দেবতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দোলের দিন রং খেলেন না এই শহরের মানুষ

67

বর্ধমান: বাংলাজুড়ে রবিবার ঘটাকরে পালিত হল দোল উৎসব। এই দিনটায় আট থেকে আশি সকলেই রাঙা হলেন আবিরের রংয়ে। কিন্তু শতাব্দী কাল ধরে এই দিনটিতে রঙের উৎসবে মাতোয়ারা হন না বর্ধমান শহরবাসী। কারণ সেই রাজ আমল থেকে বর্ধমানবাসী মেনে আসছেন দেবতাদের হোলি আর আমজনতার দোল একদিনে হতে পারে না। তাই বর্ধমান রাজবাড়ির মন্দিরের পূজিত দেবতা লক্ষ্মীনারায়ণ জিউকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সোমবার বর্ধমানের আমজনতা মাতোয়ারা হবেন রংয়ের উৎসবে। চিরাচরিত এই প্রথা ভাঙতে চান না শহর বর্ধমানের কোনও বাসিন্দাই।

দোল উৎসবের পরের দিন বর্ধমানবাসীর রংয়ের উৎসবে মাতোয়ারা হওয়ার পিছনে লুকিয়ে আছে একটা ইতিহাস। সেই ইতিহাসের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে বর্ধমান রাজবাড়ি রীতি রেওয়াজ। বর্ধমান রাজাদের ঠাকুরবাড়িতে রয়েছে লক্ষ্মীনারায়ণ জিউয়ের মন্দির। কালের নিয়মে মন্দিরটি জৌলুস হারিয়েছে। তবে অটুট রয়েছে তার আভিজাত্য। মন্দিরের সেবায়েত রাজ পরিবারের বর্তমান বংশধর ডঃ প্রণয়চাঁদ মহতাব। তিনিই এখন পূজা অর্চনার সবকিছু দেখভাল করেন। একদা জাঁকজমকপূর্ণভাবে রাজবাড়ির লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরে দেবতাদের হোলি উৎসব হত। রাজারা দেবতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যেদিন দেবতারা হোলি খেলবেন সেদিন প্রজারা দোল খেলবেন না। প্রজারাও রাজার আদেশকে মান্যতা দিয়ে দোলের পর দিন রং খেলায় মাতোয়ারা হতেন। রাজ আমলের অবসান হলেও বর্ধমানের সাধারণ মানুষজন নিষ্ঠার সঙ্গে এই সাবেক প্রথাকে ধরে রেখেছেন।

- Advertisement -

লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরেই প্রতিবছর দোল উৎসব, রথযাত্রা, দুর্গাপুজো হয়। এখন আগের মতো জাঁকজমক না থাকলেও সন্ধ্যায় ঠাকুরের রং খেলা হয়। আবির ছড়িয়ে হয় হোলি। দেবতাকে এদিন মালপোয়া ভোগ দেওয়া হয়। রাজবাড়ির পুরোহিত উত্তম মিশ্র জানান, কোভিড বিধি মেনে এবারেও এদিন হচ্ছে পুজো। শুধু ঠাকুরের দোল হবে। সন্ধ্যায় দর্শনার্থীরা যাঁরা আসবেন তাঁদের সবাইকেও কোভিড বিধি মানতে হবে। মাস্ক পড়ে আসতে হবে। ব্যবহার করতে হবে স্যানিটাইজারও।