আকাশ ছোঁয়া সবজির দাম, মাথায় হাত মধ্যবিত্তের

340

দেবদুলাল সাহা, হরিশ্চন্দ্রপুর: লকডাউনের পর এলাকায় কাজ নেই। ভিনরাজ্য ফেরত শ্রমিকরা গ্রামীণ এলাকায় কাজ না পেয়ে কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তার মধ্যে বর্ষা শুরু হতেই বাজারে সবজির আকাল। তাই আকাশছোঁয়া হয়েছে বর্ষাকালীন সবজির পাশাপাশি অন্যান্য সবজির দামও। দিনমজদুরের পাশাপাশি মধ্যবিত্তদেরও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে আলু, পটল, ঝিঙে, উচ্ছে, টমাটো, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, কাঁচালঙ্কা, আদা, সজনে ডাটা ইত্যাদি সবজির দামও। সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে আলুর দাম।

জেলার সদর শহরের পাশাপাশি চাঁচল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুর, রতুয়া, চাঁচল থানার গ্রামীণ এলাকাতেও সবজির বাজার অগ্নিমূল্য। রবিবার রতুয়া  ও ভালুকার  দৈনিক বাজারে সাধারণ আলু ৩০ টাকা কেজি। এছাড়াও পটল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, উচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙে ৩০ টাকা থেকে ৪০  টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা কেজি, কাঁচালঙ্কা ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা কেজি, ঢেঁড়স ৩০ টাকা, লাউ ও কুমড়ো ৩০ টাকা কেজি, আদা ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিকোচ্ছে।

- Advertisement -

এদিন কথা হল রতুয়ার বাসিন্দা মন্টু দাস, জাহাঙ্গীর আলমদের সঙ্গে। তাঁরা জানান, ‘লকডাউনের কারণে মানুষ কাজ হারিয়েছে। এলাকায়  রোজগার নেই। অথচ বাজারে শাকসবজির দাম আকাশছোঁয়া। হাত দেওয়া মুশকিল। আমাদের মত সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষের পক্ষে সবজি বাজারে সবজি কিনতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে। বিশেষ করে আলুর দাম। গত কয়েক বছরে এভাবে আলুর দাম বাড়তে দেখা যায়নি।

এভাবে আলুর দাম বাড়লে আগামী এক দুই মাসে হয়ত ৫০ টাকা কেজি আলু কিনতে হবে। অথচ আলুর মরশুমে আলু চাষীরা আলুর দাম পাচ্ছি না বলে রাস্তায় আলু ফেলে বিক্ষোভ দেখায়। ওই সময় জলের দরে কুইন্টাল প্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে আলু বিক্রি করত চাষীরা। এখন সেই আলুর দাম হঠাৎ করে ৩০ টাকা কেজি দরে বিকোচ্ছে। ঘরে ঘরে প্রতিদিন রান্নাতে আলু লাগে।

অথচ এতো চড়া দামে আলু কিনে আমাদের মতো স্বল্প আয়ের সংসারে কুলোবে কী করে! বর্তমানে তেমন রোজগার নেই। অথচ বাজারে সবজি কিনতে নাভিশ্বাস উঠছে। তাছাড়া বাজারে  মাছের দামও আগুন। কী খাবো তা ভেবে উঠতে পারছি না। অন্যদিকে, হরিশ্চন্দ্রপুর থানার ফতেপুর গ্রামের অনুপ মন্ডল, সুভাষ মন্ডলরা জানান, ‘এলাকায় কাজকর্ম নেই, ক্ষেতমজুরি সব বন্ধ।

সরকার থেকে যেটুকু চাল ব়্যাশনে পায় তা দিয়ে চার পাঁচ সদস্যের সংসার চলবে না। তবুও অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। শুধু চাল সেদ্ধ  খেয়ে বেঁচে থাকা যাবে না তার সঙ্গে ডাল, সবজি মশলাপাতির প্রয়োজন। অগ্নিমূল্যের বাজারে সবজিতে হাত দেওয়া মুশকিল। সবজি বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে। সবজির বদলে বেশিরভাগ দিন পাট বা কচুর শাক খেয়ে বেঁচে আছি।

হরিশ্চন্দ্রপুরের পাইকারি  সবজি বিক্রেতা সামসুদ্দিন সবজি জানান, ‘গাজোল, রায়গঞ্জ সবজি আড়ত থেকে লরিতে করে হরিশ্চন্দ্রপুরের পাইকারি বাজারে সবজি বিক্রি করি। সবজির আড়তেই সবজির আমদানি কম। যেটুকু আমদানি হচ্ছে তা চড়া দামে কিনে হরিশ্চন্দ্রপুর, গোবরা ও ভালুকা পাইকারি বাজারে বিক্রি করছি। লাগাতার বৃষ্টির কারণে সবজির ফলন কমেছে। তাই চড়া দামে বিকোচ্ছে।

এছাড়াও আলুর দাম বেশি বলে খুচরো বাজারেও আলুর দাম আকাশছোঁয়া। ভালুকা দৈনিক বাজারের খুচরো সবজি বিক্রেতা মানিক দাস,পান্ডব ঘোষরা জানান, সবজির চড়া দাম থাকায় দোকানে আগের তুলনায় বিক্রিবাট্টা কমেছে।