সংস্কারের অভাবে পুলিশ আবাসনের জরাজীর্ণ দশা

সৌরভকুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর : চার দশক আগে তৈরি হয়েছে। তারপর থেকে একবারের জন্যও সংস্কার হয়নি হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ আবাসনগুলির। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য যেসব পুলিশকর্মী বা আধিকারিকরা দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন, তাঁদের নিজেদেরই কোনও নিরাপত্তা নেই বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। জরাজীর্ণ পুলিশ আবাসনেই পরিবার নিয়ে অনেকে আতঙ্কে দিনযাপন করছেন। অনেকে আবার বাইরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকেন। পুলিশকর্মীদের এই সমস্যা মেটাতে যাতে দ্রুত আবাসনগুলি সংস্কার করা হয়, সেই দাবি উঠেছে। স্থানীয় পঞ্চায়েতের তরফেও কিছু সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের তরফে কেউ মুখ খুলতে চাননি।

করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের মাঝে থেকে বিগত ছয় মাস ধরে থানা এলাকার সাধারণ মানুষদের পাশে থেকে চলেছেন হরিশ্চন্দ্রপুরের পুলিশকর্মীরা। কিন্তু ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশকর্মীরাই তাঁদের পরিবার নিয়ে জরাজীর্ণ বিপদসংকুল আবাসনে দিনের পর দিন কাটাচ্ছেন। অতিবৃষ্টিতে এই আবাসনগুলিতে ঢুকে পড়ছে পার্শ্ববর্তী পুকুরের জল। থানার আবাসনের মাঠেও দীর্ঘদিন থেকে জল জমে থাকছে। বাড়ছে সাপের উৎপাত। কোনও আবাসন এতটাই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে যে, দেওয়ালে ইটগুলি খসে পড়ছে। কয়েকটি আবাসন দেখলে পুরোনো যুগের স্থাপত্য বলে মনে হয়। দেওয়াল থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। দেওয়ালে রং পড়েনি বহুকাল। এই পরিস্থিতিতে এলাকার আইন রক্ষা করার পাশাপাশি বিপদসংকুল পরিবেশেই পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশকর্তারা। অবিলম্বে এই আবাসন সংস্কারের দাবি তুলেছেন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, সরকারের উচিত আইনের রক্ষকদের আবাসনগুলি দ্রুত মেরামত করে দেওয়া, যাতে তাঁরা সেখানে পরিবার নিয়ে নির্ভয়ে থাকতে পারেন।

- Advertisement -

পুলিশ সূত্রে খবর, থানার পিছনে অফিসারদের জন্য চারটি পৃথক আবাসন রয়েছে। যেখানে পরিবার নিয়ে থাকেন অফিসাররা। এছাড়া রয়েছে চারটি পুলিশ ব্যারাক। এছাড়া কনস্টেবল, ফোর্সের জন্যও পৃথক ব্যারাক রয়েছে। এছাড়া সিভিক কর্মীদের জন্য রয়েছে বিশ্রামকক্ষ। থানায় আপাতত ১২ জন অফিসার, ১৩ জন কনস্টেবল, আটজন হোমগার্ড ও ছয়জন মহিলা কনস্টেবল রয়েছেন। বেহাল আবাসনের জন্য বেশ কয়েকজন বাইরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকেন। পুলিশকর্মীদের আবাসনের এমন বেহাল দশায় হতবাক স্থানীয়রাও। বাসিন্দা বাপি রায় বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ আবাসন বেহাল দশা হয়েছে। যাঁরা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করেন, তাঁদের পরিবার ওই আবাসনে প্রাণ হাতে করে দিন কাটাচ্ছে। একাধিক আবাসনের ঘরের ছাদ দিয়ে জল পড়ে। আবাসনের চারিদিকে প্রচুর জঙ্গল। সাপের উৎপাত। নিকাশিনালার অভাবে আবাসনের মাঠে জল বের হতে পারে না। বহুদিন বিল্ডিংগুলিতে রং পড়েনি। থানা থেকে আবাসনে যাওয়ার রাস্তাও প্রায় জলে ডুবে থাকে। নিকাশি ব্যবস্থা ও আবাসনের ভেতরের রাস্তাঘাট সংস্কারে স্থানীয় পঞ্চায়েতের উদ্যোগী হওয়া অবশ্যই প্রয়োজন।

স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষক বারিকুল ইসলাম বলেন, ব্রিটিশ আমলে তৈরি হওয়া হরিশ্চন্দ্রপুর থানা জেলার ঐতিহ্যবাহী থানাগুলির মধ্যে অন্যতম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি গত ছয় মাস ধরে পুলিশকর্মীরা করোনার বিরুদ্ধে সামনের সারিতে থেকে লড়াই করছেন। ওঁদের আবাসনের সমস্যা রয়েছে। সেটা দ্রুত মিটে গেলে খুব ভালো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশকর্মীদের পরিবারের কয়েকজন জানিয়েছেন, থানা চত্বরে আবাসনগুলি দেখলে হঠাৎ করে পরিত্যক্ত বাড়ি বলে মনে হবে। বেহাল আবাসনে সবসময় ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকতে হয়। মনে হয় কখন ছাদের চাঙড় খসে পড়ে মাথার ওপর। কয়েকজন পুলিশকর্মী জানান, রাতে ঘরে ফিরেও শান্তি নেই। জলকাদা পেরিয়ে আবাসনে ঢুকতে হয়। সেখানে সাপ, পোকামাকড় ঘুরে বেড়ায়। পার্শ্ববর্তী পুকুরের জলে প্লাবিত হয় থানা চত্বর।

এপ্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রিসবা খাতুন বলেন, আমরা ১০০ দিনের কাজ থেকে অবিলম্বে থানার ভেতরে মাঠের সংস্কার, নিকাশি ব্যবস্থা এবং ভেতরের রাস্তাঘাট সহ অন্য ছোটখাটো সংস্কারগুলি পঞ্চায়েত থেকে করে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। কিন্তু অন্য বিল্ডিংয়ে সংস্কারগুলি পঞ্চায়েত তের তরফ থেকে করা সম্ভব নয়। চাঁচল থানা বা মহকুমাস্তরের কোনও পুলিশ আধিকারিক অবশ্য বিষটি নিয়ে মুখ খুলতে চাননি। তবে জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, থানার আবাসন সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মাপজোখও করা হয়েছে। দ্রুত সংস্কার হবে।