রতুয়ায় ফুলহরের গ্রাসে যাচ্ছে জমি

দেবদুলাল সাহা, রতুয়া : করোনার পর এবার ভাঙনের আতঙ্কে প্রহর গুনছেন রতুয়া থানার ফুলহর নদী সংলগ্ন বিলাইমারি ও মহানন্দটোলার গঙ্গারামটোলা, রামায়ণপুর, রুহিমারি, বঙ্কুটোলা, নাককাট্টি ও বাজিতপুর এলাকার বাসিন্দারা। গত ২৪ ঘণ্টায় ওই সব এলাকায় যে হারে ফুলহরের ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে আগামীতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে বেশ কিছু এলাকা।

গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গারামটোলার আশিস মণ্ডলের ফুলহর নদী সংলগ্ন চার বিঘা আমবাগানের মধ্যে ১০ কাঠা নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দা বরুণ দাস নামে এক চাষি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নদী ভাঙনে প্রায় দেড় কাঠা ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। জমিতে পাট, ভুট্টা লাগিয়েছি। সেগুলিও ফুলহরের গ্রাসে চলে যাচ্ছে। বুধবার থেকে যে হারে ভাঙন চলছে, তাতে আমার তিন বিঘা ফসলি জমি রক্ষা করা যাবে না। একই বক্তব্য বঙ্কুটোলার শ্যামবিহারী যাদবেরও। তিনি বলেন, নদীর জল বাড়ার পাশাপাশি ব্যাপকহারে ভাঙন চলছে। এবারের ভাঙনে আমার পাঁচ কাঠা ভুট্টা ও পাটের জমি নদীগর্ভে। লকডাউনে কাজকর্ম হারিয়ে ধারদেনা করে ১০ বিঘা জমিতে পাট ও ভুট্টা চাষ করেছিলাম। নদী ভাঙনে কোনও ফসল তুলতে পারব না বলে মনে হচ্ছে। ফসল তোলার আগেই  সব নদী গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে। অথচ এনিয়ে এখনও কোনও হেলদোল নেই সেচ দপ্তরের।

- Advertisement -

কয়েকদিন ধরে নদী ভাঙনের পাশাপাশি বেড়ে চলেছে ফুলহর ও গঙ্গা নদীর জলস্তরও। সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ফুলহরের জলস্তর বেড়েছে ৭৮ সেন্টিমিটার। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ফুলহরের জলস্তর ছিল ২৫.৭৮ মিটার। অন্যদিকে, সেই সময় পর্যন্ত গঙ্গার জলস্তর ছিল ২২.২৫ মিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গার জলস্তর বেড়েছে ২৫ সেন্টিমিটার। আপার ক্যাচমেন্টে প্রবল বর্ষণে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ফুলহর ও গঙ্গা নদীর জল। আগামী কয়েকদিন ধরে এই জলস্তর বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সেচ দপ্তর। কারণ, আপার ক্যাচমেন্টের জল আগামী কয়েকদিন ধরে সমতলে নামতে থাকবে। তবে এই মুহূর্তে বন্যা পরিস্থিতির কোনও সম্ভাবনা নেই। বৃষ্টির প্রকোপ কমলেই আবার নদীগুলির জলস্তর নেমে যাবে বলে সেচকর্তাদের দাবি।

সেচ দপ্তরের মহানন্দা এমব্যাংকমেন্ট ডিভিশনের নির্বাহী বাস্তুকার বদিরুদ্দিন শেখ জানান, রতুয়ায় ফুলহর নদীর অসংরক্ষিত এলাকায় বেশ কিছু পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়েছে বলে আমাদের কাছে খবর আছে। তবে এই মুহূর্তে ওই এলাকায় ভাঙন রোধের কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। নদীর জল যে হারে বাড়ছে তাতে ভাঙন রোধের কাজে ব্যবহৃত সব কিছু নদীতে তলিয়ে যাবে। নদীর জলস্তর আরও বাড়লে ভাঙনের প্রকোপ কমবে।