করোনা পরিস্থিতিতে বরাত দেওয়ার পরও প্রতিমা না নেওয়ায় বিপাকে মৃৎশিল্পীরা

284

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ লকডাউনে এমনিতেই কয়েক মাস ধরে কাজ নেই। তার ওপর বরাত দেওয়ার পরও প্রতিমা না নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রায়গঞ্জের কুমারটুলির মৃৎশিল্পীরা।

বেশকিছু ক্লাব প্রতিমা বায়না দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত করোনা পরিস্থিতির কারণে পুজোর আয়োজন থেকে সরে আসে। কিন্ত মৃৎশিল্পীরা ইতিমধ্যে প্রতিমার কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছেন। দিন তিনেক আগে তাঁরা জানতে পারেন, এবারে ঘট পুজো সারবেন উদ্যোক্তারা। প্রতিমা নেবেন না। প্রায় ৭টি ক্লাব প্রতিমা বায়না দিয়েও শেষ পর্যন্ত না নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রায়গঞ্জের বেশ কয়েকজন মৃৎশিল্পী। এমনিতে করোনা পরিস্থিতিতে নুন আনতে পান্তা ফুরানো অবস্থা, তারমধ্যে প্রতিমা বায়না দিয়েও শেষ পর্যন্ত না নেওয়ায় তাঁদের মাথায় বাজ পড়ার মতো অবস্থা।

- Advertisement -

কাজ যাতে হাত ছাড়া না হয়ে যায় সেকারণে সামান্য টাকা বায়না নিয়ে বাজার থেকে চড়া সুদে লোন নিয়ে প্রতিমা তৈরি করে ফেলেছেন মৃৎশিল্পীরা। মৃৎশিল্পী হরিপদ পাল জানান, করোনার কারণে পুজো বাতিল করায় প্রতিমা বায়না দিয়েও শেষ পর্যন্ত নেয়নি। তিনদিন আগে ক্লাব সদস্যরা জানান, তাঁদের পুজো হচ্ছে না। সামান্য দেড় হাজার টাকার বায়না নিয়েই কাজ শুরু করেছিলাম। প্রতিমার কাজ প্রায় শেষের পথে, সেইসময় ফোন করে তারা জানায় এবার ঘট পুজো সারবেন। এমনিতে কয়েকমাস ধরে কাজ নেই তারপর তৈরি প্রতিমা না নেওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়তে হল।’

মৃৎশিল্পী রণজিৎ পাল জানান, করোনা কারণে দীর্ঘ লকডাউনের ফলে পুজো বাতিল করায় দুটো ক্লাব প্রতিমা বরাত দিয়েও শেষ পর্যন্ত নিল না। ফলে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হল। এজন্য কোনও ক্ষতিপূরণ কেউ দেবে না। জানিনা এই অবস্থা আর কতদিন থাকবে। মৃৎশিল্পী চিত্ত পাল জানান, দুটি বড় ও একটি ছোট প্রতিমা নেননি ক্লাবের সদস্যরা। করোনার কারণে দীর্ঘ লকডাউনে ক্লাবগুলি পুজো বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁরা প্রতিমা নেননি। এজন্য বিপুল টাকা ক্ষতি হল বলে জানিয়েছেন তাঁরা। তার জন্য কোনও অনুদানও তাঁরা পাননি।
মৃৎশিল্পী ভানু পাল জানান, অনেকে অল্প টাকায় প্রতিমা বরাত দেওয়ার পর শেষে বলছে প্রতিমা পছন্দ হয়নি। এমনিতে এবারে খুব সামান্য টাকা লাভ রেখে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। তারপর পছন্দ না হওয়ার বাহানায় আরও দাম কমিয়ে দিতে হয়েছে। ফলে এবার ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে শিল্পীদের। মৃৎশিল্পীদের দাবি, অধিকাংশ ক্লাব প্রথমে অল্প টাকার মধ্যে প্রতিমা বরাত দিয়েছিল, কিন্ত পরে রাজ্য সরকারের থেকে ৫০ হাজার টাকা পাওয়ার পর তাদের বাজেট বেড়ে যায়। তাই প্রথমে যে মাপের প্রতিমার বায়না তারা দিয়েছিল এখন পছন্দ হচ্ছে না। রায়গঞ্জের দু-একটি ক্লাব প্রতিমা পছন্দ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অবিক্রিত একটি রেডিমেড প্রতিমা কিনে নিয়ে যায় বলে তাঁদের দাবি।

এবছর একদিকে নেই প্রতিমার অর্ডার,অন্যদিকে প্রতিমার সরঞ্জামের বিপুল দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মৃৎশিল্পীরা এমনিতে বিপাকে, তারপর অর্ডার দিয়েও শেষ পর্যন্ত প্রতিমা না নেওয়ায় আরো বিপাকে তারা।কবে তারা লাভের মুখ দেখবে তা তাদের জানা নেই।