আগেরবারের রং বিক্রি হয়নি, আবির কারখানার মালিকরা চিন্তায়

151

রণজিৎ বিশ্বাস, রাজগঞ্জ : রাজ্য সরকারে ক্ষমতায় কে থাকবে সেই নিয়ে ইতিমধ্যেই দড়ি টানাটানি শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী ২ মে ফলাফল ঘোষণার পর শুরু হবে বিজয় উৎসব। সামনেই আবার দোলপূর্ণিমা। দুই ক্ষেত্রেই আবিরের একটা বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু ঘাড়ের উপর করোনা। তাই কী হবে বুঝে উঠতে পারছেন না আবির ও রং কারখানার মালিকরা। করোনা আবহে নির্বাচনের বিজয় উৎসব হোক বা দোলযাত্রা, আদৌ কি আবির খেলার অনুমতি দেবে সরকার? আশঙ্কায় রয়েছে আবির ও রং কারখানা কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য, গত বছর করোনা আবহে রং-আবির বিক্রি হয়নি। তাই এবার সেসব তৈরি করতে সাহস পাচ্ছে না তারা। টান পড়ছে ওই কাজে যুক্ত শ্রমিকদের রুজিরুটিতেও।

সমস্যাটা শুধু উত্তরবঙ্গ বা এ রাজ্যের নয়, দেশের সর্বত্রই দোল উৎসবকে ঘিরে একই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আবির কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিবছর দোলযাত্রার অন্তত দুমাস আগে আবির ও রং প্রস্তুত করা হয়। তৈরি সামগ্রী বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হয়। কিন্তু গত বছর করোনা আবহে প্রচুর লোকসান হয়ে গিয়েছে। এ বছর বিধানসভা নির্বাচনে বিজয় উৎসব এবং দোলযাত্রায় আবির ও রং খেলা যাবে কি না, সে ব্যাপারে সরকারি কোনও নির্দেশিকা এখনও পর্যন্ত নেই। তাই তাঁরা এ বছর সেসব তৈরি করতে সাহস পাচ্ছেন না। জলপাইগুড়ি জেলার ফুলবাড়ি এলাকার এক আবির কারখানার মালিক অসীম সাহা বলেন, গত বছর করোনা আবহের কারণে বিক্রেতারা আমাদের আবির বিক্রি করতে পারেননি। ফলে আমাদের কয়েক লক্ষ টাকা বাজারে আটকে রয়েছে। কারখানাতেও কয়েক লক্ষ টাকার সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। তাই এ বছর বিধানসভা নির্বাচন এবং দোলযাত্রা থাকলেও উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে লোকসান হলেও কোনও উপায় নেই।

- Advertisement -

ওই কারখানার এক কর্মী জীবন মণ্ডল বলেন, গত বছর মালিকের অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। এ বছর দোলযাত্রা এবং বিধানসভা নির্বাচন থাকলেও সরকারের তরফে আবির খেলতে দেওয়া হবে কি না সন্দেহ রয়েছে। তাই মালিকপক্ষ আবির তৈরি করা বন্ধ রেখেছে। এতে শ্রমিকরা সমস্যায় পড়ছেন ঠিকই, কিন্তু করার কিছু নেই।