বান্দাপানি চা বাগান এলাকার নদীগুলিতে বর্ষাকাল ছাড়া জল মেলে না

229

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, বীরপাড়া: দেশের নদীতে জল নেই। তাই প্রতিমা নিরঞ্জন করতে বিদেশে যেতে হয় আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়া থানার অন্তর্গত বান্দাপানি চা বাগানে দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তাদের।

ওই চা বাগানে পুজোর উদ্যোক্তারা প্রতি বছর প্রতিমা নিরঞ্জন করতে ভুটানের ধূমচিখোলা নদীতে যান। এবছরও একইভাবে ভুটানে গিয়ে তাঁরা প্রতিমা নিরঞ্জন করবেন বলে চা বাগানের পুজোর উদ্যোক্তারা জানান। বান্দাপানি চা বাগানে এবার দুটি পুজো হচ্ছে। একটি বাসা লাইনে, অপরটি নেপালি লাইনে।

- Advertisement -

পুজোর উদ্যোক্তারা জানান, অল্প বাজেটের মধ্যে প্রতি বছর তাঁদের পুজো করতে হয়। কারণ চা বাগানটি বছরের পর বছর ধরে বন্ধ থাকায় এলাকার বাসিন্দারা আর্থিক সংকটে ভোগেন সারাবছরই। তবে চলতি বছর পুজো বাবদ রাজ্য সরকারের তরফে পঞ্চাশ হাজার টাকা পেয়ে তাঁদের সমস্যা অনেকটাই মিটে গিয়েছে। কিন্তু প্রাকৃতিক সমস্যার জন্য এবছরও তাঁদের প্রতিমা নিরঞ্জন করতে হবে ভুটানে গিয়ে। ভুটান সীমান্তবর্তী বান্দাপানি চা বাগানে ও চা বাগান ঘেঁষা এলাকায় একাধিক নদী রয়েছে। কিন্তু বর্ষাকাল ছাড়া জল মেলে না চারো, পাগলি, ডিমডিমা, রেতি নদীতে। কেবলমাত্র বর্ষাকালে ভুটান পাহাড় থেকে ওই নদীগুলি বেয়ে জল নেমে আসে। তবে অন্য মরশুমে শুকনোই পড়ে থাকে নদীর খাত। বাসা লাইনের পুজোর উদ্যোক্তাদের মধ্যে সঞ্জয় সুরি বলেন, ‘আমাদের এলাকায় নদীতে জল মেলে না। তাই প্রতিমা নিরঞ্জন করতে সাত আট কিলোমিটার দূরে ভুটানে যেতে হয়।’

প্রসঙ্গত, বান্দাপানি চা বাগানের বাসিন্দাদের অনেকেই শুখা মরশুমে পানীয় জল সংগ্রহ করতে, কাপড়চোপড় এমনকি স্নান করতেও ভুটানের ধূমচিখোলায় যান। ভারত ও ভুটানের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় বান্দাপানি এলাকায় ভারত ভুটান সীমান্তে এসএসবি নজরদারি চালালেও অত কড়াকড়ি নেই। ফলে বিনা বাধায় পানীয় জল সংগ্রহে, স্নান করতে এমনকি প্রতিমা নিরঞ্জন করতেও ভুটানে ঢুকে পড়েন বান্দাপানি চা বাগানের বাসিন্দারা। বান্দাপানি চা বাগানে পুজোর আয়োজকদের মধ্যে সূরজ গোপ, অজয় সুরি প্রমুখ জানান, দেশের মধ্যেই প্রতিমা নিরঞ্জন করতে হলে তাদের যেতে হবে ২০ কিলোমিটার দূরে গয়েরকাটায়। কিন্তু তাতে ঝক্কি বেশি। গাড়িভাড়াও বেশি। তাই ভুটানের ধূমচিখোলা নদীই তাঁদের ভরসা।