শাশুড়িকে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার জামাই ও তাঁর দুই বন্ধু

128
ছবি: প্রতীকী

বর্ধমান: বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে শাশুড়িকে নদীর চরে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল জামাইয়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা চাউর হতেই বুধবার সকাল থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রাম সংলগ্ন ভাতকুণ্ডা এলাকায়। নির্যাতিতা তাঁর জামাই সহ তিনজনের বিরুদ্ধে গণধর্ষন ও মারধোরের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আউশগ্রাম থানার পুলিশ তিনজনকেই গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন নির্যাতিতা ও তাঁর প্রতিবেশীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম সজল বাউড়ি, বাবু বাগদি এবং গৌড় বাউড়ি। তিনজনেরই বাড়ি আউশগ্রামের আদুরিয়া গ্রামে। ধৃতদের মধ্যে সজল বাউড়ি নির্যাতিতার জামাই। নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ ধৃতদের বুধবার বর্ধমান আদালতে পেশ করে। ধৃতদের হেপাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। বিচারক তিন ধৃতকেই ৪ দিনের পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা একজন বিধবা। তিনি দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁর তিনি মেয়ে ও এক ছেলে বিবাহিত। রক্ষাকালি পুজো দেখতে যাওয়ার জন্য আত্মীয়ের নিমন্ত্রণ পেয়ে গত সোমবার ওই মহিলা ভাতকুণ্ডার নিকটস্থ পরিষা গ্রামে গিয়েছিলেন। ওই দিন রাত প্রায় ১০টা নাগাদ মহিলা তাঁর আত্মীয়দের সঙ্গে মেলায় ঘুরছিলেন। তখনই সেখানে মহিলার সঙ্গে দেখা হয়ে যায় তাঁর ছোট জামাই সজলের। নাতনির শরীর খারাপ হওয়ার কথা মেলাতেই জামাই তাঁর শাশুড়িকে জানায়। তা শুনে মহিলা নাতনিকে দেখতে যাওয়ার জন্য জামাইয়ের মোটর বাইকে চাপেন। জামাইয়ের অপর এক বন্ধু বাবু বাগদি অন্য বাইকে চাপে।

- Advertisement -

এরপরই ভাতকুণ্ডার অদূরে কুনুর নদীর চরের কাছে পৌঁছোতেই তিনি দেখেন জামাইয়ের অপর বন্ধু গৌড় সেখানে অপেক্ষা করছে। জামাই ও তাঁর দুই বন্ধু এরপর জোর করে তাঁকে টানতে টানতে সেখানকার নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে ওই তিন জন তাঁকে পরপর ধর্ষণ করে। এরপর মহিলাকে ওই নির্যন জায়গায় ফেলে রেখে যুবকরা পালায় বলে অভিযোগ। কোনওরকমে মহিলা সেখান থেকে আত্মীয়র বাড়িতে ফিরে জামাই ও তাঁর বন্ধুদের কুকীর্তির কথা জানায়। পরে মঙ্গলবার নির্যাতিতা তাঁর জামাই সহ তিনজনের বিরুদ্ধে আউশগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ওই রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।