সবজির দাম আকাশছোঁয়া, বিপাকে সাধারণ মানুষ

237

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: এক সপ্তাহের মধ্যে রায়গঞ্জে শাক সবজির দাম পাঁচ থেকে ছয় গুন বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের হাত পুড়ছে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে লঙ্কা, পটল সহ লোকাল সবজির দাম বৃদ্ধিতে ক্রেতাদের কাছে বিক্রেতাদের জবাব দিহি করতে হচ্ছে। লাগাতার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বাজারে আমদানি কমে গিয়েছে। ফলে পাইকারি বাজারগুলিতে গিয়ে সঙ্কটে পড়ছেন খুচরো বিক্রেতারা। দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা বাজারে গিয়ে আর ইচ্ছে মতো সবজি কিনতে পারছেন না।

কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে সবজির খেতগুলি জলে ভরে গিয়েছে।ফলে চাষীরা সবজি খেতে ঢুকতে পারছে না। বাজারগুলিতে আমদানি নেই বললেই চলে। এই সুযোগে সবজির দাম বেড়ে আকাশছোঁয়া। পরিস্থিতি বদল না হলে লোকাল সবজির বাজার দর আরো কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি খুচরো সবজি ব্যবসায়ীদের।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানরা জানিয়েছেন, লাগাতার বৃষ্টিতে বেশকিছু সবজি ও লঙ্কার খেত তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন মার খাচ্ছে। ফলে কাচা লঙ্কা, পটল, ঢেরশ, করলা, ঝিঙ্গে সহ বিভিন্ন লোকাল শাক সবজির দাম অনেকটাই বেড়েছে।

রায়গঞ্জের মোহনবাটি, দেবীনগর, বন্দর, রাসবিহারী মার্কেট সহ বিভিন্ন বাজারগুলিতে কাচা লঙ্কা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।গত স প্তাহে ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। আজ ঝিঙে, পটল, করলা, ঢেরশ খুচরো বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা প্রতি কেজি। অথচ গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি। আলু ২৫ টাকা, পেঁয়াজ ২০ টাকা কেজি দরে আজ বিক্রি হয়েছে। লোকাল টমেটো আজ বাজারে দেখা যায়নি। ফলে চালানি টমেটো আজ ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

তিন দিন আগে ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে বাজারগুলিতে।বাজার করতে আসা অরিন্দম কুন্ডু নামে এক ক্রেতা জানান, এক সপ্তাহ আগে ব্যাগ ভরে বাজার করেছি। কিন্ত আজ ব্যাগের হাফটা ভরেছে।কাচা লঙ্কা,পটল,করলা,ঝিঙে,টমেটো সহ বিভিন্ন শাক সবজির দাম কয়েকগুন বেড়েছে।ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন বৃষ্টির জন্য বাজারে সবজি আসছে না।অথচ দেখছি বাজারে ভালোই আমদানি হয়েছে।আরেক ক্রেতা কার্তিক সাহা জানান,এমনিতেই আয় নেই।তার ওপর এতটা বেড়েছে সবজির দাম।

ফলে আলু আর পেঁয়াজ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে।এদিন রায়গঞ্জ শহরে যারা পাড়ায় পাড়ায় ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করেন তারা দাম চড়িয়েছে আরো বেশি।কাচা লঙ্কা ১০০ টাকা, পটল,ঝিঙে, ঢেরশ ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং আলু ও পেঁয়াজ ৩০ টাকা দরে বিক্রি করেছে।রায়গঞ্জের সবজি বিক্রেতা প্রসেঞ্জিৎ দাস জানান,পাইকারি বাজারে আমদানি নেই।সেকারনে খুচরো বাজার গুলিতে দাম বেশি।সবজি খেত গুলিতে জল ঢুকে পড়ায় সবজি তোলা যাচ্ছে না।সেকারনে সবজির দাম বেড়েছে। সবজি বিক্রেতা সন্তোষ সাহা জানান,আমাদের কি করার আছে।বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তবে লাগাতার বৃষ্টি লেগে থাকলে দাম আরো বাড়বে। দেবীনগর বাজার সমিতির স ম্পাদক দীপঙ্কর প্রামাণিক বলেন,বৃষ্টির জন্য বাজারে আমদানি কমে যাওয়ায় দাম কিছটা বেড়েছে।আমরা ব্যবসায়ীদের বলে দিয়েছি অতিরিক্ত দাম যেন কেউ না নেন। রুপাহার, দুর্গাপুর,কমলাই,রাড়িয়া,শ্যামপুর,জয়নগর,পিপ লান গ্রাম থেকে প্রতিদিন প্রচুর সবজি মোহনবাটি ও দেবীনগর বাজারে আসে। কিন্ত বৃষ্টির কারনে তা আসছে না।ফলে হাত পুড়ছে গরিব নিম্নমধ্যবিত্তদের।

চড়া দামে মাল কেনায় খুচরো ব্যবসায়ীদের কম লাভ হচ্ছে। অনেকের মাল বিক্রি না হওয়ায় খালি পকেটেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। ১২ নং বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ধর্মেশ্বর বর্মন, ৯ নং গৌরি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তৈয়ব আলি জানান, লাগাতার বৃষ্টির জন্য সবজি খেত গুলিতে জল জমে গিয়েছে। ফলে সবজি তুলতে পারছেন না চাষীরা।অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চাষীরা। ব্লকের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হবে।