জামালদহে উদ্ধার হওয়া রৌপ্য মুদ্রাগুলি রাজ আমলের

রামকৃষ্ণ বর্মন, জামালদহ: শুক্রবার সুটুঙ্গা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া ধাতব বস্তুগুলি আসলে কোচবিহারের রাজ আমলে ব্যবহৃত মুদ্রা। রুপোর তৈরি এই মুদ্রাগুলি মহারাজা প্রাণনারায়ণ (১৬২৬-১৬৬৫)-এর আমলের বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ৪০০ বছরের পুরানো দুষ্প্রাপ্য এই মুদ্রা উদ্ধারের ঘটনায় কোচবিহার জেলায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল।

প্রখ্যাত মুদ্রা সংগ্রাহক নব্যেন্দু ভদ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন মুদ্রা নিয়ে চর্চাও  করেন। তিনি জানিয়েছেন, জামালদহে সুটুঙ্গা নদী থেকে বেশ কিছু মুদ্রা উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি কোচবিহারের রাজ আমলে ব্যবহৃত হত। এই নারায়ণী মুদ্রাগুলি খাঁটি রুপোর তৈরি। কোচবিহার ছাড়াও অসম, মণিপুর সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন স্থানে এই মুদ্রার চল ছিল। প্রতিটি মুদ্রার ওজন সাড়ে চার গ্রাম থেকে সাড়ে পাঁচ গ্রাম। পঞ্চাশ পয়সার এই ধরণের মুদ্রাকে ‘অর্ধ টঙ্কা’ বলা হয়।

- Advertisement -

কোচবিহার হেরিটেজ সোসাইটির সম্পাদক অরূপজ্যোতি মজুমদার বলেন, প্রাচীন এই মুদ্রাগুলি কোচবিহারের নিজস্ব সম্পদ। সেজন্য এগুলি যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করা উচিত। মুদ্রাগুলি সযত্নে সংরক্ষণের উপযুক্ত স্থান হল কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ির জাদুঘর। এতে জাদুঘরের কয়েন গ্যালারি আরও সমৃদ্ধ হবে বলে জানান তিনি।

শুক্রবার মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহ ও উছলপুকুরি এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত সুটুঙ্গা নদী থেকে অজস্র নারায়ণী মুদ্রা পাওয়া যায়। তবে সেই মুদ্রাগুলির বেশিরভাগই লুঠ হয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ নদীর তীরে পৌঁছে মাত্র ২৫টি মুদ্রা উদ্ধার করে নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছে। কিন্তু সিংহভাগ মুদ্রারই কোনও হদিস মেলেনি। পুলিশ সেগুলি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

ওইদিন সুটুঙ্গা নদীতে স্থানীয় এক ব্যক্তি পাথর তুলতে যান। পাথর তোলার সময় চালুনিতে বালি-পাথরের সঙ্গে বেশ কিছু মুদ্রা জল থেকে উঠে আসে। তিনিই প্রথম মুদ্রার সন্ধান পান। একথা ছড়িয়ে পড়তেই অনেকেই মুদ্রার খোঁজে নদীতে নেমে পড়েন। জলে নেমে অনেকেই মুদ্রার খোঁজ পান এবং তা নিয়ে বাড়ি চলে যান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর আগেও নানা স্থান থেকে রাজ আমলের প্রাচীন মুদ্রা পাওয়া গিয়েছে। তবে তা মাটির নিচ থেকে পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু নদী থেকে নারায়ণী মুদ্রা উদ্ধার হওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক অতীতে ঘটেনি। অনেকেরই অনুমান, অতীত হয়তো কোনও নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছিল। সেসময়ই পাত্র ভর্তি মুদ্রা জলে হারিয়ে যেতে পারে। তারই হদিস বর্তমানে মিলেছে।