সৌভাগ্যের নদী তোর্ষা এখন দুর্ভাগ্যের কারণ

তুষার দেব, দেওয়ানহাট : তোর্ষা নদীর দৌলতেই গ্রামে অভাব ঘুচে স্বাচ্ছন্দ্য এসেছিল। সেই নদীই এবার সবকিছু কেড়ে নিয়ে পথে বসাতে চলেছে। তাই কোচবিহার-১ ব্লকের ডাউয়াগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ভজনপুর, কুনিডাঙ্গা ও আমবাড়ি মৌজায় এখন শুধুই হতাশা আর উদ্বেগের ছবি। তোর্ষা নদীর ভাঙনের ফলে কলাগাছ সহ প্রায় পাঁচশো বিঘা জমি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। তারপরও নদীর বিরতি নেই, রোজই বাড়ছে ভাঙনের পরিমাণ। নদীভাঙনের কবল থেকে গ্রামকে রক্ষা করতে স্থানীয় বাসিন্দারা এখানে তারজালি ও বোল্ডারের পাড়বাঁধ তৈরির দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসন এক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে।

তোর্ষা নদীর ডানদিকের ভজনপুর, কুনিডাঙ্গা ও আমবাড়ি মৌজার সিংহভাগ বাসিন্দা কৃষিজীবী। নদী সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তাঁরা মূলত কলা চাষ করেন। কয়েকবছর ধরে আধুনিক প্রযুক্তিতে কলা চাষ করে এখানকার অর্থনীতি আমূল বদলে ফেলেছেন চাষিরা। স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে তাঁদের জীবনযাত্রায়। কিন্তু গতিপথ বদলে নদী ধীরে ধীরে গ্রামের দিকে এগিয়ে আসায় তাঁদের চিন্তা বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ এখানে একশো দিনের প্রকল্পে মাটির বাঁধ তৈরি করেছে। কিন্তু তাতে চলতি বর্ষায় নদীভাঙন রোধ করা যায়নি। ইতিমধ্যে ওই বাঁধ সহ প্রায় পাঁচশো বিঘা জমি গ্রাস করেছে তোর্ষা।

- Advertisement -

ভজনপুর মৌজার বাসিন্দা জনৈক মকবুল মিয়াঁ প্রথম সারির কলাচাষি হিসেবে পরিচিত। তাঁর প্রায় ৬৭ বিঘা জমি নদীগর্ভে গিয়েছে। হতাশার সুরে তিনি বলেন, বহু টাকা খরচ করে এবার চাষ করেছিলাম। নদীভাঙনের ফলে সব শেষ হয়ে গেল। এখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পথে বসার উপক্রম। আমবাড়ি মৌজার জনৈক সহিদার মিয়াঁর প্রায় দশ বিঘা জমি নদী গ্রাস করেছে। তিনি বলেন, নদী সংলগ্ন জমিতে কলা চাষ করে সংসার চালাই। কিন্তু আর সে উপায় থাকল না। প্রশাসন পাশে না দাঁড়ালে আমাদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

আমবাড়ি মৌজার সলেমন মিয়াঁ, বাচ্চু মিয়াঁ, কুনিডাঙ্গা মৌজার নারায়ণ দাস, ফজরুল মিয়াঁ, আমিনুর মিয়াঁ প্রমুখ নদীভাঙনের ফলে তাঁদের ক্ষতির কথা জানান। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী, ব্লক প্রশাসন ও সেচ দপ্তরের আধিকারিক ভাঙনকবলিত এই এলাকা পরিদর্শন করেন। কিন্তু তারপরও ভাঙন রোধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। সাময়িকভাবে বাঁশের খাঁচা দিয়ে ও পরবর্তীতে তারজালি ও বোল্ডারের পাড়বাঁধ তৈরি করে নদীভাঙন রোধের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ডাউয়াগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বুকু কার্জি বলেন, নদীভাঙনের ফলে কৃষিভিত্তিক ওই এলাকাগুলির বাসিন্দারা সংকটে পড়েছেন। ওখানে পাড়বাঁধ তৈরির জন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী ও সেচ দপ্তরে আবেদন জানিয়েছি। দ্রুত পাড়বাঁধের কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি। সেচ দপ্তরের কোচবিহার ডিভিশনের এক আধিকারিক বলেন, এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ওখানে পাড়বাঁধের প্রকল্প তৈরি করে আমরা উপরমহলে পাঠাব। প্রকল্প মঞ্জুর হলেই কাজ শুরু হবে।