দুর্ঘটনা এড়াতে ‘চায়ে সে কোশেস’ পুলিশের

0

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: একের পর এক গাড়ি আটকাল পুলিশ। তবে কাগজপত্র দেখতে নয়!  প্রশ্নের পর প্রশ্ন নয়!  সাতসকালে একের পর এক গাড়ি  আটকে চালকদের হাতে পুলিশ তুলে দিল গরম গরম চায়ের কাপ। কাউকে আবার চোখেমুখে ছিটানোর জন্য এগিয়ে দিল জল। আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট থানার অন্তর্গত রাঙ্গালিবাজনায়  বুধবার ভোর চারটে থেকে সকাল ছ’টা পর্যন্ত শ’য়ে শ’য়ে গাড়িচালককে চা পান করাল পুলিশ। এদের মধ্যে সিংহভাগই ট্রাকচালক। পুলিশ সূত্রের খবর, এদিন আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশের উদ্যোগে এশিয়ান হাইওয়েতে গাড়িচালকদের চা পান করানো হয়।

পাশাপাশি, ধীরগতিতে ও ট্রাফিক আইন মেনে গাড়ি চালানোর অনুরোধ করা হয় তাদের। পুলিশের বক্তব্য, শীতকালে কুয়াশার জন্য দৃশ্যমানতা কম থাকায় অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। তার ওপর ভোরবেলা অনেক গাড়িচালকই ঝিমুনি অনুভব করেন। চালক তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়াতেও অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটছে এশিয়ান হাইওয়েতে। তাই চা পান করিয়ে চালকদের ঘুম কাটাতে চেষ্টা করা হয়েছে।

- Advertisement -

পাশাপাশি, গাড়িচালকদের সচেতনতার বার্তাও দেওয়া হয়েছে। এদিনের ওই প্রচেষ্টা সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ কর্মসূচির অঙ্গ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাঙ্গালিবাজনার টোলপ্লাজায় এ  উপলক্ষ্যে উপস্থিত ছিলেন হাসিমারার ট্রাফিক ওসি বিজয় দে, আলিপুরদুয়ারের ট্রাফিক ইনস্পেক্টর জয়দীপ মোদক প্রমুখ।

হাসিমারার ট্রাফিক ওসি বিজয় দে বলেন,  ‘চার পাঁচদিন ধরে এশিয়ান হাইওয়ের বিভিন্ন জায়গায় এভাবে গাড়িচালকদের চা পান করানো হচ্ছে। কারণ শেষ রাত থেকে ভোরবেলা ঘুম বেশি পায়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। চা পান করলে ঘুম কেটে যায়।‘

হাইওয়ে তো নয়, যেন ‘ডেথ জোন’! আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাটের হলং থেকে বীরপাড়ার এথেলবাড়ি পর্যন্ত ৪৮ নং এশিয়ান হাইওয়ের প্রায় কুড়ি কিমি দীর্ঘ অংশটি সম্পর্কে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এমন ধারণাই পোষণ করছেন! ওই কুড়ি কিমি দীর্ঘ অংশটিতে ৩৮ মাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ জন। আহতের কোনো হিসেব নেই! লাগাতার জরিমানা ও সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান চালালেও দুর্ঘটনা রুখতে পুলিশের গাফিলতি আছে বলে অভিযোগ অনেকেরই।

প্রসঙ্গত, অনেক দুর্ঘটনার পেছনেই যানবাহনের বেপরোয়া গতি দায়ি বলে অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের। তাঁরা জানান, ৩১ সি জাতীয় সড়কটি এশিয়ান হাইওয়েতে রূপান্তরিত হওয়ার ফলে চওড়া হয়েছে অনেকটাই। ফলে, বেড়েছে যানবাহনের গতি। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দুর্ঘটনা।  এছাড়া যত্রতত্র বেআইনি পার্কিং এমনকি রাতবিরেতে পেছনের লাল বাতি না জ্বালিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের সাথে ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে অনেক মোটরবাইক চালক, ছোটো গাড়ি এমনকি ট্রাকচালকেরও।

পুলিশ সূত্রের খবর, অনেক সময় চালকদের ঝিমুনি ভাব আসাতেও দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান চালানোর পাশাপাশি শীতকালে চা পান করানো হচ্ছে যানচালকদের। এছাড়া, বেপরোয়া যানচালকদের জরিমানাও করা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় মাঝে মাঝেই লেজার স্পিডগান বসিয়ে চলন্ত গাড়ির গতি পরিমাপ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।