পদ্মডোবা যেন ডাম্পিং গ্রাউন্ড

অনুপ সাহা, ওদলাবাড়ি : জবরদখল এবং আবর্জনার স্তূপে যেন নাভিশ্বাস উঠতে শুরু করেছে আস্ত একটা নদীর। আজকের দিনে যে বসতি এলাকা ওদলাবাড়ির বুকে হঠাৎ কলোনি নামে পরিচিত সেখান থেকেই মাটি ফুঁড়ে উৎপত্তি পদ্মডোবার। রেললাইন ও ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক পেরিয়ে বিধানপল্লির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণ ওদলাবাড়ি হয়ে তারঘেরার জঙ্গলে গিয়ে চেল নদীতে মিশেছে নদীটি। গত কয়েক দশকে পদ্মডোবার স্বাভাবিক জলধারা কমতে কমতে ইতিমধ্যেই গোড়ালি ভেজানোর স্তরে নেমে এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বহু সুখস্মৃতি জড়িয়ে আছে পদ্মডোবাকে ঘিরে। শীত হোক বা গ্রীষ্ম, টলটলে জলে স্নানের লোভ সামলাতে না পেরে দিনভর দাপাদাপি করে সাঁতার শিখতেন আজকের ওদলাবাড়ির গোপাল দত্ত, বুলা সরকার, সুধীন দাস সহ বহু মানুষ। সকলেই বলেন, ছেলেবেলায় দেখা এই নদীর রূপের সঙ্গে আজকের নদীকে মেলাতে পারছি না। জবরদখল ও আবর্জনার স্তূপে নদীর বুক ভরাট হয়ে আজ শীর্ণকায় চেহারা নিয়েছে পদ্মডোবা। নদীয়ালি বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর মাছও পাওয়া যেত পদ্মডোবায়। আজ সেগুলিরও আর দেখা মেলে না। বছর দশেক আগে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে পাথর দিয়ে নদীটির পাড় বাঁধানো, মানুষ পারাপারের জন্য কয়েকটি পুল নির্মাণ করা হয়েছে বটে, কিন্তু প্রশাসনিক স্তরে নদীর স্বাভাবিক গতি ফেরাতে কোনও ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।

- Advertisement -

মাঝে কিছুদিন স্থানীয় পরিবেশপ্রেমী সংগঠন হিমালয়ান ইকোলজিক্যাল কনজারভেশন ফাউন্ডেশন-এর সদস্যরা বারদুয়েক নদীর বুক থেকে জঞ্জাল সাফাই করেছিলেন। নদীতে আবর্জনা না ফেলার অনুরোধ জানিয়ে বাস্তুতন্ত্র ও নদীর প্রযোজনীয়তা নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে প্রচারও শুরু করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু ওই পর্যন্তই। সরকার কোনও সদর্থক পদক্ষেপ না করায় মজে যেতে শুরু করেছে নদীটি। এইচইসিএফের সহ সম্পাদক শেখর দে বলেন, সংগঠনগতভাবে আমরা সাধারণ মানুষকে নদীটি বাঁচাতে সচেতন করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিলাম। তাতেও কাজ না হওয়ায় প্রশাসনিকস্তরে অবিলম্বে নদীটি বাঁচাতে উদ্যোগী হওয়ার দাবি জানাচ্ছি। নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা হরেকৃষ্ণ মণ্ডল নামে এক যুবক দাবি তোলেন, নদীকে যাতে ডাম্পিং গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার না করা হয় তা দেখুক স্থানীয় প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে ওদলাবাড়ি পঞ্চায়েত প্রধান মধুমিতা ঘোষ বলেন, নাব্যতা বাড়িয়ে পদ্মডোবার অতীত রূপ ফিরিয়ে দিতে পদক্ষেপ করা হবে।