রাজ্য বেসরকারিকরণের বিরোধী নয়, তবে অস্ত্র কারখানা নয়: দোলা সেন

133

কলকাতা: রাজ্য সরকার বেসরকারিকরণের বিরোধী নয়। তবে অস্ত্র কারখানা সহ অতি লাভজনক সংস্থাকে বেসরকারিকরণ করার বিরোধী। অন্যান্য দিনের মতো এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন। আর সেখানেই তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। সেই সঙ্গে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রশংসাও করেন। তাঁর মতে, পাড়ায় পাড়ায় সমাধানে ভালো কাজ হচ্ছে। দুয়ারে সরকারের কাজও ভালো হয়েছে। আর এরফলে ইউনিসেফ ও বিশ্ব ব্যাংক এই কাজের প্রশংসা করেছে। শুধু তাই নয় বিশ্বের দরবারে মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পগুলি অভিনব প্রকল্প বলে স্থান পেয়েছে।

সেসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অন্তবর্তীকালীন বাজেটে পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, প্রতিবছর দু’বার করে দুয়ারে সরকার ও পাড়ায় পাড়ায় সমাধান কর্মসূচি গৃহীত হবে। আর সেই দুটি ধাপ হল অগাষ্ট থেকে সেপ্টেম্বর এবং ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি।‘ আর মাঝের সময়গুলি বাদ দেওয়ার মূল কারণ হিসেবে তিনি বলেন বলেন, ‘মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক সহ বিভিন্ন পরীক্ষা যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে শারদীয়া, দেওয়ালি, ঈদ, মহরম সহ বিভিন্ন পুজো ও উৎসব। তাই সেই সময়কে থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।‘

- Advertisement -

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য সাথী কার্ড হল সবচাইতে ভালো প্রকল্প। সে ব্যাপারে নিজের মতামত তুলে ধরেন।‘ তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করেছেন তিন বছর অন্তর এই কার্ড পুনর্নবীকরণ করা হবে।‘ বিরোধীরা স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়ে যে অপপ্রচার করছে তাকে পাত্তা না দিয়ে তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী এই স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের জন্য বাজেটে দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। সুতরাং এনিয়ে কোনো বিতর্কের স্থান নেই।‘

এদিন তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে বলেন, ‘কেন্দ্র রেল থেকে ভেল সমস্ত বিক্রি করে দিচ্ছে।‘ তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় সরকার হল দেশকে বিক্রি করে দেওয়া সরকার। তিনি অভিযোগ তোলেন, দেশে যে ৪২টি অস্ত্র কারখানা আছে তাঁর ৭৪ শতাংশ কর্পোরেটদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এর ফলে দেশের নিরাপত্তা সুরক্ষিত নয় বলেই তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, ‘যে নবরত্নের জন্য ভারতবাসী হিসেবে আমরা গর্বিত ছিলাম আর্থিক ঘাটতি পূরণের জন্য সেই নবরত্নকে ২ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। আর সেই বিক্রির তালিকায় রয়েছে ২৩টি অতি লাভবান সংস্থা।’ শুধু তাই নয় বিক্রির তালিকায় আরও অনেক সংস্থা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া কয়লায় ১০০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগের যে সিদ্ধান্ত কেন্দ্র সরকার নিয়েছে তাঁর তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রেলমন্ত্রী ছিল তখন তিনি বিভিন্ন রুগ্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে বাঁচাতে তৎপর হয়েছিলেন। আর বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার কোন শিল্পকে বাঁচাতে তৎপরে নয়, বরঞ্চ লাভজনক সংস্থাগুলিকে বিক্রি করে দিচ্ছে। তাঁর মতে এই চৌকিদারের হাতে দেশ কখনো সুরক্ষিত থাকতে পারে না।‘