মন্দিরে পুজো দিয়ে করোনা মুক্তির প্রার্থনা বর্ধমানবাসীর

192

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: নতুন বছরে শুরু দিনেই ভক্তদের ঢল নামল বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলার মন্দিরে। শুক্রবার ভোর থেকে শহর বর্ধমানের পাশাপাশি রাঢ়বঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে ভক্তরা মন্দির চত্ত্বরে সমবেত হন। তবে কোভিড বিধি মেনেই তাঁদের মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি মেলে। বছর শুরুর দিনে করোনা মুক্তি ও সর্বমঙ্গলা দেবীর কৃপা লাভ কামনায় পুজো দিলেন অগণিত ভক্ত।

‘স্বাস্থ্য আগে,শাস্ত্র পরে’ এটা এদিনও ছিল সর্বমঙ্গলা মন্দিরের মূলমন্ত্র। কোভিড সংক্রমণের কারণে পূর্বে টানা ছ’মাস মন্দিরের গেটে তালা পড়েছিল। নিউ নর্মালে ধীরে ধীরে সব কিছু স্বাভাবিক হওয়ার পর কোভিড নির্দেশিকা মেনে মন্দিরের গেটের তালা খোলা হয়। মাস খানেক হল মন্দির চত্বরে বসে ভোগ খাওয়ানোও শুরু হয়েছে। নবান্নের দিন থেকে চালু হয়েছে ভোগ বিলি। যা টানা আটমাস বন্ধ ছিল। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই সব কিছু করা হচ্ছে।

- Advertisement -

সর্বমঙ্গলা মন্দির ট্রাস্টের সম্পাদক সঞ্জয় ঘোষ জানিয়েছেন, সংক্রমণ এড়াতে মন্দির চত্ত্বরে রয়েছে স্যানিটাইজার টানেল। এছাড়াও আছে স্যানিটাইজার। মুখে মাস্ক ছাড়া কাউকে মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। অন্য বছরগুলিতে নবান্ন অনুষ্ঠানে প্রচুর লোকজন মন্দিরে সমবেত হতেন। কিন্তু এবার সেই তুলনায় বেশ কম লোকজন উপস্থিত হয়েছে। কোভিড সংক্রমণের কারণে টানা ছ’মাস মন্দির বন্ধ থাকলেও রাজার আমল থেকে চলে আসা রীতি পালনে এবারও কোনো অন্যথা হয়নি।

বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম পীঠস্থান। এখানে দেবী সর্বমঙ্গলা রূপে পুজিতা হন। এই মন্দির ঘিরে অনেক উপকথা রয়েছে। রাজা তেজচন্দের আমলে এখানে সুন্দর মন্দির পত্তন হয়। তার আগে জেলেবাড়ির মেছেনীরা নাকি এই মূর্তির উপরে গুগলি শামুক ভাঙতেন। স্বয়ং রামকৃষ্ণ এই মন্দিরে এসেছেন বলে কথিত আছে। এদিন বছরের প্রথম দিনে ভক্তদের সমাগম হয়। তবে তা গত বছরের তুলনায় বেশ কম। ভক্তরা পুজোর ঢালি নিয়ে মুখে মাস্ক পড়ে পুজো দেন।

মন্দিরের পুরোহিত অরুণ ভট্টাচার্য বলেন, ‘মায়ের কাছে সকলেই প্রার্থনা করছেন, করোনা মহামারী শেষ হয়ে আবার সব কিছু স্বাভাবিক হোক। গোটা পৃথিবী ফিরে আসুক নিজের ছন্দে। নতুন বছর মানুষের কাছে ভালো হয়ে উঠুক। ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে এদিন মন্দিরের প্রধান গেট খুলে দেওয়া হয় ভক্তদের জন্য। তবে তুলনায় এবার ভক্ত সমাবেশ কম।’

এদিন মন্দিরে পুজো দিতে আসা ভক্ত অঙ্কিতা সাধু বলেন, ‘মায়ের কাছে এই প্রার্থনা করছি করোনা থেকে সবাই যেন মুক্তি পাই। মাস্ক পড়ে নয়, সকলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক।’