রায়গঞ্জবাসী দেখিয়ে দিলেন কার ওপর আস্থা রাখা যায়: কৃষ্ণ কল্যাণী

80

রায়গঞ্জ: শাসকদলের অনেককেই বলতে শোনা গিয়েছিল একজন ব্যবসায়ী কি করে রাজনীতি করতে পারেন, রাজনীতি অত সহজ নয়। তাঁদের যে ধারণা ভুল সেটা রায়গঞ্জবাসী প্রমাণ করে দিলেন। জনগণ দেখিয়ে দিলেন কার ওপর আস্থা রাখা যায়। জয়ের পর এমনটাই বললেন রায়গঞ্জের বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী।

তাঁর বক্তব্য, ‘আমরা সকলেই কোনও না কোনও পেশার সঙ্গে যুক্ত। আমরা সকলেই অন্য জীবিকা নির্বাহ করি। আমি হয়তো একজন ব্যবসায়ী। তবে ব্যবসায়ীদের ট্যাক্সের টাকা দিয়েই তো সরকার চলছে। ব্যবসায়ীদের ট্যাক্সের টাকা দিয়েই সরকারি কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন। তবে ব্যবসায়ীদের কেন এত অবহেলা করা হয়? একটা কথা জেনে রাখুন ব্যবসায়ীরাই হচ্ছে সরকারের হৃদপিণ্ড। ব্যবসায়ীরা যদি স্তব্ধ হয়ে যায় তবে সরকারের সমস্ত কার্যকলাপ স্তব্ধ হয়ে যাবে।’ তিনি জানান, অনেকের ধারণা রাজনীতি করলে গায়ে কাদা লেগে যাবে। উন্নয়নের রাস্তায় হাঁটতে হবে এবং একটা ভালো সমাজতন্ত্র গঠন করতে হবে। তার জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, যাঁরা বুদ্ধিজীবী এবং ব্যবসায়ীরা আছেন তাঁরাও যেন রাজনীতিতে আসেন। এবার আসল পরিবর্তন দেখা যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, ভৌগলিক দিক থেকে বিচার করলে রায়গঞ্জ এইমস হাসপাতালের জন্য আদর্শ জায়গা। রায়গঞ্জ সেন্টার অফ দ্য প্লেস। চারশো কিলোমিটার কলকাতা, চারশো কিলোমিটার কোচবিহার। রায়গঞ্জে এইমস হলে সবথেকে বেশি লোক পরিষেবা পাবে। পাশাপাশি তাঁকে জয়ী করার জন্য রায়গঞ্জবাসীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। আগামীদিনে রায়গঞ্জের উন্নয়নে তাঁর দায়িত্ব অনেকটাই বেড়ে গেল বলে জানিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, রায়গঞ্জে কংগ্রেসের গড় কার্যত ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেল এবারের বিধানসভা নির্বাচনে। বাম আমলেও উত্তর দিনাজপুর জেলায় কংগ্রেস শেষ কথা বলত। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সেইসব ধারাবাহিকতাকে ওলটপালট করে দিয়ে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির নিজের বাড়ি কালিয়াগঞ্জ এবং জেলাসদর রায়গঞ্জে পদ্ম শিবিরের জয় জয় কার। যা নিয়ে রীতিমতো রাজনৈতিক মহলেও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। রায়গঞ্জে কংগ্রেস এবার কোনও ফ্যাক্টরই হয়ে দাঁড়ায়নি। মানুষ কার্যত এবার এই দুটো শিবিরে পরিণত হয়েছিল একদিকে তৃণমূল অন্যদিকে বিজেপি। আর শেষ হাসি হেসেছেন বিজেপি প্রার্থী। এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি মানুষের জন্য ঢালাও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই সমস্ত প্রতিশ্রুতি এবং রাজ্যে পরিবর্তন হচ্ছে এই আশা নিয়েই মানুষ পদ্মমুখী হয়েছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত মমতার জোড়া ফুল সরকার ক্ষমতায় আসায় তাঁদের প্রতিশ্রুতি কতটা পালন করতে পারবে, রায়গঞ্জবাসী কোনও সুযোগ-সুবিধা বা শহরের আদৌ কি কোনও উন্নয়ন হবে এই প্রশ্নই কিন্তু এখন চায়ের দোকান থেকে পাড়ার ক্লাব সর্বত্রই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।