তিস্তার জলে চিনের ছায়া, উদ্বেগে ভারত

- Advertisement -

তিস্তা নিয়ে দুদেশের প্রথম চুক্তি হয়েছিল ১৯৮৩তে। সমঝোতা অনুযায়ী তিস্তার ৩৯ শতাংশ জল পেত ভারত, ৩৬ শতাংশ বাংলাদেশ। বাকি ২৫ শতাংশ নদীর নাব্যতা ধরে রাখতে কাজে লাগানো হত। নানা কারণে সেই চুক্তি ফলপ্রসূ হয়নি। ১৯৮৬তে দুদেশের যৌথ বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকেও মীমাংসা হয়নি। লিখেছেন অদ্রি গড়াই।

গঙ্গার পর তিস্তা। নদীর জলবণ্টনকে কেন্দ্র করে ফের টানাপোড়েনের ছায়া ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। নদীর জলের ভাগাভাগি নিয়ে এই দুদেশের মতবিরোধের সুযোগ নিয়ে চিনের ঢুকে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তিস্তার নদীখাত সংস্কারে চিনের আর্থিক ও কারিগরি সাহায্যের প্রস্তাব নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। যে আলোচনায় ভারতের উদ্বেগ আর বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটছে। বাস্তবে তিস্তা পুনরুজ্জীবন প্রকল্পে চিনের বিনিয়োগ এখনও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে বললেও বোধহয় বেশি বলা হবে।

তবে এনিয়ে ভারতের উদ্বেগ একেবারে অসংগত নয়। যদিও দুদেশের সম্পর্কের উন্নতি বা অবনতি কোনও একটি বা ২টি বিষয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় না। কিন্তু রাজনীতি ও কূটনীতি, সবসময় সম্ভাবনার খেলা। একে গতে বাঁধা তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক সময় বিশেষ ইস্যুকে কেন্দ্র করে এগোয়। যার ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহু ইতিবাচক দিক অকার্যকর এবং অপরীক্ষিত থেকে যায়। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে যেমন কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মে মদত দেওয়া, নেপালের ক্ষেত্রে আবার সম্পূর্ণ অসংগত কারণে ভারতীয় ভূখণ্ড দাবি করা বা শ্রীলঙ্কায় তামিল জাতীয়তাবাদী আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি ভারতের সঙ্গে এই দেশগুলির সম্পর্ককে বারবার প্রভাবিত করেছে। সময়ে সঙ্গে এর কয়েকটি ফিকে হয়ে গিয়েছে। কোনও কোনও বিষয় আবার আগের চেয়ে জটিল হয়েছে। তিস্তাকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ককে সেই প্রেক্ষাপটে বিচার করতে হবে।

জন্মলগ্ন থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক বাস্তব। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনার ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তৎকালীন ইন্দিরা গান্ধি সরকারের সক্রিয়তাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। ১৯৪৭-এর দেশভাগের আগে-পরে পূর্ববঙ্গ থেকে আসা উদ্বাস্তুদের যে স্রোত ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গকে সামাল দিতে হয়েছে, বিশ্বের ইতিহাসে তার নজির খুব কম আছে। বর্তমান প্রজন্মের অন্তরে সেসব এখন অতীত। ঠিক যেমন মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অংশগ্রহণ, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে দিল্লির ভূমিকা, শরণার্থী স্রোত সামাল দেওয়া, ১৯৯৬-এর গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি, তিনবিঘা করিডর চুক্তি, বাণিজ্য চুক্তি, ছিটমহল বিনিময় তথা স্থলসীমান্ত চুক্তি, বিদ্যুৎ রপ্তানি ইত্যাদি সুসম্পর্কের তালিকাটা অনায়াসে আরও লম্বা করা যায়। বিনিময়ে ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকাকে ভোলা যাবে না। স্থলপথ ও জলপথ ব্যবহার সংক্রান্ত চুক্তিগুলি দুদেশের পারস্পরিক বিশ্বাস ও নির্ভরশীলতার প্রতীক। দেশের বাইরে ভারতের ৩০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের এক-তৃতীয়াংশই বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। এর উল্লেখ অধিকাংশ আলোচনায় চোখে পড়ে না। বলা হয় না যে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য সহযোগী তথা রপ্তানিকারক (বাণিজ্য ঘাটতি সত্ত্বেও) হল বাংলাদেশ।

