখাচ্ছেন রেকর্ডের কাগজপত্র। আর এই দখলদারদের হাতে নদীর সীমানার সমস্ত খতিয়ানও রয়েছে। একপ্রকার নিজেদের নদীর মালিক বানিয়ে নিয়েছে ওই অসাধু ব্যবসায়ীরা। আর এই বিষয় জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। নদীকে দখলমুক্ত করার দাবিতে স্থানীয় নাগরিকরা পথে নেমে সরব হয়েছেন।

নদী চুরির ঘটনার খবর জানাজানি হতেই পরিবেশবীদরা রীতিমত উদ্বিগ্ন। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের অধ্যাপক রূপক পাল বলেন, ‘একাধিক এলাকায় নদী চুরির ঘটনা রয়েছে। যে নদী জনগণের প্রতি দিনের ব্যবহারের অঙ্গ সেই নদীকে দূষণ করা হচ্ছে প্রথমে। তারপর বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে। এই বিষয়ে সরকারের নজর দেওয়া উচিৎ।‘ অন্যদিকে এই বুড়ি মহানন্দার বেশ কিছু অংশ বুজিয়ে ফেলা হয়েছে ইতিমধ্যেই। আর সেকারণেই অল্প বৃষ্টি হলেই ভেসে যাচ্ছে ডালখোলা পুরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড। এছাড়াও নদীর ধারের শ্মশানও এখন কাগজে কলমে এক ব্যক্তির।

- Advertisement -

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি সংস্কার দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘এই প্রথম বিষয়টি জানতে পারলাম। তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই নদী দখলের ব্যাপারে সমস্ত রেকর্ড খতিয়ে দেখা হবে। এইদিকে যাদের নামে নদী রেকর্ড হয়েছে তাদের নাম ঠিকানা খোঁজ করে তদন্ত করা হবে।‘ বিভাগীয় দপ্তর সূত্রে জানা যায় বিগত বাম আমলে করণদিঘির  এক আমিন বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জানা যায় মোটা টাকার বিনিময়ে নদী লাগোয়া এলাকার রেকর্ড করে দেওয়ার ব্যাপারে ওই আমিন এবং দপ্তরের একাধিক সরকারি কর্মী জড়িত রয়েছে। এখন তদন্তের রিপোর্ট কি হয় সেই দিকেই তাকিয়ে সাধারণ মানুষ।