পিকের শৈশবের পাড়ায় এখন উধাও খেলার মাঠ

26

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : উত্তরের সবচেয়ে প্রাচীন পুরসভার সবচেয়ে বড় ওয়ার্ড। পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মভূমি হিসেবে সারা বাংলায় সুপরিচিত জলপাইগুড়ির ২ নম্বর ওয়ার্ড। কিন্তু পুর পরিষেবার ছিটেফোঁটাও মেলে না ওই ওয়ার্ডে। নিকাশিনালা, রাস্তা, খেলার মাঠ, কোনও কিছুই ঠিকঠাক অবস্থায় নেই। বেহাল নিকাশির কারণে বর্ষার সময় প্রায় বুকসমান জল জমে। রাস্তার খানাখন্দের ঠেলায় ওয়ার্ডের ভিতর ঢুকতে চায় না টোটো-অটো। ওই ওয়ার্ডের ওয়াকারগঞ্জে শৈশব কেটেছে কিংবদন্তি পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ফুটবলের হাতেখড়িও সেখানে। অথচ এখন ওই ওয়ার্ডে শিশুদের খেলাধুলার জন্য মাঠের অভাব।

টোপামারি, রাজবাড়িপাড়ার একাংশ, ওয়াকারগঞ্জ, কচুর মাঠ, উত্তর রায়কতপাড়া, দক্ষিণ রায়কতপাড়া, সেনপাড়ার একাংশ, ভাটাখানা, পাকুড়তলা এলাকা নিয়ে গঠিত ২ নম্বর ওয়ার্ড। ১৮ হাজার জনসংখ্যাবিশিষ্ট ওই ওয়ার্ডে এবার ভোটারের সংখ্যা আট হাজার। পাকুড়তলা ও বাঁধের পার এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভারী বর্ষণ হলেই ওই এলাকায় এক বুক জল জমে। ঘরের ভিতরেও ঢুকে যায় বৃষ্টির জল। বাধ্য হয়ে তখন হয় পূর্বাচল হাইস্কুল বা তিস্তার বাঁধের ওপর আশ্রয় নিতে হয় বাসিন্দাদের। রাজু রায় নামে ওই এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ওয়ার্ডের সব এলাকায় নিকাশিব্যবস্থা বেহাল। নালাগুলিতে জঞ্জালের স্তূপ জমে থাকে। ফলে নিকাশির জল বেরোতে পারে না। এই সমস্যার সমাধান করা দরকার। স্থানীয় গৃহিণী শংকরী বণিকের কথায়, নিকাশি, রাস্তা সবকিছুর সমস্যা রয়েছে। অনেকদিন ধরেই এগুলোর কোনও সংস্কার হয় না।

- Advertisement -

ওই ওয়ার্ডের প্রাক্তন সিপিএম কাউন্সিলার দূর্বা বন্দ্যোপাধ্যায়। সারা ওয়ার্ডজুড়ে তাঁর বেশ প্রভাব রয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তিনি ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। ২ নম্বর ওয়ার্ডের সমস্যার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, পুরসভায় সিপিএম ক্ষমতায় থাকার সময় ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়ন হয়েছিল। কিন্তু এখন ক্ষমতা তৃণমূলের হাতে। এলাকার উন্নতির জন্য পুরসভার কাছে মাঝেমধ্যে আবেদন করি। বিরোধী কাউন্সিলার হওয়ার জন্য আমার ওয়ার্ডকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই অভিযোগ অবশ্য খারিজ করে দিয়েছেন পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য সন্দীপ মাহাতো। তাঁর বক্তব্য, কোনও ওয়ার্ডকে বঞ্চিত করার অভিযোগ ভিত্তিহীন। সমান দৃষ্টিতেই শহরের ২৫ জন কাউন্সিলারকে দেখা হয়েছে।