দশমীর দিনে চন্ডীরুপী দুর্গা পুজোয় আনন্দে মাতলেন খাদিমপুর গ্রামের বাসিন্দারা

294

হেমতাবাদ: বিজয়া দশমীতে একদিকে যখন বাংলা জুড়ে দশ ভুজার বিদায়ে বিষাদের ছায়া, সেই সময় হেমতাবাদের পাশে ১৪ নম্বর কমলাবাড়ি অঞ্চলের খাদিমপুর গ্রামের বাসিন্দারা চন্ডীরুপী দুর্গা পুজোয় মাতলেন। দশমীর দিন থেকে গোটা গ্রামে দেখা গেল  উৎসবের আমেজ। দুর্গা পুজোকে কেন্দ্র করে আনন্দে মেতে উঠেছে  গ্রামের আট থেকে আশি সকলেই। একাদশীতে দেখা গেল মন্ডপে চলছে পুজো পাঠ ও অঞ্জলি। মূলত রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষের উদ্যোগে এই পুজো।

কমলাবাড়ি হাট ছাড়িয়ে দক্ষিণ দিকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে এই খাদিমপুর গ্রাম। গ্রামের রাস্তাঘাট কাঁচা। গ্রামে সমস্যা অনেক। কিন্তু পুজো আসলেই সমস্ত দু:খ কষ্ট ভুলে সকলে শামিল হন এই পুজোয়।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ ব্লকের ১৪ নম্বর কমলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের খাদিমপুর গ্রামে প্রায় চার বিঘা জমির প্রাচীন একটি বট গাছের তলায় গ্রামবাসীরা একবছর গড়ে তুলেছেন মন্দির। সেই মন্দিরে মা দুর্গা পুজিত হচ্ছেন। গ্রামের মানুষ এই পুজোকে বলাইচন্ডীর পুজো বলেন।

প্রতি বছরের মত এবারও দশমীর দিন সন্ধ্যায় দেবীর পুজো শুরু হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনভর চলে পুজো পাঠ ও অঞ্জলি। গ্রামের মহিলারা পুজোয় অংশ নিয়েছেন। তবে মন্দিরে ঢোকার আগে প্রত্যেককে মাস্ক পড়ার পাশাপাশি স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হচ্ছে।

রীতি মেনে এবারও পুজোয় পাঠা বলি হয়। তবে এবারে তুলনামূলক কম। দশমীর দিন দেবীকে সোনা ও রুপার গয়না দিয়ে সাজানো হয়। খাদিমপুর গ্রামের বাসিন্দারা দুর্গা পুজা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। কারণ গ্রামের মানুষ এই পুজোয় আনন্দে মাতেন। দশমীর দিন থেকে তারা নতুন জামাকাপড় পড়েন। পরিবারের মঙ্গল কামনার জন্য পুজোর দিনে খাদিমপুর গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে চলে নিরামিষ খাওয়া দাওয়া। দ্বাদশীর দিন প্রতিবছর মেলা বসলেও এবছর করোনার কারণে প্রশাসনের নির্দেশে মেলা বন্ধ রেখেছে খাদিমপুর গ্রামের মানুষ।

পুজো কমিটির সভাপতি ভাদরু বর্মণ জানান, খাদিমপুর বারোয়ারি পুজো কমিটির উদ্যোগে এখানকার পুজো হয়। আমাদের তিন পুরুষ ধরে এই পুজো হয়ে আসছে। তাই কবে থেকে পুজো হচ্ছে বলতে পারবো না।

দেবী দুর্গা এখানে মা চন্ডী রূপে পূজিতা হন। তবে দেবী দুর্গার সঙ্গে এখানে মহিষ, অসুর কেউই থাকেনা। নিয়ম মেনে দশমীর দিন  এবারে পুজো হলেও করোনা ভাইরাসের কারণে শুধুমাত্র মেলা হচ্ছে না। প্রত্যেকে মাস্ক পড়ে মন্দিরে প্রবেশ করতে পাচ্ছেন। তিনি বলেন, পুজোয় প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ শামিল হয়েছিলেন। মা বলাইচন্ডী রূপী দুর্গার কাছে ভক্তরা নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো দিলে ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয় এমনই এলাকার বাসিন্দাদের বিশ্বাস।

মন্দিরে পুজো দিতে আসা জয়ন্তী বর্মণ নামে এক গ্রামবাসী জানান, বিয়ে হয়ে আসার পর এখানকার পুজোয় শামিল হচ্ছি। এই মায়ের প্রতি আমাদের আলাদা বিশ্বাস। তবে এবছর করোনার কারণে আমাদের অনেক বিধিনিষেধ মেনে চলতে হচ্ছে। তাই এবারে মেলা বন্ধ রেখেছেন গ্রামবাসী।

আনুমানিক ৩০০ বছরের বেশি সময় ধরে মা বলাইচন্ডী রূপে এখানে দেবী দুর্গা পূজা হয়ে আসছে। দশমীর দিন সন্ধ্যা থেকে পুজো শুরু হয় এবং অধিক রাত পর্যন্ত চলে পুজো। সারা বছর মন্দিরে প্রতিমা রেখে মায়ের পুজো করেন গ্রামবাসীরা। পুজোর আগে বিসর্জন দেওয়া হয়। সারাবছর গ্রামের মানুষ এই পুজোর জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। বলাইচন্ডী রূপী মা দুর্গার প্রতিমা দেখতে রায়গঞ্জ ও হেমতাবাদ ব্লকের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ ভিড় করেন দশমীর রাতে।