উহান-সংক্রমণের উৎস চিনের তামার খনি,দাবি পুনের দম্পতির

260

মুম্বই : করোনার উৎস সন্ধানকে কেন্দ্র করে আমেরিকা-চিন দ্বৈরথ প্রকাশ্যে। উহানের গবেষণাগার থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আমেরিকার শীর্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউচি। চিন অবশ্য প্রাকৃতিকভাবে সংক্রমণ ছড়ানোর দাবিতে অনড়। এমন সময় করোনার উৎস নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন পুনের গবেষক দম্পতি রাহুল বাহুলিকর এবং মোনালি রাহালকার। অ্যান্টনি ফাউচির মতো তাঁদের বক্তব্যেও চিনের কোনও ল্যাব থেকে ভাইরাসটি মানুষের দেহে প্রবেশ করে থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে করোনা ভাইরাসের মূল উৎস সম্ভবত দক্ষিণ চিনের মোজিয়াংয়ের একটি পরিত্যক্ত তামার খনি।

মোনালি বলেন, নথিপত্র থেকে আমরা সার্স কোভিড-২ গোত্রের এক সদস্য আরএটিজি১৩ ভাইরাসের কথা জানতে পারি। এই ভাইরাস বাদুড়ের শরীরে বাসা বাঁধে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে তিনি বলেন, ২০১২-তে দক্ষিণ চিনের মোজিয়াংয়ের পরিত্যক্ত তামার খনি পরিষ্কার করার কাজে ৬ জন শ্রমিক খনির ভিতরে ঢুকে ছিলেন। খনিটিতে প্রচুর বাদুড়ের মল ছিল। মোনালির বক্তব্য, বাদুড়ের শুকনো মল খুব ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়। শ্রমিকদের পায়ে চাপে তা ধুলোয় পরিণত হয়েছিল। সেই ধুলো বাতাসে মিশে যায়। সেই ৬ শ্রমিকই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। প্রত্যেকের জ্বর, কাশি, রক্ত জমাট বাঁধা, ফুসফুসে সংক্রমণের মতো উপসর্গ ছিল। পরবর্তীকালে ৩ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। বর্তমানে করোনা সংক্রামিতদের অনেকের মধ্যে একই ধরনের উপসর্গ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

- Advertisement -

ভারতীয় গবেষক দম্পতির দাবি, মোজিয়াংয়ের খনি থেকে আরএটিজি১৩ ভাইরাস সংগ্রহ করা হয়েছিল। ২০২০-তে তাঁরা এই বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। রাহুল জানিয়েছেন, সেই গবেষণাপত্রের সূত্র ধরে এক ব্যক্তি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনিও এই সংক্রান্ত কিছু তথ্য দেন। টুইটারে নেম সিকার ইউজার নেম ব্যবহারকারী ওই ব্যক্তি রাহুল-মোনালিকে জানিয়েছিলেন, মোজিয়াংয়ের খনিতে অসুস্থ শ্রমিকদের করোনা সংক্রামিতদের মতোই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রত্যেককে অ্যান্টিভাইরাল অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। সেসময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শ্রমিকদের পর্যবেক্ষণ করেছিলেন চিনের প্রথমসারির পালমোনোলজিস্ট ঝ্যাং নানশান। তিনি নিশ্চিত ছিলেন শ্রমিকরা ভাইরাল সংক্রমণের কারণে অসুস্থ হয়েছিলেন। ওই ঘটনার ৮ বছর পর উহানে করোনা সংক্রমণ শুরু হয়। ঘটনাচক্রে এই শহরেই রয়েছে চিনের অন্যতম ভাইরাস গবেষণা কেন্দ্র।