পানীয় জল সমস্যায় ভুগছেন ফালাকাটাবাসী

290
ফালাকাটার কালীপুরে জলের পাত্র নিয়ে ট্যাপকলের সামনে ভিড়, কিন্তু জল মিলছে না।

ফালাকাটা: দুর্গাপুজোর পর থেকে ফের পানীয় জলের সংকট শুরু হয়েছে। ফালাকাটার উত্তর কালীপুর, দক্ষিন কালীপুর, বংশীধরপুর সহ চার পঞ্চায়েত এলাকায় জল না মেলায় কয়েক হাজার মানুষ সমস্যায় পড়েছেন।

জানা গিয়েছে, ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের চরতোর্ষা ডাইভারশনের পাশে জলের পাইপ লাইন মেরামত করতে গিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। এক পাইপের সাথে আরেক পাইপের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রায় পাঁচদিন থেকে জল পরিষেবা ব্যাহত রয়েছে। ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেন, ‘বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানাচ্ছি। দ্রুত জল পরিষেবা স্বাভাবিক করা হবে।’

- Advertisement -

প্রায় দু’বছর আগে ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের পাশে আসাম মোড় এলাকায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রায় ৬ কোটি টাকায় পানীয় জলের রিজার্ভার তৈরি হয়। এই রিজার্ভারের মাধ্যমে ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিকাংশ এলাকায় পানীয় জল পরিষেবা চালু হয়৷ কিন্তু চারলেনের মহাসড়কের কারণে পাইপ ভেঙে যাওয়ায় প্রায় এক বছর থেকেই রাইচেঙ্গার একাংশ ও কাদম্বিনী চা বাগান এলাকায় জল পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। তবে বাকি এলাকাগুলিতে দিনে একবার করে বাসিন্দারা জল পাচ্ছেন।

এদিকে চলতি বর্ষায় পুজোর আগে নদীর জলোচ্ছাসে চরতোর্ষা ডাইভারশনের পাশাপাশি জলের পাইপ লাইনও ভেঙে যায়। তখন প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জল পরিষেবা বন্ধ ছিল। পুজোর আগে শুরু হলেও পাইপ মেরামতের কাজ এখনও চলছে। পুজোর সময় জোড়াতালি দিয়ে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা হয়। পুজো শেষ হতেই ফের জল পাচ্ছেন না বাসিন্দারা।

কালীপুরের গৃহবধূ সারথী বর্মন বলেন, ‘এই পানীয় জল নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। পুজোর পর থেকেই জল মিলছে না। রোজ ট্যাপকলের কাছে জলের পাত্র নিয়ে গিয়ে ঘুরে আসতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে নলকূপের আয়রণযুক্ত জল খেতে হচ্ছে।’
আরেক বাসিন্দা মিঠুন সরকার বলেন, ‘বারবার পরিষেবা ব্যহত হলেও প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই। কয়েক কিলোমিটার দূরে পলাশবাড়িতে গিয়ে জল আনতে হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, পানীয় জলের এই প্রকল্পটি এখনও পিএইচই-কে হস্তান্তর করা হয়নি। তবে রিজার্ভারের পাম্প অপারেটর কৃষ্ণ বর্মন বলেন, ‘পাইপ লাইনের কাজ ঠিকমতই হচ্ছিল। পুজোর সময় বহিরাগতরা পাইপের ক্ষতি করে। এজন্য একটি পাইপের সঙ্গে আরেকটি পাইপের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। তবে পাইপের কাজ চলছে। দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক হবে।’