চিকিৎসা, ব্যবসা ও ভ্রমণের জন্য প্রতিবছর বাংলাদেশকে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ ভিসা দেয় ভারত। বাহুবলী মুক্তি পাওয়ার পর কয়েকজন বাংলাদেশি চার্টার্ড বিমানে কলকাতায় ছবিটি দেখতে এসেছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাদে বিশ্বে কোথাও এত ব্যাপক মাত্রায় এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াতের নজির নেই। যদিও এসব নিয়ে আলোচনা হয় না বললেই চলে। হলেও তা শুধু উল্লেখের স্তরে সীমাবদ্ধ থাকে। আর সব আলোচনা শেষ হয় তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি না হওয়ার কথা জানিয়ে। বিষয়কেন্দ্রিক মতপার্থক্যগুলি এমনভাবে তুলে ধরা হয় যেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উৎস-ইতি সব ২-৩টি বিষয়ে মধ্যে সীমাবদ্ধ। আবার তিস্তা নিয়ে আলোচনায় ফেরা যাক। তিস্তা নদীর ৪১৪ কিলোমিটার গতিপথের বড় অংশই ভারতের মধ্যে পড়ে। বাকিটা বাংলাদেশে। এদেশে তিস্তা অববাহিকার মোট আয়তন ৯,৮৫৫ বর্গ কিলোমিটার। বাংলাদেশের অংশ ধরলে সাড়ে ১২ হাজার বর্গ কিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত। উত্তরবঙ্গের কালিম্পং, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলা ছুঁয়ে বাংলাদেশের নীলফামারি জেলার কালীগঞ্জে প্রবেশ করেছে তিস্তা। আরও এগিয়ে নদীটি চিলমারির কাছে ব্রহ্মপুত্রে মিশেছে। তিস্তার জলের ওপর নির্ভরশীল ভারতের উত্তরবঙ্গ, সিকিমের বড় অংশ এবং বাংলাদেশের ৫ জেলা নীলফামারি, রংপুর, লালমণিরহাট, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম।

তিস্তা নিয়ে দুদেশের প্রথম চুক্তি হয়েছিল ১৯৮৩-তে। সমঝোতা অনুয়াযী, তিস্তার ৩৯ শতাংশ জল পেত ভারত, ৩৬ শতাংশ বাংলাদেশ। বাকি ২৫ শতাংশ জল নদীর নাব্যতা ধরে রাখতে কাজে লাগানো হত। নানা কারণে সেই চুক্তি ফলপ্রসূ হয়নি। ১৯৮৬-তে ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট কমিটি অফ এক্সপার্টের বৈঠকেও জল ভাগাভাগির মীমাংসা হয়নি। ২০১১, ২০১৫, ২০১৯ সালে এনিয়ে পরপর পদক্ষেপ করা হলেও জট কাটেনি। তিস্তার জলবণ্টন নিয়ে মতভেদের অন্যতম কারণ নদীতে জলের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং দুই দেশের তিস্তা অববাহিকা এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির দরুন জলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া। শুধু ভারত ও বাংলাদেশ নয়, তিস্তার জল নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-সিকিমের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। বর্ষার সময় তিস্তায় জলের প্রবাহ নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ, কোনও তরফেই প্রশ্ন ওঠে না। বরং তখন অতিরিক্ত জল ছাড়া নিয়ে চাপানউতোর চলে। প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে উত্তরবঙ্গে তিস্তায় জলের নাব্যতা বিপুলভাবে কমে যায়। ওই সময় বাংলাদেশের অংশে জলের পরিমাণ তলানিতে ঠেকে। তখনই তিস্তায় জল থাকা না থাকার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ, দুদিকেই জলসংকট তিস্তা চুক্তির জট কাটানোর পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রতিবন্ধকতার সুযোগে আসরে আসছে চিন।

