উত্তরবঙ্গ-জঙ্গলমহলে জলপ্রকল্পে অগ্রাধিকার রাজ্য সরকারের

85

দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : গত লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে বড় ধাক্কা খেয়েছিল তণমূল। এবার উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খালি হাতে ফেরায়নি। তাই সরকার গঠন করেই এই দুই এলাকার দিকে বিশেষ নজর দিলেন মমতা।

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর মমতা তাঁর নিজের হাতেই রেখেছেন। এই দপ্তরের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর এবং পূর্ত দপ্তরকে এর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নিতে মমতা নির্দেশ দিয়েছেন। এরপরই এই দুই দপ্তরের কর্তারা আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মাধ্যমেও কয়েকটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা। সেইমতো স্থানীয় বিধায়কদের কাছে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই মমতা এই দপ্তরের অফিসারদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন। তখনই সমস্ত পরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে বলেই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

- Advertisement -

নবান্ন সূত্রে খবর, সবচেয়ে বড় যে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হচ্ছে তা হল ঘরে ঘরে জল প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হবে। সরকারি সূত্রে খবর, এই প্রকল্পের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে আগেই। এবার প্রকল্প বাস্তবায়িত করার জন্য উঠেপড়ে লাগছে সরকার। এই প্রকল্পে গুরুত্ব পাচ্ছে জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গ। মূলত এই দুই এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা দীর্ঘদিনের। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর এই প্রকল্পের কাজ করবে।

পাহাড়ে জলের অভাব মেটাতে বদ্ধপরিকর রাজ্য সরকার। পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে এর আগেও সমতল থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার এই প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দপ্তরের এক কর্তা বলেন, পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সে পানীয় জলের সংকট মেটাতে দ্রুত এই প্রকল্প কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইদের পরই এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী পুলক রায় বলেন, পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে মুখ্যমন্ত্রী একটি পরিকল্পনার কথা আমাদের জানিয়েছেন। পরিকল্পনা মতো দ্রুত কাজ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

নবান্ন সূত্রে খবর, এবার প্রতিটি দপ্তরকেই বলা হয়েছে, যে কোনো বড় প্রকল্প কার্যকর করার আগে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে তা পাঠাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে অনুমোদন পাওয়া গেলে তবেই তা কার্যকর করা যাবে। অর্থাৎ মন্ত্রীদের হাতে ক্ষমতা থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত প্রকল্পের ওপর নজর রাখবেন। প্রতিটি প্রকল্পের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। একইভাবে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিও মুখ্যমন্ত্রী তৈরি করবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহেই এই কমিটি তৈরি করা হয়ে যাবে। পানীয় জলের এই প্রকল্পে মুখ্যমন্ত্রী নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। তাই এই প্রকল্প দ্রুত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

উত্তরবঙ্গে প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বেশ কয়েকটি সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ওই সেতুগুলি নিয়ে সরকার ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। স্থানীয় বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলে এই নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা রিপোর্ট বা ডিপিআর তৈরি করতে পূর্তমন্ত্রী মলয় ঘটককে মমতা নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে নির্দেশ পাওয়ার পরই পূর্ত দপ্তরের কর্তারা এই প্রকল্পগুলি তৈরি করতে শুরু করেছেন। বাজেট অধিবেশনের আগেই এই প্রকল্পগুলি তৈরি করে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ বাজেটে এই প্রকল্পগুলির জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন। পূর্তমন্ত্রী মলয় ঘটক বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা সেইমতো প্রকল্প তৈরি করছি।

মমতা নিজের হাতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর রেখে দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এবার উত্তরবঙ্গের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। সেইমতো দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে তৈরি হতে নির্দেশ দিয়েছেন। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের কী কী প্রকল্পের কাজ বকেয়া রয়েছে, তার রিপোর্ট জমা দিতে মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরের অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছেন। চালু প্রকল্পগুলিও কী অবস্থায় রয়েছে, তাও ওই অফিসারদের মমতা জানাতে বলেছেন। চলতি সপ্তাহেই মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে ওই রিপোর্ট জমা পড়বে। সাবিনা বলেন, ইদের পরই দপ্তরের অফিসারদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। মুখ্যমন্ত্রী এই দপ্তরের মাথায় রয়েছেন। তাঁর নির্দেশমতোই প্রতিটি পদক্ষেপ করা হবে।