বৈষ্ণবনগর : প্রায় ১৩ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে ফেরিঘাট। ফলে চূড়ান্ত সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতে দ্রুত বৈষ্ণবনগরের শিবপুর ফেরিঘাট চালুর দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। তবে ঘাটোয়ালের দাদাগিরির জেরে মাঝিরা কাজ করতে নারাজ। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে গোরু পাচারের জন্য মাঝিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে ঘাটোয়াল। মাঝিরা এই অবৈধ কাজ করতে না চাওয়ায় ঘাটোয়াল হুমকি দিচ্ছে। নিরাপত্তার অভাবের অভিযোগ তুলে বিডিওর দ্বারস্থ হয়েছেন মাঝিরা। সমস্যার কথা জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে বলে জানান কালিয়াচক-৩-এর বিডিও গৌতম দত্ত।

গঙ্গা পারাপারের জন্য শিবপুরে একটি ফেরিঘাট রয়েছে। কালু মহালদার নামে এক ব্যক্তি এই ফেরিঘাটের লিজ পেয়েছেন। শোভাপুর, পারদেওনাপুর, বাখরাবাদ, দৌলতপুর এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে প্রতিদিন এই ঘাট পার করেই যেতে হয় ধূলিয়ান শহরে। হাটবাজার থেকে শুরু করে বিয়ের বাজার করতে অনেকেই ধূলিয়ানে যান। অনেককে আবার পড়াশোনার জন্যও যেতে হয় প্রতিবেশী জেলা মুর্শিদাবাদের এই শহরে।

অভিযোগ, ঘাট পারাপারের জন্য ঘাটোয়া কালু মহালদার অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকেন। যাত্রীরা সঙ্গে করে কোনো সামগ্রী নিয়ে গেলেও তার জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ। দাবিমতো টাকা না মিললেই ওই ঘাটোয়াল যাত্রীদের মারধর পর্যন্ত করেন বলে দাবি অনেকের। সম্প্রতি কোনো একটি কারণ নিয়ে মাঝিদের সঙ্গে ঘাটোয়ালের বিবাদের জেরে শিবপুর ফেরিঘাট বন্ধ করে দিয়েছেন ঘাটের লিজ নেওয়া ঘাটোয়াল কালু মহালদার। ফলে ১৩ দিন ধরে শিবপুর ফেরিঘাট দিয়ে যাত্রী পারাপার বন্ধ হয়ে রয়েছে। বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় মানুষজন। এমনকি কাজ না থাকায় সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে মাঝিদের। কোনোভাবেই সমস্যা না মেটায় এলাকার সকলে মিলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কোনো কাজ হয়নি। তাই শুক্রবারেই ফেরিঘাটে বিক্ষোভ দেখান ঘাটের মাঝি ও গ্রামবাসীরা।

গ্রামবাসী রতন সরকার, জামিরুল শেখদের অভিযোগ, যাত্রীদের ওপর যেভাবে অত্যাচার চালানো হচ্ছে তা মেনে নেওয়া যায় না। ঘাটে সরকারের দেওয়া ভাড়ার কোনো তালিকা নেই। ফলে ঘাটোয়াল নিজের ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করে চলেছেন। এদিকে ঘাটের মাঝি রেমান শেখ, নজরুল শেখ, রাজেশ আলিদের অভিযোগ, প্রায় ১৩ দিন থেকে ঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সংসারের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। নৌকো চালিয়ে আমাদের সংসার চলে। বাপদাদার আমল থেকে আমরা নৌকো চালাই। কিন্তু কালু মহালদার যখন থেকে ঘাটের লিজ পেয়েছে, তখন থেকে প্রায়ই অন্যায় অবিচার হয়ে চলেছে। আমরা সকলেই দিশেহারা হয়ে পড়েছি। বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য গোপাল হোসেন বলেন, কয়েকদিন ধরে ঘাট বন্ধ থাকায় এলাকার মানুষ সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মাঝিরাও। আমরা গ্রামের মানুষ মাঝিদেরকে নিয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি। তার পরেই একদিন বিডিও এসে ঘাটটি দেখে গিয়েছেন। সমস্যার সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন। বিডিও গৌতম দত্ত বলেন, মাঝি ও গ্রামের মানুষজন ঘাটের সমস্যার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমি সেই ঘাটে গিয়ে দেখে এসেছি। কয়েকদিন ধরে ঘাটটি বন্ধ রয়েছে। গ্রামবাসীদের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমি বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। আশা করি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।