প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি, রায়গঞ্জে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে বালি মাফিয়া

69

রায়গঞ্জ: প্রশাসনের চোখের সামনে দিয়ে কুলিক নদীর বুক থেকে বালি পাচারের ঘটনা রায়গঞ্জ শহরের নতুন কিছু নয়। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সুযোগ নিয়ে রীতিমতো দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে বালি মাফিয়ারা। শুধুমাত্র কুলিক নদী থেকে বালি তুলে পাচারই নয় নিজেদের সুবিধার জন্য রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে নদীবক্ষে। যা নিয়ে আতঙ্কিত পরিবেশপ্রেমীরা। এমনই ভয়াবহ ঘটনা উঠে আসছে রায়গঞ্জ শহরের শক্তিনগর এলাকার লোহা কালীবাড়ি এলাকায়।

শুক্রবার সকালেও দেখা গেল সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে রাস্তা। একের পর এক ট্রাক্টর এসে বালি ভরাট করে পুলিশ প্রশাসনের চোখের সামনে দিয়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দেরত অভিযোগ, গভীর রাত পর্যন্ত ট্রাক্টরের আনাগোনা হয়। পরিবেশবিদ মিঠু মল্লিকের কথায় বিষয়টি সম্পূর্ণ সংবিধান বিরোধী। ১৯৫৬ সালে সংবিধানের ২৬২ ধারায় এই আইন চালু হয়। হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে এই সমস্ত কাজ করছে বালি মাফিয়ারা। যদি নদীর গতিপথে বাধা সৃষ্টি করে বা গতিপথ পরিবর্তনের কোনও সম্ভাবনা তৈরি করে এমন কোনও ঘটনা ঘটলে তা সংবিধানকে অবমাননা করা এবং আইনত দণ্ডনীয়।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ পৌরসভার উপ পৌরপ্রতি বলেন, ‘এমন ঘটনা আমরা ভূমি সংস্কার দপ্তর ও সেচ দপ্তরকে জানিয়েছি।‘ এই প্রসঙ্গে নদী বিশেষজ্ঞ সঞ্জিত গোস্বামী বলেন, ‘স্মল মাইনিং প্রজেক্টে সরকারি অনুমতি নিয়ে এবং বিভিন্ন রাজস্ব জমা দিয়ে নিয়ম মেনে বালি তোলা যায়। কিন্তু নদীর প্রবাহ পথে কোন মতেই বাধা সৃষ্টি করা যায় না। করা হলে তা সম্পূর্ণ বেআইনি। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে জল যেমন নষ্ট হবে তেমন ভাঙ্গনের প্রবণতা আরও বাড়বে।‘

উত্তর দিনাজপুর নাগরিক কমিটির সম্পাদক তপন চৌধুরী বলেন, ‘যেভাবে কুলিক নদীর মাটি এবং বালি পাচার হচ্ছে। রায়গঞ্জ শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের পুকুর ও জাতীয় সড়কের ধারে একের পর এক জলাশয় ভরাট হচ্ছে তা নিয়ে একাধিকবার ভূমি সংস্কার দপ্তর জেলা প্রশাসন সেচ দপ্তরকে জানানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সেই কারণে সম্প্রতি আমরা আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছি।‘