তিস্তায় জল কমে যাওয়ায় সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশে জলসঞ্চয় ও তার ব্যবহারযোগ্যতা বৃদ্ধির আলোচনা চলছে। গত বছর জুলাইয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন সফরের সময় থেকে তিস্তা নদী পুনরুজ্জীবন প্রকল্প গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে। প্রকল্পটির পোশাকি নাম তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রোজেক্ট। প্রকল্পের প্রাথমিক খরচ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। তিস্তা সংস্কারের রূপরেখা চূড়ান্ত না হলেও বিভিন্ন সূত্রে প্রকল্প সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে তিস্তায় জলের পরিমাণ বাড়ানো, নদীখাতের নাব্যতা বৃদ্ধি, বাঁধ নির্মাণ, পাড়ের ভাঙন রোধের মতো বিষয়গুলি আছে। বিশ্বের সর্বত্রই অবশ্য এই বিষয়গুলি নদী পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর ফলে একদিকে যেমন জলের সীমিত সরবরাহকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, তেমনই বন্যা ঠেকানো ও ভাঙন এলাকায় হারিয়ে যাওয়া জমি পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়। বাংলাদেশের এই বিরাট প্রকল্পে চিন বিনিযোগ করতে উত্সাহী হওয়ায় ভারতের অস্বস্তি বেড়েছে। বিগত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চিনের প্রভাব বাড়ছে। বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশের বেশি রপ্তানি দ্রব্যকে শুল্কমুক্ত পণ্যের তালিকায় রেখেছে চিন। চিনের সঙ্গে সে দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণও ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের চেয়ে বেশি। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে তিস্তা প্রকল্পে চিনের বিনিযোগ নিয়ে নয়াদিল্লির মাথাব্যথায় অসংগতি কিছু নেই।

যদিও ভারত সরকারের কোনও স্তর থেকে এখনও পর‌্যন্ত এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। শেখ হাসিনার সরকারও এ ব্যাপারে সতর্ক। বাংলাদেশের অতিসতর্কতার একটি কারণ যেমন ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, তেমনই চিনের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে হাসিনা সরকারের অন্দরে প্রশ্ন থাকা। তিস্তা প্রকল্পে বিনিয়োগের টাকা ঋণ হিসাবে দেওয়ার শর্ত দিয়েছে চিন। পরবর্তীকালে সুদে-আসলে সেই টাকা বাংলাদেশকে শোধ করতে হবে। ঋণশোধের শর্ত কী বা টাকা শোধ করতে না পারলে কী হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিরও চিনা বিনিয়োগের অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর নয়। চিনের টাকায় পরিকাঠামো তৈরি করে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপের মতো দেশকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। ধারশোধ করতে না পারায় শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দর আগেই চিনের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে। পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দরের একই পরিণতি হয়েছে। অর্থনৈতিক করিডর তৈরি নিয়ে পাকিস্তানে বিতর্ক হলেও আর্থিক ও সামরিক সীমাবদ্ধতা তাদের চিনের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনকে বাধ্যবাধকতার জায়গায় নিয়ে গিয়েছে। একইভাবে নেপালের ওলি সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে ভারত বিরোধিতার জিগির তুলেছে। বাংলাদেশের সে ধরনের কোনও বাধ্যবাধকতা বা সীমাবদ্ধতা নেই। আর্থিক দিক দিয়ে পাকিস্তান বা নেপালের চেয়ে বাংলাদেশের সামর্থ্য অনেক বেশি। সেই কারণে তিস্তা চুক্তি নিয়ে দরকষাকষির সুযোগ হাসিনা সরকারের রয়েছে। তবে ভারতের উদ্বেগ অবশ্যই তিস্তা প্রকল্পে চিনা বিনিযোগ নিয়ে।

