আতঙ্কে দিন কাটছে শ্রমিক পরিবারগুলির

251

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: লকডাউন শুরু হতেই দেশের নানা প্রান্তরে আটকে পড়েছেন রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। স্বাভাবিক ভাবে আতঙ্কের মাঝে সংসারের একমাত্র রোজগেরে মানুষটি দূরে থাকায় অনটন, অনিশ্চয়তা-ভয়ে দিন কাটছে গ্রামের বাড়িতে থাকা পরিবারের বাকি সদস্যদের। রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর জেলার কয়েক হাজার শ্রমিক মুম্বাই, দিল্লি, পঞ্জাবে আটকে আছেন। এরফলে রায়গঞ্জ ব্লকের ৭ নম্বর শীতগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের পানিশালা, ডাঙ্গিপাড়া, কৃষ্ণমুড়ি, বিন্দোল, ভাটোল, জগদীশপুর, শ্যামপুর সহ একাধিক গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারে শুরু হয়েছে হাহাকার। গ্রামপঞ্চায়েত, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বরা মাঝে মধ্যে খাদ্য সামগ্রী দান করলেও টানা লকডাউনে তা যৎসামান্যই।

এদিকে বাড়ির বড়দের পাশাপাশি ছোটরাও ব্যাকুল হয়ে পড়েছেন দাদা-কাকা-বাবাদের জন্য। সব মিলিয়ে পরিযায়ী শ্রমিক পরিবার গুলি আতঙ্কের মাঝে দিন কাটাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে গৃহিনী রোশনারা, সেরেজা খাতুনেরা সুদে টাকা নিয়ে রায়গঞ্জ থেকে হাজার মাইল দূরে দিল্লি, মুম্বাই, হরিয়ানা কিংবা পাঞ্জাবে পরিবারের একমাত্র রোজগেরে মানুষটিকে পাঠাচ্ছেন। পানিশালার গ্রামের রোশনা খাতুন বলেন, লকডাউনের কারণে ভিন রাজ্যে আটকে রয়েছে পরিবারের একমাত্র রোজগেরে মানুষটি। এদিকে নিজেরা আর্থিক সমস্যার মধ্যে থাকলেও তাঁদের খাবারের জন্য টাকা পাঠাতে হচ্ছে। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে দু একদিন চাল ও আলু দিলেও এখন আর কিছুই পাচ্ছি না। স্বামী সন্তানদেরও ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছ এ না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

- Advertisement -

সেরেজা খাতুন বলেন, যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় কেউই বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। সরকার ফেরানোর ব্যবস্তা করবে কিনা সেটাও বুঝে উঠতে পারছেন না। পানিশালা গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক খলিল উদ্দিন সরকার বলেন,পাঞ্জাব,দিল্লী, হরিয়ানা থেকে প্রতিদিন ফোন আসছে। গ্রামের বহু মানুষ সেকানে আটকে রয়েছে। তাঁদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কিছু করতে পারছি না। স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের জানালেও কোনও কাজ হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। শীতগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নবকুমার বর্মন বলেন, ভিন রাজ্যের আটকে পড়াদের ঘরে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। রাজ্য সরকার প্রতিটি পরিবারকে নিয়মিত র‍্যাশন দিচ্ছে। কিন্তু এলাকার কংগ্রেস ও সিপিএম নেতৃত্ব গ্রাম পঞ্চায়েতের ভূমিকায় খুশি নয়। তাঁদের অভিযোগ, এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে পঞ্চায়েত কোনও চেষ্টা করছে না।