জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি, ১৩ মে : যানজট এড়িয়ে জলপাইগুড়ি শহরে ঢুকতে বিকল্প রাস্তা তৈরির জন্য আর্থিক বরাদ্দ হলেও কাজের ঢিলেমিতে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। সেচ দপ্তর বালাপাড়া থেকে জুবিলি পার্ক পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করেও বর্তমানে বন্ধ রাখায় প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা সমস্যায় পড়েছেন। রাস্তা তৈরির কাজ কবে শেষ হবে বলে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। সেচ দপ্তরের জলপাইগুড়ির সহকারী ইঞ্জিনিয়ার শান্তনু ধর বলেন, বিকল্প রাস্তাটি তৈরিতে সাত কোটি টাকার আর্থিক সংস্থান হযেয়েছে টাকা পাওয়ার পর রাস্তার কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। রাস্তাটি বর্তমানে কাঁচা অবস্থায় রয়েছে। পরবর্তীতে এটিকে পাকা করা হবে। পুজোর পর এই কাজে পুরোপুরিভাবে হাত দেওয়া হবে বলে শান্তনুবাবু জানান।

তিস্তা সড়কসেতু থেকে পাহাড়পুর পর্যন্ত রাস্তায় প্রায়ই ব্যাপক যানজট হয়। নাগরাকাটা, ধূপগুড়ি, বানারহাট, বীরপাড়া, মাল সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে জলপাইগুড়িমুখী দূরপাল্লার বাসগুলি সংকীর্ণ রাস্তায় আটকে পড়ে। এতে যাত্রীদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ জন্য বালাপাড়া থেকে বিকল্প রুটে বিভিন্ন যানবাহন যাতে জলপাইগুড়ি শহরে ঢুকতে পারে সেজন্য দীর্ঘ এক দশক ধরে দাবি রয়েছে। সমস্যা মেটাতে জলপাইগুড়ি পুরসভা তৎপর হয। রাস্তাটি তৈরিতে আর্থিক সংস্থানের জন্য পুরপ্রধান মোহন বসু বারবার উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের কাছে দাবি জানান। এ নিয়ে পরবর্তীতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর ও সেচ দপ্তরের মধ্যে আলোচনা হয়। রুট হিসেবে বালাপাড়া থেকে জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের দপ্তর সংলগ্ন জুবিলি পার্ক পর্যন্ত এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়। রাস্তাটি পাঁচ কিলোমিটারের করা হবে বলে সেচ দপ্তর সিদ্ধান্ত নেয়। প্রকল্পটি রূপায়ণে আর্থিক সংস্থান সেচ দপ্তরই করবে বলে ঠিক করে। পাশাপাশি, তারাই এই রাস্তাটি তৈরি করবে বলেও সিদ্ধান্ত নেয়। প্রস্তাবিত বিকল্প রাস্তা তৈরিতে সেচ দপ্তরের জলপাইগুড়ির কার্যালয় থেকে সাত কোটি টাকার একটি প্রকল্প সেচ ভবনে পাঠানো হয়। সেখান থেকে সবুজ সংকেত মেলার পর গত বছরের জানুয়ারি মাসে বালাপাড়া থেকে জুবিলি পার্ক পর্যন্ত তিস্তা বাঁধের উপর দিয়ে এই রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কাজ সেভাবে কিছুই হয়নি। পরিণতিতে যানজটে আক্রান্ত বাসিন্দাদের ভোগান্তি কমছে না। সেচ দপ্তর জানিয়েছে, বর্ষার আগে এই রাস্তা তৈরির কাজ কোনোভাবেই শেষ করা যাবে না। পুজোর পর বিকল্প এই রাস্তাটি পাকা করার কাজে হাত দেওয়া হবে।

সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তাটি তৈরি হলে ডুয়ার্সের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সহজেই জলপাইগুড়ি শহরে জেলাশাসকের দপ্তরে পৌঁছানো যাবে। বর্তমানে পাহাড়পুর রুট দিয়ে আসা গাড়িগুলি পূর্ত দপ্তরের মোড়ে থামে। সেখান থেকে টোটোয় চেপে জেলাশাসকের দপ্তরে পৌঁছাতে হয়। বিকল্প রাস্তাটি তৈরি হলে বাসগুলি জেলাশাসকের দপ্তর লাগোয়া জুবিলি পার্কে এসে দাঁড়াবে। যাতায়াতে কাউকে টোটো ভাড়া করতে হবে না। কিন্তু রাস্তাটি তৈরির কাজ সেভাবে না এগোনোয় ক্ষোভ বাড়ছে। জলপাইগুড়ি পুরসভার সিপিএম কাউন্সিলার প্রদীপ দে বলেন, বাসিন্দাদের ভোগান্তি না কমলেও সমস্যা মেটাতে প্রশাসনিক আধিকারিকদের কোনো হেলদোলই নেই। জলপাইগুড়ি পুরসভার পূর্ত বিভাগের দাযিত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল সন্দীপ মাহাতো বলেন, সবার সমস্যা মেটাতে রাস্তা তৈরির কাজটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষ করতে হবে।