করোনা আবহে ভান্ডানী পুজোয় মাতল হলদিবাড়িবাসী

411

হলদিবাড়ি: এবার করোনা আবহের মধ্যেই ভান্ডানী পুজোয় মাতল হলদিবাড়িবাসী। উৎসবের আনন্দে কিছুটা ভাঁটা পড়েছে। তাই মন খারাপ হলদিবাড়ি ব্লকের দক্ষিণ বড় হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বালাডাঙ্গা, ডাঙ্গাপাড়া ও শিমুলতলা গ্রামের বাসিন্দাদের। বালাডাঙ্গা মন্দির প্রাঙ্গণে প্রতিবছর ভাণ্ডানী পুজোর আয়োজন করে। পুজো উপলক্ষ্যে তিনদিন ব্যাপী ভাণ্ডানী মেলা বসে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হলদিবাড়ি শহর এলাকা সহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি অঞ্চলের মানুষ উৎসবে শামিল হন। কিন্তু এবছর করোনার জন্য পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে মেলা ও অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

- Advertisement -

পুজোর উদ্যোক্তাদের মধ্যে রাজা সরকার জানান, তাঁদের ভাণ্ডানী পুজো ও মেলা এবার ২৯ বছরে পড়ল। প্রতিবছর জাঁকজমক করে পুজো হয়। কিন্তু এবার সংক্ষিপ্ত আকারে পুজো হচ্ছে।

মেলা কমিটির সম্পাদক চন্দ্রকিশোর রায় সরকার জানান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অন্যতম নিদর্শন হলদিবাড়ি ব্লকের দক্ষিণ বড় হলদিবাড়ির বালাডাঙ্গা ভান্ডানীর মেলা। ১৯৯১ সালে এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেল বন্ধন ঘটাতে এই পুজো তথা মেলার সূচনা হয়েছিল। আজও সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে ভান্ডানী দেবীর পুজো করে আসছে এলাকার মানুষ। প্রতিবছর পুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এই মেলা। করোনা পরিস্থিতির জন্য এবছর রবিবার পুজো অনুষ্ঠিত হলেও মেলা বসছে না।

বালাডাঙ্গা ভাণ্ডানি সার্বজনীন পুজো কমিটির সদস্য আব্বাস হক ও হামিদুল হক জানান, এই পুজোর বিশেষত্ব হল এখানে দেবী ভান্ডানীর চারটি হাত। অসুর ও মহিষ ছাড়াই সিংহের উপর উপবেষ্টিত। দেবী দুর্গার পরিবারের সকল সদস্যরা এখানে পুজিত হয়। পুজো উপলক্ষে এবার মেলা ও মেলা প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিন পুজোকে কেন্দ্র করে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে পুলিশবাহিনী মোতায়েন করেছে হলদিবাড়ি থানা।