প্রেমেরডাঙায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে বালি মাফিয়ারা

জাকির হোসেন, ফেশ্যাবাড়ি : বর্ষার শেষে নদীর জলস্তর নামতেই নদীগর্ভ থেকে অবাধে বালি তোলা হচ্ছে। মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের প্রেমেরডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের ছোট-বড় নদীতে বালি তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। ফলে একদিকে যেমন নদীর পাড়ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে, তেমনই সরকারের মোটা টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। কয়েকটি জায়গায় সেতুর নীচ থেকে বালি তোলা হচ্ছে। তার ফলে সেতুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অবিলম্বে এই নিয়ে প্রশাসনের নজরদারির দাবি জানানো হয়েছে।

ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকার অনুমোদিত বালির বেড ছাড়া অন্য কোনও জায়গা থেকে বালি তোলা সম্পূর্ণ বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নদী থেকে বেআইনিভাবে বালি তুলে অন্যত্র বিক্রি করার একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। নদীর জলস্তর নামতেই শালটিয়া, ভেরভেরির তোর্ষা নদী থেকে বেআইনিভাবে বালি তোলা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন ধরে এই কারবার চললেও এ ব্যাপারে তাঁদের কিছুই জানা নেই বলে প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন। ফেশ্যাবাড়ি সংলগ্ন শালটিয়া (নর্দমা) নদীর সেতুর নীচ থেকে বালি তোলা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গতবছর এই জায়গা থেকে অবৈধভাবে বালি তোলার অভিযোগ ওঠে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তা নিয়ে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, প্রতি বছর শুখা মরশুমে শালটিয়া নদী থেকে বালি তোলা হয়। ফলে সেতুর ক্ষতির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি মোটা অঙ্কের রাজস্বের ঘাটতি হচ্ছে।

- Advertisement -

মাথাভাঙ্গা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সওকত আলি বলেন, বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব। একইভাবে প্রেমেরডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে ভেরভেরি নদী থেকে ভরা বর্ষায় পাম্পের মাধ্যমে বালি তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। জলস্তর নামতেই সেখান থেকে বালি তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক নেতার মদত থাকায় কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। প্রেমেরডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কল্পনা বর্মন বলেন, অবৈধভাবে বালি তোলা কোনওভাবেই সমর্থন করা যায় না। এই নিয়ে প্রশাসনকে আরও কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। তার জন্য আমরা প্রশাসনকে সমস্তরকম সহযোগিতা করতে রাজি আছি।