অনেক সময় ভারতের সঙ্গে জলচুক্তি নিয়ে অচলাবস্থা ও বাংলাদেশে তিস্তা পুনরুজ্জীবন প্রকল্পকে এক বন্ধনীতে ফেলা হয়। যদিও দুটি বিষয়কে এক করে দেখা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টা আদৌ সরল নয়। ভারতের সঙ্গে জলবণ্টন চুক্তি না করে তিস্তা সংস্কারে বিরাট লগ্নির ঝুঁকি বাংলাদেশ সরকার আদৌ নেবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এই মুহূর্তে পাওয়া কঠিন। তেমনই ভারত তিস্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে চিনের বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশকে নিজের উদ্বেগ জানাবে। এই ধরনের প্রকল্প নিয়ে উৎসাহ দেখানো দীর্ঘদিন ধরে চিনের বিদেশনীতির অঙ্গ। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক সম্পর্কে অস্তিরতা তৈরি করে বেজিং। নেপাল, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েনে চিনের যে ছায়া আছে, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। একইভাবে দক্ষিণ আমেরিকায় চিনের বিনিয়োগ ওই অঞ্চলের দেশগুলির সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের অবনতির জন্য দায়ী। বাংলাদেশের সঙ্গে চিনের সম্পর্ক বহুস্তরীয়। ১৯৪৭-এ তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান হিসাবে আত্মপ্রকাশের সময় থেকে এই ঘনিষ্ঠতার সূত্রপাত। ওই সময়ও পাক সেনার সিংহভাগ অস্ত্রশস্ত্র চিন থেকে আসত। স্বাধীন বাংলাদেশ সেই ধারা বহন করছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা সহযোগী চিন। দুদেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানির অঙ্কও ভারত-বাংলাদেশে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের চেয়ে ঢের বেশি। বাংলাদেশের কোনও সরকারের পক্ষে অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষায় চিনের গুরুত্বকে অস্বীকার করা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে তিস্তা পুনরুজ্জীবন প্রকল্পে চিনা বিনিয়োগের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে যাতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি না হয়, সেই দায়িত্ব দুপক্ষকেই নিতে হবে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে ভারত বিরোধী প্রচার তীব্র হয়েছে। মৌলবাদীরা এই ইস্যুতে হাসিনা সরকারের ওপর চাপ তৈরি করছে। নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি ইত্যাদি অতিঅবশ্য ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার হলেও তা নিয়ে বন্ধু প্রতিবেশীর অস্বস্তি কাটানোও কিন্তু ভারতীয় বিদেশনীতির অঙ্গ হওয়া উচিত। কয়েক বছর আগে নেপালে মদেশীয় আন্দোলনের দায় ভারতের ওপর চাপিয়ে নেপালি কংগ্রেসকে কোণঠাসা করেছিল সে দেশের বিরোধী দলগুলি। সেই পটপরিবর্তনের পর জল কতটা গড়িয়েছে, তা কারও অজানা নয়। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীদের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হলে ওইসব দেশের প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলির সম্ভাব্য সক্রিয়তাকেও নজরে রাখা জরুরি। তিস্তার জল বণ্টন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা সেখানেই। তিস্তায় পর্যাপ্ত জলের অভাব নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে কীভাবে বাংলাদেশের জলের প্রয়োজনীয়তা মেটানো যায়, পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির সাহায্যে সেই জট কাটানো জরুরি। কারণ, এর ওপরেই ভারতীয় বিদেশনীতির শ্যাম ও কুল, দুই-ই বজায় রাখার সাফল্য নির্ভর করছে।

- Advertisement -