পাইপলাইনের কাজ শেষ করতে পারেনি পূর্ত দপ্তর

624

শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার: নির্ধারিত সময়ের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার জন্য পাইপলাইনের কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি পূর্ত দপ্তর। গতবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কবে কাজ শেষ হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তা মোকাবিলা করার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে পাইপলাইন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হলেও সেই কাজ এখনও শেষ হয়নি। পূর্ত দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার গৌতম চক্রবর্তী বলেন, বিদ্যুতের কিছু কাজ বাকি রয়েছে। বাকি কাজ প্রায় শেষের পথে। আশা করছি, দ্রুত সমস্ত কাজ সম্পন্ন হবে। কোচবিহার মেডিকেলের এক আধিকারিক জানান, পূর্ত দপ্তর যাতে দ্রুত প্রকল্পটি সম্পন্ন করে, সেই আবেদন জানানো হয়েছে। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। কোচবিহার মেডিকেলেও এর আগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হয়েছে।

গতবছর ২৯ অগাস্ট সকালে কোচবিহার মেডিকেলের মাতৃমার দোতলায় ইলেক্ট্রিক প্যানেল রুমে আগুন লেগে যায়। বেশ কিছু সামগ্রী আগুনে পুড়ে যায়। তার আগেও হাসপাতালে একাধিকবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তাই সুরক্ষা বাড়াতে রিজার্ভার ট্যাংক ও পাইপলাইনের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি তুলেছেন রোগীর আত্মীয়রা। হাসপাতালের কোথাও অগ্নিকাণ্ড হলে সেখানে বসানো রিজার্ভার থেকেই যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পৌঁছে যায় সেজন্য কয়েক বছর আগে থেকেই একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। হাসপাতালের এমআরআই সেন্টারের পাশে একটি রিজার্ভার তৈরি করা হয়েছে। হাসপাতাল জুড়ে পাইপলাইন বসানো হয়েছে। কিন্তু এখনও বৈদ্যুতিক কিছু কাজকর্ম ও হোসপাইপ বসানোর কাজ বাকি রয়েছে।

- Advertisement -

জেলা হাসপাতাল থেকে মেডিকেল কলেজে উন্নীত হওয়ার পর দূরদূরান্তের বহু রোগী প্রতিদিনই এখানে ভিড় করেন। বর্তমানে করোনা সংকটের জন্য রোগীর সংখ্যা কিছুটা কম হলেও হাসপাতালের কর্মী, আধিকারিক, রোগী ও তাঁদের আত্মীয় মিলিয়ে এখনও প্রচুর মানুষের ভিড় হয়। আগুন লাগলে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেজন্য জলের রিজার্ভার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পূর্ত দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ৭৫ হাজার লিটার জল সেই রিজার্ভারে মজুত থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যাওয়া এক রোগীর আত্মীয় সমীর সরকার বলেন, অনেকদিন ধরে দেখছি হাসপাতালের দেওয়ালে লাল রংয়ের মোটা পাইপ বসানো রয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার বাকি কাজও সম্পন্ন করা হোক। আরেক রোগীর আত্মীয় গোপাল দাস বলেন, এর আগে হাসপাতালে আগুন লেগেছিল। সেই ঘটনার কথা মাথায় রেখে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিকঠাক রাখা উচিত।